, ১ জানুয়ারি ২০২১; ১২:০৫ অপরাহ্ণ


বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের সমালোচনা করার কারণে ভারতে একজন ডাক্তারকে সাত মাস ‘বেআইনিভাবে’ জেল খাটতে হয়েছে। একটি আদালত তার আটকাদেশকে বেআইনি ঘোষণা দেয়ার পর মঙ্গলবার রাতে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। তার নাম ড. কফিল খান। তিনি একজন মুসলিম। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়, উত্তর প্রদেশ রাজ্যের একটি আদালত তার আটকাদেশকে অবৈধ বা বেআইনি বলে ঘোষণা দেয়। ড. কফিল খান আল জাজিরাকে বলেছেন, আটক অবস্থায় তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তার পোশাক কেড়ে নেয়া হয়েছে।প্রহার করা হয়েছে। দিনের পর দিন খাবার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।

ড. কফিল খানের ভাষায়, এ সময়টা পুরো পরিবারের জন্য খুব খারাপ গেছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ যখন ভয়াবহ তখন আমার ৬৫ বছর বয়স্ক মাকে আদালতে হাজির হতে বাধ্য করা হয়েছে। মাসখানেক আগে একটি বক্তব্যের জন্য উত্তর প্রদেশ সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে এ বছরের জানুয়ারিতে। উত্তর প্রদেশ সরকারের নেতৃত্বে রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার। তারা ড. কফিল খানের ওই বক্তব্যকে হিংসাত্মক বলে মনে করেছিল। পরে তার বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে অভিযুক্ত করা হয়। এই আইনে যেকাউকে এক বছর কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটকে রাখা যায়।

ড. কফিলের বক্তব্যে জোর দেয়া হয়েছিল অপুষ্টি, স্বাস্থ্য সুবিধার অভাব ও বেকারত্বের সঙ্কটের মতো ইস্যু। ভারতে পাস হয় নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ)। এই আইনের অধীনে বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ মোট এশিয়ার চারটি প্রতিবেশী দেশের মুসলিমদের ভারতের নাগরিকত্ব থেকে বাইরে রাখার কথা বলা হয়। এই আইনের সমালোচনা করেছিলেন ড. কফিল। দৃশ্যত, এ কারণেই তিনি সরকারের রোষানলে পড়েছেন।

আইনটি ডিসেম্বরে পাস হওয়ার পর ভারতজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন মূলত মুসলিম সম্প্রদায়। তারাই ভারতে বৃহত্তম সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যালঘু। তাদের সংখ্যা প্রায় ২০ কোটি।

অন্যদিকে ভারতে মুসলিমবিরোধী বক্তব্য দেয়ার জন্য সুপরিচিত উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ। মুসলিমরা যখন ওই বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে দমনপীড়নের নির্দেশ দেন। পুলিশি একশনে সে সময় কমপক্ষে দু’ডজন মুসলিম নিহত হন। এর নিন্দা জানায় ভারতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। রাজধানী দিল্লি থেকে ১২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিডঁতে ছাত্রবিক্ষোভে বক্তব্য রেখেছিলেন তখন ড. কফিল। তিনি বলেছিলেন, এই নৈরাজ্যের সময় আমরা যদি চুপ থাকি তাহলে কে কথা বলবে? কে তাদের কণ্ঠস্বরকে উচ্চতিক করবে?

তিনি ওই আইনের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন বলে তখনকার ৩৮ বছর বয়সী এই পুষ্টিবিশেষজ্ঞকে টার্গেট করা হয় বলে মনে করেন সমালোচক ও তার পরিবারের সদস্যরা। সরকারের এ আচরণকে জাতিসংঘ মৌলিক বৈষম্য বলে আখ্যায়িত করে। অন্যদিকে ড. কফিলের বিরুদ্ধে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে হিংসার বীজ বপন করার অভিযোগ করে উত্তর প্রদেশ পুলিশ। কিন্তু পুলিশের এ বক্তব্যের সঙ্গে মঙ্গলবার দ্বিমত পোষণ করে এলাহাবাদ হাই কোর্ট। তার পুরো বক্তব্যের কোথাও আলিগড় শহরের শান্তি ও সুস্থ পরিবেশের প্রতি কোনো হুমকি ছিল না বলে জানিয়ে দেয় আদালত।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন