শনিবার, ২ জানুয়ারি ২০২১; ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ


রাতের বেলা আকাশের দিকে আমরা সবাই কখনো না কখনো অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকেছি। নির্বাক হয়ে চেয়ে রয়েছি ঐ দূর গগণে তারাদের মহারাজ্যে। সত্যিই, এ যেন এক মহারাজ্য। তাই তো আকাশের তারা গোণা এক অসম্ভব কাজ বলেই আমরা জানি।
সে যাই হোক, এই তারাদের রাজ্য দেখতে দেখতে আমাদের মনে কত প্রশ্নই না উঁকি দেয়। তারাগুলো আসলে কতদূরে, তারা আলো পায় কোত্থেকে, তারা কী করছে ঐ সুদূর আকাশে, রাতের তারাগুলো দিনে কোথায় হারিয়ে যায় ইত্যাদি ইত্যাদি। ছোটদের মনে তো আরো কত প্রশ্ন। কত রূপকথাও না প্রচলিত ঐ আকাশ নিয়ে। কেউ কেউ বলে মানুষ মারা গেলে নাকি আকাশের তারা হয়ে যায়! আরো কত কথা!
ছোট-বড় সব বয়সী মানুষের মনের এই প্রশ্নের উত্তর সহজবোধ্যভাবে বাংলা ভাষায় দেয়ার মতো বইয়ের সন্ধান খুব একটা মেলে না। তারই মাঝে মহাকাশের বিভিন্ন দিক নিয়ে ছোটদের উপযোগী করে লেখা বই মহাকাশের রূপরহস্য। লিখেছেন জহুরুল আলম সিদ্দিকী। স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্য থেকে ২০০৭ সালে প্রথম প্রকাশিত প্রকাশিত বইটি লেখা হয়েছে দুই বোনের কথোপকথন হিসেবে। যেখানে ছোটবোন মুমুর অজস্র প্রশ্ন তার বড় বোন মৌকে এবং মৌও প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার সাধ্যমতো চেষ্টা করে।
বইটি সবমিলিয়ে ৬টি অধ্যায়ে বিভক্ত। প্রথম অধ্যায়ের শুরুর দিকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের একেবারে মৌলিক বিষয় অর্থাৎ গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র প্রভৃতির ঘুর্ণনসম্পর্কিত মৌলিক আলোচনা স্থান পেয়েছে। এরপর প্রথম অধ্যায়ের বাকি অংশ এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ের পুরোটা জুড়ে মহাকাশ গবেষণার ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ অধ্যায়ে মহাবিশ্বের গঠন, বিগব্যাং এবং মহাবিশ্বের সার্বক্ষণিক সম্প্রসারমাণতার বিভিন্ন দিক নিয়ে ধারণা দেয়া হয়েছে। পঞ্চম অধায়ের মহাকাশের ‘বারমুডা ট্রায়াঙ্গল’ ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণবিবর এবং এর সংশ্লিষ্ট আরো কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলা হয়েছে।
সর্বশেষ বা ষষ্ঠ অধ্যায়ে মহাবিশ্বের পরিণতি কী হতে পারে, মহাবিশ্বে অন্য কোন প্রাণীর অস্তিত্ব, ফ্লাইং সসার প্রভৃতি বিষয়ে ধারণা দেয়া হয়েছে।
অত্যন্ত সহজবোধ্য ভাষায় লেখা বইটি মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানতে আগ্রহী যে কারো চাহিদা পূরণে যথেষ্ট খোরাক যোগাতে সক্ষম হবে নিঃসন্দেহে। বইটি পড়তে পড়তে হারিয়ে যেতে পারেন বিশাল মহাকাশের জগতে। কতবড় এই বিশাল মহাকাশ? বইটি থেকেই তার একটা বিবরণ দেয়ার চেষ্টা করি।
… একশো কোটি গ্যালাক্সির সন্ধান পেয়েছেন জোতির্বিদরা। মহাকাশের এই বিপুল সংখ্যা দিয়ে মহাবিশ্বের বিস্তার কল্পনা করা যাবে না। গড়ে যদি প্রতি গ্যালাক্সিতে দশ হাজার কোটি নক্ষত্র থাকে, তাহলে মহাবিশ্বের মোট নক্ষত্রের সংখ্যা দাঁড়াবে দশ কোটি কোটি কোটি। আমেরিকার অন্যতম জোতির্বিদ হার্লো স্যাপলির মতে, এই সংখ্যা কম করে হবে এক এর পরে বিশটি শূণ্য বসালে যে সংখ্যা হ্য, ঠিক তাই। কথাটা ঘুরিয়ে বলা যায়, পৃথিবীর সব মানুষ চব্বিশ ঘন্টা দ্দিন রাত যদি গুণেই চলে তাহলে তারার সংখ্যা গুণে উঠতে চারশো বছর সময় লাগবে।…
এত বড় মহাবিশ্বের কথা ৮৭ পৃষ্ঠার বইয়ে আর কতটুকুই বা দেয়া সম্ভব? তবে এই বই মহাবিশ্ব সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিয়ে আরো অনেক বেশি জানার আগ্রহ সৃষ্টি করবে, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
পুনশ্চঃ অনেকেই ‘ছোটদের’ লেখা বই পড়তে সংকোচ বোধ করেন, পড়তে চান না। মনে রাখা দরকার, জ্ঞানের ব্যাপারে বয়স নয়, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের জানার পরিধিই ছোট-বড় নির্ণায়ক।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন