মঙ্গলবার, ২ আগস্ট ২০২১; ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ


গালিব যখন মসজিদে বসে মদ্যপান করেছিলো- এবং সেখানে মুসল্লীদের আপত্তি হয়েছিলো- তারা সবে এসে ধরলো গালিবকে। বলল, মসজিদ আল্লাহর ঘর। মদ্যপানের জায়গা নয়। গালিব তাকালেন মুসল্লীদের দিকে। তারপর আরেক চুমুক খেয়ে আওড়ালেন উপস্থিত শের;’শরাব পিনে দে মসজিদ মে ব্যায়ঠ কার,ইয়া ও জাগা বাতাযাঁহা খুদা নেহি।’

মুসল্লীরা লা জবাব। কী জবাব দেবেন। খোদা নাই এমন জায়গার কথা বলা শক্ত বইকি। মুসল্লীরা সব চুপ হয়ে গেলেন। গালিব জ্ঞানী বা আলেম হিসেবে তখন সমাদৃতও ছিলেন। বড় বড় আলেমেরা তার সোহবত নেয়ার জন্য আসতো। কত শক্ত দর্শণ দিয়ে গেলেন গালিব- কিন্তু আমি চিন্তা করছি ঐ মুসল্লীদের কথা- তাদের চিন্তা শক্তি কতটা শক্তিশালী ও নমনীয় ছিলো। গালিবের এই ঘটনা ও প্রশ্ন তাদের মস্তিষ্ককে ভাবনায় ফেলে দিলো- মসজিদ পাপের জায়গা নাহ কারণ তা খোদার ঘর- তাহলে পাপের জায়গা কোনটা? সবই তো খোদার আয়ত্তে। পাপ মসজিদে যেমন পাপ- আঁধার ঘরে- চুপিসারেও তা পাপ। যাই হোক- মানুষ নানা দিক চিন্তা করেছিলো। গালিবের সামনে চুপসে গেলো সবে।

এবং পরবর্তীতে আল্লামা ইকবাল, ওয়াসী, ফারাজ ও সাকীদের মত বড় ইসলামিক স্কলার ও দার্শনিক কবিরা তার এ শেরের বিভিন্ন জবাব দিয়েছেন। এ প্রশ্নও জবাবগুলো বিখ্যাত। কিন্তু সুন্দর ব্যপার হলো- এত ইসলাম জানা স্কলার ও দার্শনিক কবিদের কেউ গালিবকে কাফের বলেননি- ধর্মচ্যুত বলেননি- মুরদাত- ফাসেক কিছুই না। তারা খুব মার্জিত জবাবগুলো এনেছিলেন তার এই শেরের সামনে।

ব্যাপারটা এ সমাজে ভাবুন তো!কেউ একজন মসজিদে মদ্যপান করছে- ভাবুন! কত জঘন্য অবস্থা হবে। গালিবের যুগে মুসল্লীরা কথা বলেছিলো এবং শুনেছিলো- বর্তমান মুসল্লিরা কি শুনবে? বর্তমান সালাফীজম প্রভাবিত ইসলামের অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছিয়েছে – বিশ্বাস করুন কেউ গালিবের মত এমনটা করলে লোকজন কুপাতে শুরু করবে। নির্যাতন এমনকি খুনও করতে পারে। এটা নিশ্চিত। আমদের উগ্রবাদীতা এমন পর্যায়ের’ই। এবং আমাদের চিন্তা ক্ষমতা এতটাই বিলুপ্ত -টোররিস্ট টাইপ ও উগ্র পর্যায়ে পৌঁছিয়েছে।আসুন- খৈয়ামের আলাপে।

শুক্রবার নিয়ে খৈয়াম রচেছেন ;”শুক্রবার আজ, বলে সবাই পবিত্র জুম্মা বারহাত যেন ভাই খালি না যায়, শরাব চলুক আজ দেদার-এক পেয়ালা শরাব যদি পান করো ভাই অন্যদিন দু পেয়ালা পান করো আজ, বারের বাদশা জুম্মাবার।”জুম্মাবারে গরীবের ঈদ- আমি পবিত্র হয়ে সালাতে যাবো। খানিক ইবাদত করবো- এইতো ধারণা আমাদের! কিন্তু খৈয়াম একি বললো!এসময়ে কেউ এটা লিখলে আমাদের মুসল্লীরা কি বলবে? মোল্লা-হুজুরগণের ফতোয়া কি হবে তার ব্যাপারে?

আসলে আমি হুজুরদের সাথে কখনও আলেম ব্যাবহার করিনা – তারা মোল্লা ও হুজুর- আলেম নাহ- আলেম হতে পারেননি। আচ্ছা, তো এই শেরের প্রতিক্রিয়া কাফের- মুরতাদ বা যে কোন অপবাদে গিয়ে শেষ হতো। অবশ্যই এমনটা হতো। আপনিও আপনার সমাজ ও মুসলিম কমিউনিটিকে চিনেন- চিন্তার দৈন্যতা আপনি জানেন- ভাবনার ক্ষমতা ও বোঝার ক্ষমতা এ কমিউনিটির এখন মারাত্মক নিম্ন পর্যায়ে।

কিন্তু খৈয়ামের বুঝটা দেখুন- শরাব শব্দের আভিধানিক অর্থ মদ, সাকি শব্দের অর্থ মদ্য পরিবেশনকারী তরুণ বা তরুনী। পার্থিব জীবনে শরাব নিষিদ্ধ – জান্নাতে সিদ্ধ। আপনি সুরা দাহরের ২১নং আয়াতে গিয়ে দেখুন। খোদা নিজের জন্য নিজেই ইউজ করেছেন “সাকাহুম”। নিজেই জান্নাতীদের মদ পরিবেশন করবেন। মানে তিনি নিজেই বলছেন – তিনিই সাকী’র ভুমিকায় থাকবেন। তার মানে, আল্লাহ হবেন শরাব পরিবেশনকারী তরুণ তরুণীটির মত- তথা সাক্বি।

প্রশ্ন জাগে তাহলে শরাব কি? মনীষীরা বলেছেন, শরাব হলো জ্ঞান। শরাব পরিবেশনকরার অর্থ হলো জ্ঞান পরিবেশন করা। এই শরাব প্রেমাস্পদের অমৃত বচন। যে জ্ঞানের জন্য তৃষিত ছিল প্রেমিক ; আজ প্রেমাস্পদ স্বয়ং নিজ হাতে সেই জ্ঞান তৃষ্ণা নিবারণ করবেন। অর্থাৎ প্রেমিকের কাছে উন্মুক্ত করে দেবেন জগতের সব রহস্য এবং প্রেমিককে আপন সত্তার অন্তর্ভুক্ত করে নেবেন। প্রকৃতিতে এতো কিছু থাকতে জ্ঞানের রূপক শরাব হলো কেন? জান্নাতে শরাব কেন? সেখানে শরাবের ঝর্ণা কেন?

মনিষীরা বলেন কারণ সম্ভবত এই যে, আঙুর থেকে শরাব হয় ; আঙুরগুলো একটি থেকে অন্যটি পৃথক থাকে কিন্তু শরাবে রূপান্তরিত হয়ে আঙুরগুলো তাদের বিচ্ছিন্নতা হারিয়ে ফেলে এবং একত্বকে ধারণ করে। ফানা বা বিলিন হয়ে যায়।

জীবাত্মাও যখন অহং হারিয়ে ফেলে তখন একত্বের স্বাদ অনুভব করে। তাই জ্ঞানের রূপক শরাব। একত্বে থাকা জ্ঞান – বহুত্বে থাকা অজ্ঞান। আবারো প্রশ্ন জাগে স্রষ্টা কেন সাকি?এতো ভালো ভালো শব্দ থাকতে মদ্য পরিবেশনকারী তরুণী কেন তাঁর রূপক? মনিষীরা বলেন কারণ জ্ঞান যে পরিবেশন করে তার সঙ্গে গ্রহণকারীর থাকে প্রেমের সম্পর্ক। তরুণীর প্রেমে মত্ত তরুন বহু দুর্গম পথ পাড়ি দেয়। প্রেমাস্পদের শরাব পানকারী মাতালের দেহ মন আত্মা আবদ্ধ থাকে প্রেমের বন্ধনে তাই প্রেমিকের মৃত্যু নেই।

সূফি ছাড়া আর কেউ স্রষ্টাকে ‘সাকি’ সম্বোধন করে না। সূফি শব্দটির পারিভাষিক তাৎপর্য হলো প্রেমিক। সাকি প্রেমাস্পদ। প্রেমিক ও প্রেমাস্পদের মিলনে যা ঘটে তাই হলো শরাব। আচ্ছা, এতটুকু ভাবনার সময় কি আছে বর্তমান কমিউনিটির। আমরা সকল চিন্তককে কেবল পর করছি। কাউকে আপন করছি না – উপলব্ধি করছি না।

মহান সুফী লালনকে আমরা আমাদের কেউ ভাবি’ই না। তাকে চিন্তা করার আগে বরঞ্চ তাকে ধর্ম থেকে বের করে শান্তি খুঁজে আমাদের মোল্লারা। এরা মোল্লাই রইলো- ইকবালদের মত আলেম হয়ে উঠেনি। ড.ইকবালের শিকওয়ার প্রেক্ষিতে আমাদের মোল্লাদোর আচরণ তাদের চিন্তাগত দৈন্যতার অন্যতম নিদর্শন।“তুযকো মালুম হে, লেতাথা কোয়ি নাম তেরা?কুওয়াতে বাজুয়ে মুসলিমনে কিয়া কাম তেরা!””তেরে নাম পর্ তলোয়ারের উঠায়ে কিসনে?বাত যো বিগড়ে হুয়েথে, ও বানায়ে কিসনে?””তেরে ক্বাবা কো যাবিনো সে বাঁচায়া হামনেতেরে কুরআনকো সিনাসে লাগায়া হামনেফেরভী হামসে ইয়ে মিলা হে কি ওফাদার নেহী!?হাম ওফাদার নেহী, তু ভী তো দিলদার নেহী।”

শিকওয়া (the Complaint) কবিতায় যখন খোদাকে এমন একের পর এক অভিযোগ ও প্রশ্নবানে জর্জরিত করছিলো ইকবাল- তখন চিন্তাগতভাবে জবাব দানে অক্ষম মোল্লারা চারিদিকে তাকে কাফের বলার ঢেউ তুলে দিয়েছিলো। তারা ইকবালের বেদনা বুঝতেই পারেনি। শেষমেশ এই কমিউনিটি ততটুকু চিন্তা করতে পারবেনা নিশ্চিত হয়ে ড. ইকবাল এসকল অভিযোগগুলোর খোদার পক্ষ থেকে জবাব লিখতে বসলেন। কবিতার নাম দিলেন জওয়াবে শিকওয়া। এটা যখন মোল্লারা পড়লো- যারা কাফের ঘোষনা করেছিলো ক’দিন আগে- তারাই এই মহান ইসলামি চিন্তাবিদকে ‘আল্লামা’ উপাধি দিলো। সেসব অদক্ষ মোল্লাদের উৎরসুরি বর্তমান কাওমী হুজুরগণ ইকবালকে বুঝুক না বুঝুক- তার দুয়েকটা শের ঠিকি ওয়াজে বলে থাকেন।

কিন্তু এদের সামনেই আজ এমন করে কেউ যদি ইকবালের মত খোদাকে অভিযোগ ও প্রশ্ন করে তাহলে কি হবে বলুন তো?নিশ্চিত ভাবে তার মৃত্যুদন্ড চেয়ে বসবেনা? তাকে কতল করলে সওয়াব এমন ফতোয়া দিবেনা? তাকে মুরতাদ কাফের ফতোয়া দিবেনা?এই আধুনিক যুগে এসেও সালাফী চিন্তাধারা মুসলিমদের চিন্তাকে কিভাবে আক্রান্ত করছে তার বলার অবকাশ নেই। আমরা এখনও অক্ষর নিয়ে আলোচনা করি- কিন্তু তার ভেতরের কারণ- তত্ত্ব ধরার যোগ্যতা হয়ে উঠেনি এখনও এ সম্প্রদায়ের। কবি নজরুল ইসলামের কথাতো জানেনই। কুমিল্লায় একদিন প্রসঙ্গত বলেছিলেন; “খোদার বক্ষে লাথি মার”।

এই কথা বলার পর সারা কুমিল্লা উত্তাল হয়ে গেল। মোল্লারা একযোগো কবিকে কাফের ঘোষনা দিলেন। তারা ঘোষনা করলেন- যে মানুষ খোদার বুকে লাথি মারতে পারে সেই বেয়াদবের জায়গা এই দেশে হবেনা। কবিকে বলা হল এর জবাব দিতে হবে। কবি বললেন, ঠিক আছে আমি জবাব দেবো। আপনারা একটি সমাবেশের আয়োজন করেন। আয়োজন সম্পন্ন হল। হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হলো। সবাই কবিকে বেইজ্জত করার শতভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন করল। কবি মঞ্চে উঠে শুধু দুইটি কথা বললেন।

তিনি বললেন; “খোদা নিরাকার। যে খোদার বুক আছে সেই খোদার বুকে লাথি মারতে বলেছি।”আপনি কি জানেন- বহু সকার লোকজন আপনার খোদা সেজে বসে আছেন? বহু মোল্লা আপনার খোদা হয়ে বসে আছেন- তারা যা হালাল বলছে – হালাল মানছেন; আর যা হারাম বলছে – হারাম মানছেন। অথচ হালাল হারাম বলার এখতিয়ার তো কেবল খোদার- তার কোরআনের। তাহরীম:০১ আয়াত দেখুন। কিছুকে হারাম করার এখতিয়ার মুহাম্মদেরও নেই। নবীকে যে মর্যাদা দেয়া হয়নি- সে হালাল- হারাম কারী কেউ আপনার উপর খোদা সেজে আছে।

আপনার বস- আপনার খোদা হয়ে গেছে; নিঃশর্ত আনুগত্য করছেন তার! আপনার নেতা আপনার খোদা বনে বসেছে- নিজস্বতা খুঁইয়ে খোদার মত আনুগত্য করছেন তার। আপনি এমন বহু খোদার দাস হয়ে আছেন- এসবের বুকে লাথি মারুন। অনেকে বলেন নজরুল মুর্তির কথা বুঝিয়েছেন- কারণ মূর্তি সকার। এটা ভুল মনে হয় আমার- নজরুল এমন চিন্তা কখনও লালন করতেন না। অন্য ধর্মকে ছোট মনে করা বা হিংসা করার শিক্ষা নজরুল দেননি কখনও।মোল্লাদের পিছে ঘোরা সস্তা মুসলিম নামধারী ভেড়ার পাল আর পীর সেজে বসে নুরাণী জর্দা দিয়ে পান খাওয়া অচিন্তক মোল্লারা কবির “খোদা নিরাকার। যে খোদার বুক আছে সেই খোদার বুকে লাথি মারতে বলেছি।”

এ কথা শুনে চুপসিয়ে গেলো। আপনার কি মনে হয়- এসময়ে থাকলে নজরুল গোপনে বা প্রকাশ্যে খুন হয়ে যেত না? এখন তাকে হত্যা করে গর্বের সাথে জেলে যাওয়ার মত উগ্র লোক এভেইলেবল। তার কথার হিকমত নিয়ে চিন্তা করতো কেউ? নাকি টেক্সট ধরেই তাকে শেষ করে দিতো? অবশ্যই তাই করা হতো। দিনদিন মুসলিম যুবকরা সালাফী আগ্রাসনে নিমজ্জিত হচ্ছে।

যারা সামান্য রূপক ধরতে পারেনা- কথায় কথায় জায়েজ না-জায়েজ- কাফের বা ধর্মচ্যুত- হারাম হারাম বলে মুখে ফেনা তোলা মোল্লারা – আপনি কি করে বিশ্বাস করেন তারা মুহাম্মাদের এত ওজনদার কথাগুলোর সঠিক মিনিং বুঝবে? কি করে বিশ্বাস করেন যাদের চিন্তা নজরুলের যুগের মোল্লাদের চে’ নিচুতে এসে নেমেছে তারা কি করে- কোনটা নবীর কথা বা কোনটা ভুয়া- কোন কথা দ্বারা নবী কি বুঝিয়েছেন – এটা তারা বুঝবে? এটা বিশ্বাস করলে – আপনি বৃটিশ সালাফিজমে আক্রান্ত হবেন সুনিশ্চিত। আপনার বুদ্ধিবৃত্বিক জায়গাটা বিনষ্ট হবে এটা সুনিশ্চিত ।

এ সময়ের মুসলিমদের মস্তিষ্কের অবস্থা দিনদিন শোচনীয় পর্যায়ে যাচ্ছে – চিন্তা ও দর্শনের জায়গায় যোজন যোজন পিছিয়ে পড়ছে তারা। সালাফী ইসলাম যুক্তি ও বিবেচনার জায়গাটা বিনষ্ট করে দিচ্ছে। বর্তমান কমিউনিটির দিকে তাকিয়ে হতাশা ছাড়া কিছুই দেখিনা। কেনই বা হতাশা আসবেনা বলেন? এ কমিউনিটির একসময়ের চিন্তক ছিলো- হাসান আল বান্না ও সাইয়েদ কুতুব শহীদেরা; এখন এদের চিন্তাগত আইডল এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীরা। একসময়ের এদের মাওলানা ছিলো সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদীরা আর আব্দুর রহিমেরা- এখন পুঁজিবাদী মোল্লা আহমাদুল্লাহ আর মামুনুল হকেরা!

একসময়ে এ উম্মহের ‘আল্লামা’ ছিলো ড. ইকবালেরা- এখন আজহারীরা। একসময়ে এ উম্মাহের শিক্ষক ছিলো- ইমাম হানাফী বা শাফেয়ীরা- এখন এরা শেখে আরিফ আজাদের কাছ থেকে। হতাশা! লজ্জা! এদেরকে তৃতীয়স্তরের আলেম থাকতে দিইনি আমরা- জোর করে এদের দার্শনিক আলেমের দরজা দিয়েছি। ইসলাম মানেই এরা- এটা বুঝতে শুরু করেছি- অথচ ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক আলেমদের চে’ এরা বহু যুগ পিছিয়ে আছে!

এখন উম্মাহের যুবকেরা ‘দাওয়াম’ খুঁজেনা- বেলা ফুরাবার আগে’ পড়ে ফ্যান্টাসি পায়! ‘ইসলামে ধর্মীয় চিন্তার পুনর্জাগরণ’ খুঁজেনা এরা- এরা ‘ম্যাসেজ’ পড়ে ধর্ম বুঝে। এরা ‘ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার দ্বন্দ্ব’ খুঁজেনা- এদের ডা.ইব্রাহীম আর কিংগোপলির ভিডিও ঢের ধর্ম শেখায়! এরা ইমাম গাজালীকে চেনার চে’ আরিফ আজাদকে দেখবার খায়েশে বেশি ভুগে। ইবনে আরাবী পড়ার চে’ আহমাদুল্লাহকে বেশি ভালো পায় এরা। রুমিকে চেনার চেষ্টা নাই- নাই বদিউজ্জামান নূরসীকে জানার খায়েশ।

ইসলামী আন্দোলন করে- অথচ নাজিমুদ্দিন এরবাকানকে জানতে চায়না- চায়না আবুল আলা মওদূদীকে চিনতে। চায়না আবু তাহের মিসবাহকে খানিক পড়তে। মুহাদ্দিস দেহলভীর চে’ এদেরকে সাইফুল্লাহ হুজুর বেশি আকৃষ্ট করে। লজ্জা! এটা জ্ঞান শেখার চেষ্টা না ভাই! এটা সেলিব্রিটিজমে ভোগা চিন্তার জগতে শূণ্য মুসলিম যুবকের বৈশিষ্ট্য। কোথায় যাচ্ছি আমরা? কোন অতলে হারাচ্ছি? বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন কি আর কভু সম্ভব হবে এ উম্মাহের? কখনও কি চিন্তার জগতে এরা ইসলামের সামগ্রিকতা ধরতে শিখবে? নাকি হারিয়ে যাবে কোনো অন্ধকারে! জানিনে। আমি জানিনে।

◻️

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন