বুধবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২১; ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ


হামযা- ফোফানাদের পরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে মাঠে হাটলেন পগবা-আমেদরাও৷ এই দৃশ্যগুলো প্রচন্ড সুন্দর। তবে যারা ফুটবলের খোজ খবর রাখেন তারা জানেন, সাধারণত ফিলিস্তিনের সাথে এই ধরনের সংহতি জানানোকে ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রকরা ভালো চোখে দেখেন না৷ নানান ধরনের নিষেধাজ্ঞা জরিমানার মুখামুখি হতে হয় ক্লাব বা ফুটবলাদের৷

তবে আশার কথা হলো এবারের মত হামজা-পগবাদের কোনো ঝামেলায় পড়তে হবেনা৷ কারন ইংলিশ লীগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে পতাকা উড়ানোকে তারা আপাতত অপরাধ হিসাবে দেখছেন না৷ এটা অবশ্যই ফুটবল প্রেমীদের জন্য খুশির এবং ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলনের জন্যেও স্বস্তির খবর।

কিন্তু ইউরোপীয় ফুটবলে এটাই প্রথম কোনো সংহতির খবর নয়৷ ইউরোপের সব থেকে প্রো-প্যালেস্টাইন দেশ ধরা হয় আয়ারল্যান্ডকে এবং সব থেকে প্রো- প্যালেস্টাইন ফ্যানবেজ স্কটিশ ক্লাব সেল্টিক-এর।

বিগত বছরগুলোতে বহুবার সেল্টিক ফ্যানরা ফিলিস্তিনের সাথে সংহতি জানিয়ে শিরোনাম হয়েছে৷ কখনো কখনো জরিমানা এবং নিষেধাজ্ঞার মত হ্যাপায়ও পরতে হয়েছে৷ কিন্তু তবেও নিয়মিত বিরতিতে এটা ঘটে৷ সেল্টিক ফ্যানদের যেকোনো অকেশনে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে,কুফিয়া পরে ম্যাচ দেখতে যাওয়া সাধারণ ঘটনা৷

চলমান সংঘাতেও সবার আগে সেল্টিক ফ্যানরাই ফিলিস্তিনের সাথে সংহতি জানিয়েছিলো৷ সদ্য অবসরে যাওয়া ক্লাবটির তারকা ফুটবলার স্কট ব্রাউনকে বিদায় জানাতে ক্লাব অথরিটি অল্প কিছু ফ্যানদের স্টেডিয়ামে ঢোকার অনুমতি দিলে – ফ্যানরা মাঠে প্রবেশ করে গ্যালারি ফিলিস্তিনের পতাকায় সাজিয়ে দিয়েছিলো৷ যদিও পরে ক্লাব কর্তৃপক্ষ পতাকা সরিয়ে ফেলে।

এর আগেও কয়েকবার সেল্টিক ফ্যানদের ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানানোর ‘অপরাধে’ তাদের জরিমানা করা হয়েছে৷ তবুও সেল্টিক ফ্যানরা মনে করে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানানো তাদের দায়িত্ব।

অপরদিকে আইরিশদের ইতিহাস তাদের বারবার দাড় করিয়ে দেয় ফিলিস্তিনের পাশে৷ রক্তাক্ত এক স্বাধীনতা জন্য তাদেরও লড়তে হয়েছিলো একদা দখলদারদের বিরুদ্ধে। এবং এখনো নিজের একটি অংশকে একত্র করতে পারেনি৷

সম্ভবত এজন্য ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনি সংহতি আন্দোলনকে ‘এন্টি-সেমিটিজমের’ সাথে মিলিয়ে শক্ত হাতে দমন করা হলেও আয়ারল্যান্ডে এটাকে রীতিমতো রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানো হয়৷

২০১৮ সালে আইরিশ সিনেটে ‘অকুপাইড টেরিটোরির বিল’ প্রস্তাব করেন একজন সিনেটর৷ এই বিলের অধীনে অবৈধ ইসরাইলি সেটেলমেন্টের সাথে জড়িতদের কাছে কোনো ধরনের পন্য কেনাবেচাকে আর্থিক এবং শারিরীক শাস্তি যোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হয়৷ যদিও বিলটি শেষ পর্যন্ত আইন হতে পারেনি

এবং ফিলিস্তিনের পতাকাকে রাষ্ট্রীয় অনেক স্থাপনায় মাসব্যাপি প্রদর্শন করারও সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। যেমন ডাবলিন সিটি কাউন্সিল হলে মাস ধরে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়ছিলো ইজরাইলি অকুপেশনের বর্ষপূর্তির প্রতিবাদে। আইনতও সেখানে ফিলিস্তিনিদের প্রতি আরো সংহতির পরিসর তৈরী করার চেষ্টা দেখা যায়৷ পাশাপাশি বিডিএস ক্যাম্পেইনও আয়ারল্যান্ডে বেশ জনপ্রিয়।

গাজায় চলমান আগ্রাসনের প্রতিবাদেও আয়ারল্যান্ডের বড় বড় সংহতি সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে৷ পাশাপাশি চলছে হিউম্যানিটারিয়ান রিলিফও।

প্রতিবাদ হয়েছে সেল্টিক ফ্যানদের থেকেও। একটি জনপ্রিয় ক্যাম্পেইন আছে সেল্টিক ফ্যানদের। সম্ভবত গ্রিন নামে৷ প্রায়ই দেখা যায় ফিলিস্তিনে পাঠানোর জন্য গ্রিন ভোলান্টিয়ারা ৫০ হাজার পাউন্ড ক্রাউড ফান্ডিং শুরু করলো কিন্তু সমার্থকরা ১ লাখ পাউন্ড দান করে দিয়েছে৷ সংহতির শক্তি এতটাই৷

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন