, ১৩ জুন ২০২১; ৮:২৪ অপরাহ্ণ


ছবিতে নেতানিয়াহু, ট্রাম্প ও নাহিয়ান
  • ডক্টর জুবায়ের এহসান হক

গত ১৪ আগস্ট একটি খবরে পুরো দুনিয়াবাসী বিস্মিত, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্ব কিংবা আরো নির্দিষ্ট করে বললে তরুণ ও সচেতন মুসলমানরা হতবাক হয়েছেন। অনেকটা শাদীয়ে মোবারকের এলানের মত, তবে পাত্র-পাত্রীর পক্ষে নয়, ঘোষণাটি এসেছে উকিল ও কাজির যৌথ ভূমিকায় অবতীর্ণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ হতে। তিনি বলেছেন, আমাদের দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক ক্ষণ। এই ঘোষণার প্রক্রিয়াও ছিল ততোধিক ঐতিহাসিক। ট্রাম্প বলেছেন, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন যায়েদ, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার মাঝে ত্রিপক্ষীয় ফোনালাপের পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক ব্যাপার বটে!

পুরো দুনিয়ার মুসলমানরা মাসজিদুল আকসা, জেরুসালেম ও ফিলিস্তিন সঙ্কটকে নিজেদের ইস্যু বলে মনে করে। তাই তাদের প্রত্যাশা, ফিলিস্তিনে মুসলমানদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইস্যুকে পাশ কাটিয়ে কোন মুসলিম দেশ ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করবে না। এই প্রত্যাশাই হতাশার উৎপাদক।

কিন্তু তারা যদি জানতেন, আড়াই দশক ধরে যে সম্পর্কের চর্চা, এটি তার ঘোষণামাত্র, তাহলে তারা হয়ত এতটা বিস্মিত হতেন না। বস্তুত বিগত শতকের নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝিতে আরব আমিরাত ও ইসরাইলের মাঝে যোগাযোগ শুরু হয়। নিষিদ্ধ সম্পর্কে জড়ানোর ক্ষেত্রে যা করা হয়, আরব আমিরাতও তাই করেছে। 1994 সালে সেদেশে অ্যামিরেট সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ নামে একটি থিঙ্ক ট্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটির মাধ্যমে ইসরাইলি কূটনীতিকদের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয় আমিরাত এবং তৎকালীন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিনের সবুজ সঙ্কেত আদায় করে নেয়, যা মার্কিন ফাইটার জেট ক্রয়ে ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

পরবর্তীতে ইসরাইল-আমিরাত সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়। তবে 2018 সালে এই সম্পর্ক প্রায় প্রকাশ্যে চলে আসে। এ বছর ইসরাইলি সংস্কুতিমন্ত্রী মিরি রেগেভ আরব আমিরাত সফর করেন, এ সময় আমিরাতে ইসরাইলি জাতীয় সংগীত গীত হয়। তারপর ইসরাইলি যোগাযোগমন্ত্রী আইউব কারা (ইনি একজন দ্রুজ আরব) ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাট্জও আমিরাত সফর করেন। এ খবরও পাওয়া যায় যে, বেনয়ামিন নেতানিয়াহু গোপনে দুইবার আবুধাবি সফর করেছেন। অর্থাৎ পারস্পরিক যোগাযোগ একটি পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার পর স্বাভাবিকীকরণের ঘোষণা দেয়া হয়। এই ব্যাকগ্রাউন্ড যারা জানেন, তারা ট্রাম্পের ঘোষণায় বিস্মিত হননি।

প্রশ্ন হল আরব-আমিরাতের সাথে তো ইসরাইলের সীমানা নেই, কোনদিন আমিরাতের সাথে ইসরাইলের যুদ্ধও হয়নি। আধাগোপন প্রেম তো ভালই চলছিল, কেউ তো যেনার তোহমত দেয়নি। তবুও কেন সম্পর্কের ঘোষণা দিতে হল কেন?

উত্তরে বলা যায়, এটি সম্পর্কের প্রাকৃতিক বিবর্তন। সম্পর্কগুলো এভাবেই সৃষ্টি হয়, বিকশিত হয়, তারপর প্রকাশিত হয়। তাই এই ঘোষণাকে সর্ম্পকোন্নয়নের স্বাভাবিক বিকাশের অংশ বলে গ্রহণ করা যায়।
তবে এটি বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে, এই ঘোষণায় তিনপক্ষেরই কিছু না কিছু লাভ আছে।

আমরা জানি, আরবের রাজা ও স্বৈারাচারী শাসকরা ক্ষমতা বহাল থাকার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল, কারণ দেশের জনসমর্থনের ওপর তাদের আস্থা নেই। ওদিকে উচ্চাভিলাষী মুহাম্মদ বিন যায়েদ বা এমবিজেড তার ক্ষমতা ও প্রভাবের পরিসর অনেকটা বৃদ্ধি করেছেন। তিনি ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত। মিশরে গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মুরসিকে অপসারণে সিসিকে সমর্থন দিয়েছেন। লিবিয়ায় জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধবাজ হাফতারকে সমর্থন দিচ্ছেন। তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্রকে পঙ্গু করার জন্য অর্থ ঢালছেন। মধ্যপ্রাচ্যকে গণতন্ত্র ও ইসলামপন্থীদের প্রভাবমুক্ত করার এই যে প্রচেষ্টা, এটি কিন্তু ইসরাইলকে সুরক্ষিত করার একটি কৌশলও বটে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনসমর্থণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে অনিবার্যভাবে ইসলামি দলগুলো ক্ষমতায় আসবে এবং সেটি ইসরাইলের জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। আর তাই মধ্যপ্রাচ্যে রাজতন্ত্র বহাল থাকায় গণতন্ত্রের ঠিকাদার যুক্তরাষ্ট্রের কোন দুঃশ্চিন্তা নেই। অতি সম্প্রতি তুরস্কের সাথে আরব-আমিরাতের সম্পর্কে বিরাট ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় প্রতিটি আঞ্চলিক ইস্যুতে তুরস্ক ও আমিরাত ভিন্ন মেরুতে। এমনকি তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খুলুসি আকার ঘোষণা দিয়েছেন, আরব আমিরাত প্রতিটি পদক্ষেপে তুরস্কের ক্ষতির চেষ্টা করছে। তাই উপযুক্ত সময়ে এর জবাব দেয়া হবে। বলাবাহুল্য, সামরিক শক্তিতে আমিরাতের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়ে তুরস্ক। অতএব তুর্কি হুমকি মোকাবেলায় আমিরাতের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আর মার্কিন অস্ত্র কিনতে ইসরাইলি সবুজ সঙ্কেত অপরিহার্য।

এটা সত্য যে, আমিরাতের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিকীরণে ট্রাম্পের দূতিয়ালির ব্যাপারে মার্কিন জনগণের তেমন কোন মাথাব্যাথা নেই এবং আসন্ন নির্বাচনে এটি তেমন বড় ইস্যু হবে না। তবুও ট্রাম্পের জন্য এটি একটি অর্জন। পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে, সিটিং প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে কোন না কোন আন্তর্জাতিক সাফল্য ঝুলিতে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। 1995 সালে দ্বিতীয় বারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পূর্বে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন এক প্রকার চাপ প্রয়োগ করে বলকান অঞ্চলে বিবদমান পক্ষগুলোকে ডেটন শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছিলেন। 1978 সালে জিমি কার্টার দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের পূর্বে মিশর ও ইসরায়েলের মাঝে শান্তিচুক্তি সম্পাদনে দূতিয়ালি করেছিলেন, (যদিও কার্টার ওই নির্বাচনে হেরে গিয়েছিলেন)। তো ট্রাম্পেরও খায়েশ, তিনি আন্তর্জাতিক সাফল্য ঝুলিতে ভরে নির্বাচনে যাবেন। এটি নিয়ে ইতোমধ্যে তিনি বাইডেনকে খোঁচাও মেরেছেন।

ইসরাইল- আমিরাত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ঘোষণায় নেতানিয়াহু লাভবান হবেন, এতে কোন সন্দেহ নেই। ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নজিরবিহীন অচলাবস্থা চলছে। পরপর তিনবার নির্বাচনের পরও সরকার গঠনের মত পরিস্থিতি তৈরী হয়নি। নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যত অন্ধকারাচ্ছন্ন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিচার চলছে। অর্থনৈতিক মন্দার জন্য দেশে বিক্ষোভ হচ্ছে। এমতাবস্থায় আসন্ন চতুর্থ নির্বাচনে নেতানিয়াহু আঞ্চলিক শত্রু হ্রাস করার কৃতিত্ব নিয়েই মাঠে নামবেন। বস্তুত ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি নেতানিয়াহু যারপরনেই কৃতজ্ঞ। পূর্ববর্তী কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরাইলি আকাঙ্ক্ষা পূরণে এতটা ব্যগ্র ও নগ্ন ছিলেন না। ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলি রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন, মার্কিন দূতাবাস জেরুসালেমে স্থানান্তরিত হচ্ছে। গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলি কর্তৃত্ব মেনে নিয়েছেন। বিষয়টি যেন এমন যে, নেতানিয়াহু উচ্চারণ করতে দেরি হয়, ট্রাম্পের সে দাবি পূরণে বিলম্ব হয় না। এমন প্রেসিডেন্টকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার জন্য নেতানিয়াহু সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন, এতে কোন সন্দেহ নেই। 2016 সালের মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে অনেক জল ঘোলা করা হয়েছে। রাশিয়ার বাইরে আমিরাতের নামও এসেছে ম্যুলার রিপোর্টে। এবারও আমিরাত ডলারের থলে নিয়ে হাজির হবে মার্কিন নির্বাচনে। শুধু আমিরাত নয়, আরবের সকল রাজা ট্রাম্পকে জিতিয়ে আনার জন্য সম্ভাব্য সকল প্রচেষ্টা বিনিয়োগ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের আম পাবলিকের ভোট হয়ত টাকা দিয়ে কেনা সম্ভব হয় না; কিন্তু কোথায় টাকা ঢাললে কাজ হবে তা তারা জানে এবং গতবারের তুলনায় আরো জোরালোভাবে তারা হাজির হবে নভেম্বরে, যুক্তরাষ্ট্রে। স্বৈরাচারী রাজাদের কাছে ট্রাম্প এমন প্রমাণ দিতে পেরেছেন যে, তিনি নিঃশঙ্কোচে ও জোরালোভাবে তাদের অপকর্ম সমর্থন করবেন। বিদেশীদের সমর্থন আছে বলে নয়, ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর অনুজ্জ্বল ভাবমূর্তিও ট্রাম্পের বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্পের বয়স 74, বাইডেনের 77। তিন বছরের ছোট হওয়ায় ট্রাম্প নিজেকে বেশ জোয়ান মনে করছেন। তাছাড়া ক্যারিশমাশূন্য বাইডেনকে খুব একটা প্রজ্ঞাবান বলেও মনে হয় না।

সে যা হোক। ইসরাইলের সাথে সম্পর্কের কপটতা দূর করতে গিয়ে আরেক কপটতার আশ্রয় নিল আমিরাত। তার ভাষ্য: ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিন ভূমির দখল ঠেকানোর মহৎ উদ্দেশ্যে তারা এহেন অপকর্ম সম্পাদন করেছে। অর্থাৎ আমিরাত এই শর্তে ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে যে, ইসরাইল ফিলিস্তিনি ভূমির দখল বন্ধ রাখবে। অন্য ভাষায় বলা যায়, ফিলিস্তিনীদের উপকারের জন্য তাদের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা। অবৈধ সম্পর্কের বৈধতার জন্য এটি যে একটি কপট অজুহাত, এটি একজন পাগলও বুঝতে পারে। বহুদিন ধরে আরব ও মুসলিম দেশগুলো একটি নীতি অবলম্বন করে আসছে, সেটি হল: জেরুসালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বে তারা বিচ্ছিন্নভাবে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করবে না। ইতোপূর্বে দু’টি দেশ এই নীতি ভঙ্গ করে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেক্ষেত্রে যৌক্তিক কারণ ছিল। 1967 সালের যুদ্ধে মিশরের হাত থেকে বিশাল সিনাই উপত্যকা দখল করে নিয়েছিল ইসরাইল। 1973 সালের যুদ্ধে মিশর তা পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। তাই মিশরের চুক্তির ক্ষেত্রে এই অজুহাত মেনে নেয়া যায় যে, ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার বিনিময়ে সে হৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। জর্দানও দুই বার ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ করেছেন। তাই সন্নিহিত দেশের সাথে চুক্তির ব্যাপারটি হয়ত মেনে নেয়া যায়। আমিরাতের সাথে ইসরাইলের সীমানাও নেই, যুদ্ধও হয়নি। এমতাবস্থায় আমিরাতি ঘোষণা যে একটি মহা শঠতা তা প্রমাণিত। ট্রাম্প বলেছেন, ইসরাইল ভূখণ্ড দখল স্থগিত করেবে। কিন্তু নেতানিয়াহু বলেছেন, জর্দান ভ্যালিসহ প্রাচীন সামেরিয়া ও ইয়াহুদিয়ার কোন অংশ সংযুক্তির বাইরে থাকবে না। আমিরাতের সাথে সম্পর্কের খাতিরে তা বিলম্বিত করা হয়েছে, স্থগিত করা হয়নি।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু-এমবিজেডের ঘোষণায় যারা চমকে গেলেন, তাদেরকে বলি- ‘আরেকটু দৃঢ় হোন, সামনে আরো ঘোষণা আসবে।’ অবগুণ্ঠন খুলে খুল্লামখুল্লা পিয়ারের পাইপলাইনে ইতোমধ্যে প্রবেশ করেছে বাহরাইন ও ওমান। বড় দেশ হয়ত কিছুটা দেরিতে বা সবার শেষে লাইনে আসবে। সবাই ঠিকঠাকমত লাইনে দাঁড়াচ্ছে কীনা সেটা তো দেখতে হবে। এটা তো বড়জনের কাজ। এক সময় ইসরাইলপ্রীতি আরবের বাইরে চলে আসবে। আরবরাই যদি ইসরাইলের সাথে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে পারে, আমাদের জন্য নাজায়েজ হওয়ার কোন কারণ থাকতে পারে না।

বিশ্বাস করুন, আরবের এই নেতৃত্ব দিয়ে ফিলিস্তিন মুক্ত হবে না। পুকুরতলে যে বোতলে শয়তানের প্রাণ সেটি উদ্ধার করে তার গলা টিপে ধরতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-আরব রাজা+স্বৈরাচার একই সমতলে দাঁড়িয়ে আছে। এই লাইনে কীভাবে ফিলিস্তিন মুক্ত হবে? দূর বা নিকট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের পতন হলে বা বিশ্বরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব খর্ব হলে অনিবার্যভাবে ইসরাইল দুর্বল হবে। ইসরাইলের বলহীনতা রাজাদের সিংহাসন নড়েবড়ে করে দিবে। আর তখন মুক্তিকামী মানুষ যে বসন্ত নিয়ে হাজির হবে সিসির মত জল্লাদদের পক্ষে তাকে গ্রীষ্মে পরিণত করা সম্ভব হবে না।

ইসরাইল কখনো ফিলিস্তিনকে মেনে নিবে না। আর তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হয়, আল-আকসা, আল-কুদস ও ফিলিস্তিনের মুক্তির জন্য ইসরাইলের বিনাশ আবশ্যক। আবার বৃহৎ কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনীদের পক্ষে নিজেদের মুক্তির জন্য বেশি কিছু করা সম্ভব নয়। আরব ও মুসলিম বিশ্বের জনগণকেই সে ভূমিকা পালন করতে হবে। তার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন ইসরাইলপ্রীতির ধারণায় বশীভূত আরব রাজা-স্বৈরাচারের পতন। ততদিন চেতনা জেগে থাক: জেরুসালেম আমাদের, মসজিদুল আকসা আমাদের। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রবাহিত হোক চেতনা। সময় ঘুরবে, মোড়লের মৃত্যু হবে, শূন্যতা আমাদেরকে ডাকবে, তখন যেন চেতনার শূন্যতায় সুযোগ হাতছাড়া না হয়। মনে রাখা প্রয়োজন, ইসরাইলিরা দুই হাজার বছর ধরে জপ করেছে, আমরা ফিলিস্তিন দখল করব। আমাদের তো এক শত বছরও পার হয়নি।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন