, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১; ৯:০৫ অপরাহ্ণ


Photo: Bab’Aziz

বা’ব আজিজ অথবা বাব আজিজ চলচ্চিত্রটি তিউনিসিয়ান পরিচালক নাসের খেমিরের মরুভূমি নিয়ে নির্মিত ডেজার্ট ট্রিলজি’র শেষ চলচ্চিত্র। ২০০৫ সালে চলচ্চিত্রটি প্রথম প্রকাশিত হয়। নির্মানশৈলী ও গল্পের প্রাঞ্জলতার দিক থেকে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা স্বত্ত্বেও বিশ্বাসী ও সত্য সন্ধানীদের দুনিয়ায় এ চলচ্চিত্রের আবেদন অপরিসীম।

নাসের খেমীর তার বাব আজিজ মুভির মধ্যে মরুকে প্রকাশ করে নায়ক হিসেবে। মুভিতে দেখা যায় এই মরুতে চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্র বাব আজিজের সঙ্গী বিস্ময়ী ইসতার।

ইসতারকে যদি সিম্বোলিক ভাবে আমরা দেখি- পথের যাত্রা কালে কৌতূহলী এক নব শিশু। যে কিনা সব কিছুই করে বিস্ময় থেকে,আবার ডুবেও যায় প্রতিটা বিস্ময়ে। পথের শুরুতে হয়তো আমরাও এমন। ইসতারের করা প্রশ্ন গুলোই যেন পথকে সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলে বাব আজিজের সাড়া দেওয়ার মধ্য দিয়ে। মুভির একটা মুহূর্তে ইসতার যখন বাব আজিজ কে বলে আমরা পথ জানি? বাব আজিজ বলে না। কিছু মুহূর্ত শেষেই দেখা যায় মরুর মধ্য দিয়ে বেশ কতজন যাত্রী যাচ্ছে। ইশতার বলে বাবা আজিজ আমরা তাদের সঙ্গ নেই।

তখন বাব আজিজ বলে –

যাত্রাকালে প্রত্যেকের পথই আলাদা, আমরা বরং আমাদের মতো করে হাঁটি। তিনি আরো বলেন বিশ্বাসীরা কখনো পথ হারায় না।

একটা সময় এসে জাহিদের সাথে দেখা হয়,জাহিদও মিলনের পথে যাচ্ছে গান গেয়ে গেয়ে। তখন বাব আজিজ বলে – যার যা আছে সে কেবল সর্বস্ব দিয়ে হাঁটো। জাহিদ এটা না শুনেও কাজটা করে যাচ্ছে ঠিকই যার জন্য বার বার বাব আজিজ এবং ইশতার সাথে তার দেখা হচ্ছিলো।

জাহিদ মূলত যাচ্ছিলো তার প্রিয়তমা নুরীর খুঁজে। নুরী যখন জাহিদকে ছেড়ে আসে তখন জাহিদের পাসপোর্ট,ভিসা কাগজ পত্র নিয়ে আসে। রেখে আসে একটি চিঠি আর কালো বিড়াল, তখন নুরী কালো পোশাক পড়তো। এই পাসপোর্ট এবং কাগজ গুলো যদি আমরা ব্যাখ্যা করি- TheBlindMan বলে –

“আমাদের পাসপোর্ট নারী বা পুরুষ নয়, ঐশী-প্রেম হবে। যে প্রেমের শুরুটা মানবীয় প্রেম বা কাম মিশ্রিত হতে পারে”

খুঁজতে খুঁজতে নারী এবং পুরুষ উভয়েই হয়ে উঠে দরবেশ। তখন নুরী পড়ে সাদা পোশাক। সাদা পোশাকটাকেও যদি সিম্বোলাইজ করি- আমরা মূলত দুই দিয়ে বিচার করি। যার সিম্বোলিক অর্থ সাদা, কালো। কালো কে ধরা হয় মন্দ, অন্ধ, অজ্ঞ কিছু আর সাদা কে ধরা হয় ভালো, শুদ্ধ, সুন্দর কিছু।

নুরী তার প্রথম অবস্থায় কালো পোশাকে থাকলেও শেষাংশে সাদা অর্থাৎ সহজ মানুষ, সুন্দর জীবন, শুদ্ধতার প্রতীক হিসেবে দেখা দেয়। মুভির মধ্যে অনেক গুলো চরিত্র তুলে ধরা হয়। প্রতিটা চরিত্রকে সিম্বোলিক ভাবে ব্যাখ্যা করলে যা আমরা পাই তা কেবল অনেক গুলো পথেরই সিম্বল। সবাই যার যার পথ অনুযায়ীই এগিয়ে যাচ্ছে। কারো পথ কেউ এগিয়ে দেয় না, তবে পথ দেখিয়ে দিতে পারে। আবার কেউ জানেইনা তার স্টেজটা কি!

আর এটা যাচাই করতে না যাওয়া-ও এই মুভির শিক্ষা। হাঁটতে হাঁটতে দেখবে এই মরু নয় শুধু পাহাড়, সমুদ্র ডিঙিয়ে কেউ কেউ আসছে মিলনের দিকে। যা সৃষ্টিলগ্ন থেকে এইভাবেই আসছে।

পোশাককে যদি সিম্বোলিক ভাবে ব্যাখ্যা করা যায় তা হলো এই জগতে কোন কিছুই তোমার নয় যে আঁকড়ে ধরবে। যেমনটা তোমার পূর্বে যারা রেখে গেছে তা-ই কেবল তুমি ধারণ করো। এইভাবে করে তুমিও রেখে যাবে তোমার পোশাক যা পরবর্তী কেউ ধারণ করবে।

মুভিতে হরিণ ছানা আসে তোমার পথের বার্তা নিয়ে। আর আমরা কেবল ঘোড়ার মতো করে বেঁধে ফেলা জগতটাকে খেয়ে ফেলি,বুঝতে সক্ষম হই না যে আমি মুক্ত!মুভির শেষাংশে বাব আজিজের মৃত্যু কেবল মৃত্যু নয় বরং নতুন কোন জগতে তার জন্মের বার্তাও দেয়। হেঁটে যাওয়া পথে হাসানের জন্য দরবেশি পোশাকটাও দিয়ে যায়। তার মধ্য দিয়ে এটাও বার্তা দেয় বিশ্বাসের সাথে হেঁটে ইশতার কিভাবে দরবেশ হয়ে উঠে।

আমরা বরং হাঁটি সর্বস্ব দিয়ে অদৃশ্য কোন এক বার্তায় আমরা পথ পাবো। বিশ্বাসী কখনো পথ হারায় না। আমাদের মিলন হবে যার জন্য আমরা হাঁটি। আমার মৃত্যু আমাকে জন্মের স্বীকৃতি দেয়। প্রতিটা স্টেজেই আমি তোমাদের (বাব আজিজের) ইশতার। মুভির পুরো অংশে ছিলো এমন কিছু মিউজিক যা কেবল আমাদের ব্রাহ্মান্ডে চোখ বন্ধ করে তার সাথে মিশে গেলেই বুঝতে পারি। বলতে পারি নিরবতাই সব থেকে শুদ্ধ সুর,যা আমাদের অনুভব করতে শেখায়।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন