মঙ্গলবার, ২ আগস্ট ২০২১; ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ


Image: Cover of the Book
--- তাইফুর রহমান 

চারপাশের অবিশ্বাস্য পতন স্বচক্ষে দেখেও চুপ করে সয়ে যেতে হয় এমন সব নীরবতার অস্থিরতার মধ্যে কোভিড-১৯-এর অতিমারী যখন যুদ্ধ শুরু করে দিলো, তখন কবি অভ্র আরিফের বহিঃপ্রকাশ হলো। বহিঃপ্রকাশ হয়তো দেরিতেই হলো, কেননা আধুনিক বাস্তবতায় মানুষের জীবনের আকাঙ্খিত স্বপ্ন, বিচরণ ও বাউণ্ডুলে জীবন ছেড়ে সংগ্রাম করে বেছে নিতে হয় শৃঙ্খলিত জীবন। লেখকের প্রতীক্ষিত যে আর্টের জগৎ, সে জগৎ ছেড়ে গণপ্রজাতন্ত্রের চাকুরে জীবন অনিবার্য বিতৃষ্ণায় ভরে উঠে, কেননা আকাঙ্খার সপ্রতিভা পতিত রেখে নিজের উপর আরোপিত শৃঙ্খলের মতো বেদনা ও প্রতারণা কমই আছে। তারপরও কবিকে থাকতে হয় নিরাবেগ। কেননা তার চলার রাস্তায় পুঁতে রাখা হয়েছে মাইন, তার বিবেকের স্বাধীনতাকে করা হয়েছে হরণ, তার দিকে তাক করে রাখা হয়েছে শাসকের মনঃপুত করে তৈরি করা আইনঅস্ত্র। কবির দুর্মর প্রাণকোষ থেকে সেই শ্বাসরোধের গোঙানির আর্তনাদ আমরা শুনতে পাই অতি সন্তপর্নে।

পরশু রাতে আমার ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো ডাহুকের ডাকে
বহু বছর পর এই উচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশে পুনরায় ডাহুকের ডাকে
আমার বুকের জমিন আর্দ্র হয়ে উঠেছিল।
অথচ জানেন, মধুরতর সুর ও ডাক শুনতে ভালোবাসি বলে
ওরা আমাকে বধির করে দিয়েছে।
(কবিতা: বিরুদ্ধ স্বদেশ)

এখন প্রশ্ন হলো, এই জীবন কী শুধু লেখকের জীবন, নাকি আমাদের সার্বজনীন জীবন?
এখানে চিন্তা করতে গেলেও নির্দেশনা মেনে করতে হবে এমন ব্যাপার, বহিঃপ্রকাশ যেখানে দূরগ্রহের ব্যাপার।
রাষ্ট্রীয় চাতালযন্ত্ররা যখন শাদা আগুনে উর্বর চেতনাগুলোকেও নেহাৎ কয়লা বা ছাইয়ে পরিণত করে। আর আমাদের সাধের লালিত স্বপ্নভ্ৰণের গর্ভপাত ঘটায় নিরুদ্বেগে। মহানগরে যখন স্বার্থবাদী ভ্রষ্টসততা আর নষ্টচেতনা উৎসব করে ঘোষণা দেয় অন্তঃসারশূন্যতাই জীয়নকাঠি, জয়মাল্য তেলবাজদেরই অধিকার। কখনো কখনো ক্ষোভে ঘৃণায় ধিক্কারে চিৎকার করে উঠে কবি।

“আঠারো কোটি মানুষের সামনে
প্রকাশ্যে
আপনার বশীভূত থাকার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ
আপনি আমাকে ফ্রেঞ্চ কিস করছেন
বিশ্বাস করুন-
আমার ভীষণ লজ্জা লাগে।”

মার্কসীয় তত্ত্বমতে, শাসকশ্রেণী যেহেতু ক্ষমতাকাঠামো নিয়ন্ত্রণ করে, তারাই নির্ধারণ করে দেয় তোমার আমার ধর্মীয়, রাজনৈতিক বা আইনগত আইডিওলজি কী হবে। শাসকশ্রেণীর অধনস্ত শ্রেণী বা অনুগামী শ্রেণীও তাদের উপরকর্তাদের রক্ষার জন্য নিবেদিতপ্রাণ থাকে এবং এজন্য তারা আইডিওলোজি ও রাষ্ট্রীয় হাতিয়ারগুলো ব্যবহার করে নাগরিকদের অনেকটা প্রাকৃতিকভাবে বিশ্বাস করিয়ে ছাড়ে, কোন আইডিওলজিই তাদের উপর আরোপিত নয়, বরং স্বাধীনভাবেই আমরা সরকার কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ব্যবস্থাকে বেছে নিয়েছি আমাদের চূড়ান্ত নিরাপত্তা, উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য।

এই আইডিওলজিক্যাল হাতিয়ারকে আন্তোনিও গ্রামসি বলছেন হেজিমনি বা আধিপত্য।
আলথুসার রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রেখার নিয়ন্ত্রকগুলোকে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন: ১. দমনমূলক সংগঠনের মাধ্যমে( Repressive Structure); ও
২. রাষ্ট্রীয় আদর্শবাদের মাধ্যমে( State Ideological Apparatuses)
অভ্র আরিফের একাধিক কবিতায় এসব আইডিওলজিক্যাল হাতিয়ার অপব্যবহারের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ মেলে স্পষ্টভাবে।

আমাদের ‘৭১ এর নামতাটা ঠোঁটস্থ রাখতে হয়।
…..
…..
আমার খালি ভুল হয়।
মুখভর্তি চারটা মার্বেল,
ওখান থেকে শালার গণতন্ত্রটাকেই খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে হয়।(কবিতা: নামতা)

কবিকেও আপোষ করে চলতে হয়, অথচ কথা ছিল সৈয়দ শামসুল হকের মতো উচ্চারণের- “আপোষ করিনি কখনোই আমি- এই হ’লো ইতিহাস”। সৈয়দ হক কী আসলেই আপোষ করেননি? হয়তো এটা অবান্তর প্রশ্ন, তবু প্রশ্ন জাগেই। আশার কথা, স্বপ্নের চাদররের ভেতরেও মোহন স্বপ্ন আগলে থাকে।

অবক্ষয়ী উত্তরাধুনিকতা ও পুঁজিবাদী রাষ্ট্র পিষে ফেলছে আবহমান স্বপ্নের বীজ, অভ্র আরিফের কবিতায় আছে তার ক্রন্দন। যে স্বপ্নে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সে স্বপ্ন সুদূর পরাহত, স্বাধীনতা যখন প্রায়োগিক না হয়ে শুধু জাদুঘরে প্রদর্শনীতে থাকে। দেশ স্বাধীনের প্রায় পর থেকে মুষ্টিমেয় কয়েকজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে ক্ষমতা কুক্ষিগত। স্বৈরাচারীর দশক, সাম্প্রদায়িকতার লালন শেষে যে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ নাগরিকরা প্রত্যাশা করেছিল, তা হতাশ করেছে। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও মৌল-মানবিক মূল্যবোধ বিপর্যস্ত। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ব্যক্তিদের শুদ্ধাচার যেখানে বিব্রতকর, বৃত্তের প্রান্তের নাগরিকরাও তখন সেই অসুস্থতায় প্রতিযোগী হয়ে ওঠে। পদ্মা সেতু বা মেট্রোরেলের মতো উন্নয়ন নিঃসন্দেহে জাতির বড় অর্জন, কিন্তু রাষ্ট্র যখন বিজ্ঞাপনী সংস্থায় পরিণত হয়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ডিজিটাল বিলবোর্ড বসিয়ে এগুলোর বিজ্ঞাপন দিয়ে জানান দেয়, এটা কেবল আমার বা আমার দলের অর্জন। আর সব পতিতসত্তার ঋণখেলাপি, সুইচ ব্যাংকের একাউন্টপতি, বেগমপাড়ার বাসিন্দা, শেয়ারবাজার বা ব্যাংক খেয়ে দেয়া ব্যক্তিচেতনালুণ্ঠনকারী ও দানবভরাক্রান্ত স্বদেশীর মতো  শুয়োররা অনায়াসে ঘোৎ ঘোৎ করে বেড়ায়, তখন আমাদের আসলেই ‘ভীষণ লজ্জা লাগে’, মহামান্যরা।

সমকালীন সমাজব্যবস্থার অক্ষ- দ্রাঘিমা সম্পর্কে একজন গ্রামীণ শৈশব বয়ে বেড়ানো আধুনিক শহুরে মানুষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে অভ্র আরিফ অত্যন্ত সজাগ ও স্পর্শকাতর। একজন শিল্পী হিসেবে লেখকও সামাজিক প্রজাতির জীব, তার এই শৈল্পিক আরাধনার পেছনে সমাজ-সংসার, অর্থনীতি, রাজনীতি ও মূল্যবোধের ভূমিকাকে সাথে নিয়েই অগ্রবর্তী হতে হয়।

আধুনিক মানুষ যেন আর কোন লিজেন্ড হবার নয়। কোন কাজেই যেন কোন সার্থকতা নেই। গভীরতাহীন ও তাৎপর্যহীন এক মানবজনম।

আমাদের এখানে স্মরণ রাখা প্রয়োজন, একজন কবি কোনো ইউটোপিয়ান জীবনকে যাপন বা উদযাপন করে না। একজন প্রেমিক যেমন সর্বক্ষণ প্রেমিক নয়, একজন ইবাদতকারী যেমন ব্যবসায়ী ও সঙ্গমকারীও হতে পারে, তেমনি একজন কবি তো দিনের চব্বিশ ঘণ্টাই কবি নয়।

কবি মানেই সর্বক্ষণ মননশীল ও আদর্শবান নয়। তাকেও সংকর জীবনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। জীবনের তাগিদেই তাকে স্থুল ও অনাকাঙ্ক্ষিত কাজও করতে হয়।
তাহলে কি বলতে হবে কবি মিথ্যাবাদী? এ কথার উৎকৃষ্ট উত্তর দিয়েছেন ফিলিপ সিডনি, ‘কবিরা কখনো মিথ্যা বলেন না, কেননা তারা কখনো সত্য বলেন না।’

কিন্তু, কবি নিজেই আত্মশত্রুতে রূপান্তরিত হয়, যখন যৌথ কিংবা ততোধিক সাংঘর্ষিক সত্তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে বাঁচিয়ে রাখতে হয় শিল্পসত্তাকে। নিজেই গরলমিশ্রিত প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করে নিজের সাংঘর্ষিক সত্তাকে। আর এই নিজের মুখোমুখি হয়ে প্রশ্নবাণ খেলার উত্তম প্লাটফর্ম হলো কবিতা, যেখানে নিজেকে সমর্পণও করা হয়, শুদ্ধও করা হয়।
এখানেই একজন সত্যিকার কবি মহৎ ও নিষ্ঠাবান শিল্পী। এখানে হেগেলের মন্তব্যটি প্রাসঙ্গিকতার দাবি রাখে, কবিতা মানব মনের বিশ্বজনীন শিল্প এবং আর্টের উচ্চতম পর্যায়।

অভ্র আরিফের সহজাত কাব্যপ্রতিভা লোকজ সাংস্কৃতিক তরণী আধুনিকতার বিমূর্ত পাল তুলে স্বপ্নাতুর বৌঠা বেয়েছে জীবনসংলগ্ন নদীতে।

প্রজন্ম পরম্পরা দারিদ্র্যলাঞ্ছিত ও শৃঙ্খলিত জীবনকে যাপন করে যাওয়া। এই নির্ধারিত জীবন যেন কোনভাবেই বদলাবার নয়। এই অমোঘ নিয়ম মেনে চলতেই হবে এবং অবশেষে করুণ পরিণতি। আমরা যেন জন্মসূত্রে পাওয়া অতীত প্রজম্মের মতো সিসিফাসের জীবন যাপন করে চলি। অথচ মোটে একটা জীবন আমাদের। আমরা যেন বায়ুপচনের এই শহুরে রাস্তার ডিভাইডারের বুকে ধুলাবালির আস্তরণ জমে থাকা জীর্ণ তরু। কিংবা আমরা যেন মহানগরীতে দড়িবাধা জীবন্ত গরু হয়ে দেখছি আমার সঙ্গের গরুর শরীর চাপাতি দিয়ে কেটেকুটে ঝুলিয়ে রেখেছে বিক্রির জন্য। এবং এরপরের শিকার হয়তো কিংবা নিশ্চিত আমি। তবু বাঁচার জন্যও বিদ্রোহের সুযোগ নেই আমার, আমাদের। হোক সেটা পরিবার, কিংবা রাষ্ট্র। সাংসারিক জীবনের এই ক্লেদ আর ক্লান্তির শব্দ শুনি আমরা ‘গর্ত সিরিজ’ কবিতায়।

“তিনি তার ওপর শোধ নিতে না পেরে
পণ করলেন আমাদেরকেও গর্তে ফেলবেন। তারপর একদিন-
আমাকে আমার বউসহ বিয়ের দিনই একটা মস্ত বড় গর্তে ফেলে আসলেন।
ভাবছি এর প্রতিশোধ আমাকে নিতেই হবে।”

উত্তরাধুনিকতার যে অন্যতম বৈশিষ্ট্য পলায়নপরতা। এখানে কবি যেন দৌড়ে পালাতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে আবিষ্কার করে পায়ে শিকল বাধা। টোপ বড়শিসহ আগেই গিলে ফেলেছে। তাহলে কী কবি সংসারবিরাগী?

প্রবীণ হয়ে গেলেও আমাদের সবার মধ্যেই অদম্য এক সন্যাসী ও ভবঘুরে বসবাস করে। সে বন্ধনহীন হতে চায়, পরিব্রাজন করতে চায় খেয়াল খুশি মতো। হয়তো, সে পারে না। তবু সে সত্তা আচানক বের হয়ে পড়ে সুযোগ পেলেই। সেজন্যই, লোকরণ্যের মধ্যে কীভাবে একাকী হতে হয় শৈল্পিক মন জানে ভালো। তাই, অবক্ষয়, বিষাদ, হিম-শূন্যতা, আত্মহননপ্রবণতা, ব্যর্থকাম-এসব থেকে রক্ষা পায় না কবির কলম ও কবিতা।

অভ্র আরিফ হয়তো শুধু ভালোবাসা আর বিষণ্নতার ছবি এঁকেই সার্থক কবি হতে পারতো। তার কিছু কবিতা পড়লে মনে হয় পৃথিবীর সর্বশেষ প্রেমাতুর বিষণ্ণ কবি সে। কিন্তু এই আড়ষ্ট সময় যেন বেঁকে দেয় ভালোবাসার কথা বলতে গেলে। সে আড়ষ্টতা রেখেই মিনতি করে বলে, নির্জনে…

ভালোবাসার ছেনি হাতে নরম শুশ্রূষা তোমায় করি মিনতি-
অবেলায় অত বেশি নিকটে এসো না,
এখনো তোমাতেই আমার ধসে পড়ার ভয়-
দূর থেকে হৃদয়ে রাখো হৃদয়, হৃদয়ে নেই কোভিডের ভয়।

মেটফিজিক্স ও ফিলোসপিতে স্পেসের যে প্রাথমিক ধারণা তার সাথে যুক্ত হয়েছে ভার্চুয়াল স্পেসের মতো বহুবিধ স্পেস। স্পেসশিপ ছায়াপথের আরো কত স্পেস অন্বেষণের জন্য প্রতিনিয়ত প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ছায়াপথে সূর্য একটা নক্ষত্র। আমরা সেই নক্ষত্রের শ্যামল গ্রহের ক্ষুদ্র একটা ক্ষণস্থায়ী প্রাণ মাত্র। তবু আমাদের স্পেস নিয়ে স্পেশাস সমস্যা। আমাদের চেতনার রঙ, দেখার ভঙ্গি, অনুভূতি ও কল্পনা হয়তো মুক্তি দেয় না সেই আদি থেকে। স্পেস হয়তো মানুষের ভাবনালোকের মতোই অন্তত। উত্তরাধুনিক নগর সভ্যতায় স্পেসের এই সমস্যা প্রকট, যেখানে কান্নার জন্যও স্পেস সংকট। প্রতিদিন তাই কত শত কান্না মরে যায়। নগরে বাস করতে হলে আমাদের ভুলে যেতে শিখতে হয়, আমাদের ভেতর একজন ক্রন্দনরত অতি কোমল প্রাণও আছে। যে প্রাণ শৈশবের জন্য কাঁদে, সবুজের জন্য কাঁদে, মুক্ত হবার জন্য কাঁদে, একটা ঘুঘুর সুরেলা গান শোনার জন্য কাঁদে আর ছুট দিতে চায় আমার শস্য ফলানো মাটির পানে।

দীর্ঘশ্বাসটুকু লুকোনো বিষলতা কেবলই বড় হয়ে যায়

এ শহরে দীর্ঘশ্বাস ফেলার মতো আমার কোনো স্পেস নাই।(কবিতা: সাফোকেইটেড)

এর সাথে যুক্ত হয়েছে শিকড়হীনতা। এই শহরেই প্রায় দুই কোটি মানুষ বাস করে যাদের অধিকাংশই গ্রাম থেকে আসা। আছে আরো কত শত সব শহরে ও প্রবাসে। এই জনগোষ্ঠী গ্রামকে ছেড়ে এসেছে এবং নগরের সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে চলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই নগর তাদের পরজীবী ভাবে, কিংবা এই নগরকে তারা ঠিক নিজের ভাবতে পারে না।এজন্যই হয়তো গ্রাম ছেড়ে আসা নগরের মানুষ একে অপরের কাছে জানতে চায়, ‘আপনার দেশের বাড়ি কোথায়?’ এরা গ্রামের ঐ নির্মল জীবনে ফিরতে চায়, কিন্তু পারে না। কেননা হাওয়া খেতে কেউ শহরে আসে না, অধিকাংশই আসে জীবিকার সন্ধানে। এই জীবিকা অন্বেষণী পাজরভাঙা মানুষগুলো, যাদের পরাজিত ও বিধ্বস্ত বলে জানে মানুষ, এখন গ্রাম ও নগর সর্বত্রই আউটসাইডার বা ইন্ট্রুডারে রূপান্তরিত হয়েছে, কিন্তু তারাও কোন এক অধরা স্বপ্নের কোমল আগুন বুকে আগলে রাখে নতুন দিনের আশায়। অভ্র আরিফের কবিতার অন্যতম মূল সুর এই আউটসাইডার মানুষকেন্দ্রিক।

নেহায়েৎ আমার নানাবিধ ব্যক্তিগত ভাবনা ও অনুভূতি লেখকের উপর চাপালাম। বন্ধু ও পাঠক, ক্ষমো অপরাধ।

৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১
হাতিরপুল, ঢাকা
ইমেইল-[email protected]

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন