, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১; ১০:১৬ অপরাহ্ণ


Sri Lanka Crisis
Sri Lanka Crisis

সম্প্রতি বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার তার এক গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুরাষ্ট্র শ্রীলংকাকে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দিয়ে আবারও বিশ্ব অর্থনীতির আলোচনায় চলে এসেছে। এই ঋণ সহায়তা একটি বিশেষ ধরণের ঋণ যাকে অর্থনীতিতে কারেন্সি সোয়াপ বলা হয়। যার মানে হলো বাংলাদেশ ঋণ দিবে মার্কিন ডলারে কিন্তু সুদসহ এই ঋণ ফেরত নিবে শীলংকান রূপিতে যেটা শ্রীলংকা আন্তর্জাতিক সার্বভৌম ঋণ বাজার থেকে নিলে উচ্চ সুদে ডলারেই ফেরত দিতে হতো। এটি বাংলাদেশের এই প্রথম কোন দেশকে ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করার নজির। এই লেখায় আমরা শ্রীলংকার অর্থনীতির বর্তমান ট্রেন্ড নিয়ে বিশদ আলোচনা করবো।

শ্রীলংকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ

“হাজার বছর ধরে আমি পথ হাটিতেছি পৃথিবীর পথে

সিংহল সমুদ্র থেকে নিশিথের অন্ধকারে মালয় সাগরে”

রুপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতায় উঠে আসা সেই সিংহল সমুদ্রের দেশ শ্রীলংকা দক্ষিণ এশিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র যা আজকের ইন্ডিয়ার উপকূল থেকে ৩১ কিমি ভেতরে অবস্থিত। ১৯৭২ সালে অফিসিয়ালি নাম পরিবর্তন করার পূর্ব পর্যন্ত শ্রীলংকাকে সিলন নামে ডাকা হতো। ব্রিটিশরা একে ডাকতো ব্রিটিশ সিলন বলে। ১৯৪৮ সালে শ্রীলংকা ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। সিলন শব্দটি এসেছে তামিল ভাষার শব্দ সেরেন্টিভু থেকে যার অর্থ পাহাড়ী দ্বীপ। অন্যদিকে শ্রীলংকা একটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ যার অর্থ সুন্দর বা সাজানো দ্বীপ। ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পরেও শ্রীলংকার রাষ্ট্রভাষা ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ইংরেজি ছিল। এর পর সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যার ভাষা সিংহলিকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সিংহলি সম্প্রদায় এই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী যারা মোট জনসংখ্যার ৭৫ ভাগ। প্রাচীনকাল থেকেই শ্রীলঙ্কা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত এবং বর্তমানেও দেশটির জনসংখ্যার ৭০% বৌদ্ধ, এর পর রয়েছে হিন্দু যারা ১২.৬% ও মুসলমান ৯.৭%। স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে দেশটির উত্তর পূর্বাঞ্চলের ১২% তামিল দেশের সর্ববৃহৎ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যারা দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলী কর্তৃক ভাষা ও সরকারে তামিলদের বঞ্চনার প্রতিবাদে সশস্ত্র তামিল জাতীয়তাবাদী স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয় ১৯৭৬ সালে এবং ২০০৯ সালের সর্বশেষ সর্বাত্মক যুদ্ধে তামিল নেতা ভিলুপিল্লাই প্রভাকরণ নিহত হলে গৃহযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে।

অর্থনীতির প্যাটার্ণঃ

১৯৪৮ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত শ্রীলংকার অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারায় চলে আসছিল এবং একটি একরকম কল্যাণ অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়। ১৯৭০ সালে শ্রীলংকার সাধারণ নির্বাচনে জিতে বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে শ্রীলংকার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৭২ সালে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করেন। সে সংবিধানেই প্রথম এই ভূখন্ডকে সিলন থেকে রিপাবলিক অব শ্রীলংকা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু ১৯৭৭ সালে জুনিয়াস রিচার্ড জয়াবর্ধনে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং নতুন সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেন। নতুন সংবিধানে শ্রীলংকার সরকার ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতিশাসিতকরণ সহ অর্থনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ নেন। সে প্রেক্ষাপটে ১৯৭৭ সালে মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রচলণ শুরু হয় যার ফলে বেসরকারীকরণ, ডিরেগুলেশন, ব্যক্তিমালিকানা শিল্পকে প্রণোদনাসহ অনেকগুলো উদ্যোগ নেওয়া হয়। চারদিক সমুদ্র দিয়ে ঘেরা দেশটির বর্তমান অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি পর্যটন, চা, কফি, নারিকেল, রাবার, গার্মেন্টস ও কৃষি। দেশটির মোট জিডিপি বা আভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ৫৮% আসে সেবা খাত থেকে, ২৮% শিল্প থেকে ও ১২% আসে কৃষি থেকে। যার প্রোপোরশন বাংলাদেশের অনেকটা কাছাকাছি। দেশটির মোট অর্থনীতির ৮৫% প্রাইভেট বা ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান।

শক্তিশালী অর্থনীতি হিসেবে শ্রীলংকার উত্থান মূলত একবিংশ শতাব্ধীর শুরু থেকেই। ২০০৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত শ্রীলংকার অর্থনীতি বছরে গড়ে ৬% হারে বৃদ্ধি পায়। মাথাপিছু আয় ২০০৫ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে যায়। এই সময়ের মধ্যে শ্রীলংকায় দারিদ্র্যের হার সর্বনিম্নে নেমে আসে। কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জের আকার ৪ গুণ বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে শীলংকার বাজেট ঘাটতিও দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় ও মানব উন্নয়ন সূচকে .৭৮ স্কোর নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোকে অতিক্রম করে।

ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক ফর রিকন্সট্রাকশন এন্ড ডেভেলাপমেন্ট (আইবিআরডি) যেটিকে আমরা পপুলারলি বিশ্বব্যাঙ্ক নামে চিনে থাকি সেই বিশ্বব্যাংক বর্তমানে পৃথিবীর দেশগুলোকে মাথাপিছু আয়ের হিসাবে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেঃ উচ্চ আয়ের দেশ, উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ, নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ ও নিম্ন আয়ের দেশ। সে বিভাজন অনুযায়ী ১৯৯৭ সালে শ্রীলংকা প্রথমবারের মতো মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয় তখন নিম্ন ও উচ্চ মধ্যম আয় আলাদাভাবে ভাগ করা ছিল না। ২০১৮ সালে শ্রীলংকার মাথাপিছু আয় ছিল ৩৯৬৮ মার্কিন ডলার যেটি ২০১৯ সালে কমে দাঁড়ায় ৩৭৪১ মার্কিন ডলারে। অথচ ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংক শ্রীলংকাকে মাথাপিছু আয়ের প্রেক্ষিতে আপার মিডল ইনকাম গ্রুপ বা উচ্চ মধ্যম আয়ের গ্রুপে ক্লাসিফাই করেছিল। কিন্তু নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আবার শ্রীলংকা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের গ্রুপে ঢুকে পড়ে। এই ঘটনায় যদিও মূল দায় করোনার কিন্তু এই পরিস্থিতি সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে শ্রীলংকার ঋণ সংকট। পৃথিবীতে খুব কম অর্থনীতিই এক বছরের ব্যবধানে এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়।

শ্রীলংকার ডেট রেটিং কমেছে কেনো?

একটা দেশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কতো শতাংশ হারে ঋণ নিতে পারবে তা নির্ভর করে দেশটির অর্থনীতির শক্তিমত্তার উপর। মানে দেশটি যে ঠিকঠাকমত ঋণ ফেরত দিতে পারবে তার গ্যারান্টি কেমন তার উপর। ঋণের এই রিস্ক এসেসমেন্টের জন্য বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত কিছু ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি আছে যারা দেশগুলোকে বিভিন্ন মানদন্ডের উপর রেটিং করে। যদি রেটিং ভালো হয় তবে কম সুদেই বড় ঋণ পাওয়া যাবে।

২০২০ সালে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলোর প্রায় সবগুলোই শ্রীলংকার রেটিং কমিয়ে দেয়। স্টান্ডার্ড এবং পুওর B- থেকে CCC+, মুডিস দুই ধাপ নামিয়ে Caa1, ফিচ B- থেকে CCC। এই সবগুলোর রেটিংই শ্রীলংকার অর্থনীতির নাজুক অবস্থা, সীমিত অর্থসংস্থানের উৎস এবং দূর্বল আর্থিক খাতকেই তুলে ধরে। তাছাড়া এমার্জিং বন্ড মার্কেট ইনডেক্সে শ্রীলংকার ঋণ ২০২০ সালের ৫১৭ থেকে বেড়ে ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে ১৯৭৫ পয়েন্টে পৌঁছায়। ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলোর এই নেতিবাচক রেটিং এর কারণে আন্তর্জাতিক মার্কেট থেকে শ্রীলংকার ঋণ নেওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে পড়ে।

কিন্তু এই সংকটের শুরু হয় আরো আগে। ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কা প্রথমবারের মতো ইন্টারন্যাশনাল সভরেন বন্ড (আইএসবি) ছাড়ে, যার মূল্য ছিল ৫০০ মিলিয়ন ডলার। ধীরে ধীরে দেশটি বাণিজ্যিক ঋণ গ্রহণের আইএসবির নির্ভরশীলতা বাড়াতে শুরু করে। এই ধরণের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ পাঁচ থেকে ১০ বছর। ঋণ পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত কোনো সময়ও পাওয়া যায়না এবং সুদের হার ছয় শতাংশের বেশি। তাছাড়া এই প্রক্রিয়ায় সভরিন বন্ডের মোট ধার করা পরিমাণ, বন্ডের মেয়াদপূর্তির সময়ে একবারে নিষ্পত্তি করতে হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থার সহজ শর্তের ঋণের মতো বছরের পর বছর ধরে পরিশোধের সময় থাকে না। তাই, যখন কোনো আইএসবির মেয়াদ পূর্ণ হয়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে এবং শ্রীলংকার ঋণ পরিশোধের সময়গুলো এই অসময়ে এসে দরজায় কড়া নাড়ছে।

২০১৬ সালে শ্রীলংকার প্রথম ঋণ সংকটের সময় আইএমএফ বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ১.৫ বিলিয়ন ডলারের বেইলআউট দেয়। তখন শ্রীলংকার মোট ঋণ ছিল ৬৪.৯ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালে চীন ১.২৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়। তাছাড়া শ্রীলংকা চীনের কাছ থেকে সর্বমোট ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে। ২০২০ সালের শেষের দিকে, সভরেন বন্ডের মাধ্যমে নেওয়া ঋণ শ্রীলঙ্কার মোট বকেয়া বৈদেশিক ঋণের ৫০ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায়। শ্রীলংকাকে এই বছর বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে ৪ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার কিন্তু এখন পর্যন্ত শ্রীলংকার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মাত্র ৪ বিলিয়ন। ৮৪ বিলিয়ন ডলারের শ্রীলংকার অর্থনীতির জন্য এই বোঝা বেশ ভারীই বলতে হবে। ২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কার কর-জিডিপির অনুপাত ছিল ১২ দশমিক দুই শতাংশ। শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ কয়েক মিলিয়নের মধ্যে আটকে আছে।

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ না পাওয়ার এই সংকটের মধ্যে শ্রীলংকা ভারতের কাছেও ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়ে পায়নি। যদিও ভারত ২০০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিল ৬ মাসের জন্য যা ইতিমধ্যেই ফেরত দিতে হয়েছে। শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসে বাংলাদেশের কাছেও ঋণ সহায়তা চাইলে বাংলাদেশ ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণদানে সম্মতি জানায়।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এ থেকে কি শিক্ষা নিতে পারে?

দেশটির বিপদ থেকে বাংলাদেশের শিক্ষা নেওয়ার মতো অনেক কিছু রয়েছে। সরকারী খরচের বিষয়ে সরকার যদি এখনই সতর্ক না হয়, তবে কয়েক বছর পর বাংলাদেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হওয়ার আশঙ্কা আছে। কারণ, দুই দেশের অর্থনীতির দুর্বল দিক একই- স্বল্প কর, রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা এবং স্বল্প পরিমাণে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ। তবে বাংলাদেশ এখনো স্বল্পোন্নত দেশ। ফলে বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার মতো বহুপাক্ষিক ও দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতাদের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধায় ঋণ নেওয়ার সুযোগ আছে বাংলাদেশের। ২৫ থেকে ৪০ বছরের দীর্ঘ মেয়াদের এসব ঋণ পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত আরও সময় পাওয়া যায়। পাশাপাশি, এসব ঋণের সুদের হার দুই শতাংশেরও কম।

তবে, রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি বা দুটি উৎসের উপর নির্ভরতা আর অদক্ষ শ্রমিকের মাধ্যমে অর্জিত প্রবাসী আয়ে, আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে কোনো সংকট দেখা দিলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে; যেটা বৈশ্বিক কোভিড পরিস্থিতিতে শ্রীলংকার ক্ষেত্রে ঘটেছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ১৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ-জিডিপির অনুপাত ১৪ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ায়, যা আন্তর্জাতিক মানদন্ড ৪০ শতাংশের অনেক নিচে। তবে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বাড়ছে।

২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে চলেছে। তাই, ২০২৭ সালের মধ্যেই দেশটির বিশেষ সুবিধার ঋণ পাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। সরকারকে এ বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশই পশ্চিমা উন্নত দেশগুলোতে রপ্তানি করা গার্মেন্টস শিল্পের মাধ্যমে আসে। 

আমরা যদি দ্রুত আমাদের রপ্তানিতে বৈচিত্র্য না আনতে পারি, তবে সমস্যায় পড়ব। কেবল রেমিট্যান্সের কারণে আমাদের রিজার্ভ বেশি। কিন্তু, রেমিট্যান্সের বর্তমান অবস্থা সবসময় থাকবে না। লোকজন আবার আগের মতো অবাধ যাতায়াত শুরু করে দিলে এটি কমে যেতে পারে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তখন কমে যাবে। আমাদের রাজস্বের ভিত্তি দুর্বল। জিডিপি অনুপাতে আমাদের রাজস্ব আয় বিশ্বের সবচেয়ে শোচনীয় ব্যবস্থাগুলোর একটি।’

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন