, ১ জানুয়ারি ২০২১; ১২:০১ অপরাহ্ণ


১৯৭১ সালে ভারত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল ও দেশটিকে স্বাধীন করতে কূটনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী ভূমিকা রাখা স্বত্ত্বেও অল্প সময়ের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের দেশপ্রেম ও সদ্যসৃষ্ট স্বাধীন দেশটির স্থপতি হিসেবে সার্বভৌম ভূমিকার প্রেক্ষিতে হালকা হয়ে আসতে থাকে শেখ মুজিব ও ইন্দিরা গান্ধী সম্পর্ক। এর মধ্যে তিনটি প্রধান কারণ ছিল আন্তর্জাতিক নদী পদ্মায় ভারত কর্তৃক ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ, ১৯৭১ সালে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের অনেকেই বাংলাদেশে ফেরত না আসা ও ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভূট্টোকে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে ঢাকায় নিয়ে এসে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া।

কিন্তু সম্পর্কের এই টানাপোড়েন কি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে শেখ মুজিবের নির্মম হত্যাকান্ডের পরও ইন্ডিয়া থেকে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া আসেনি। সেটা নিয়ে খোদ ভারতের বিভিন্ন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মধ্যে রয়েছে বিতর্ক। ২০১৬ ও ২০১৮ সালে এ বিষয়ে বিবিসি বাংলা কয়েকটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে উঠে এসেছে এ বিষয় বেশ কয়েকজন কূটনৈতিকের ভাষ্য যারা তখন এবং এর আগেপরে ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডের ঘটনা যদিও অপ্রত্যাশিত ছিল তবুও এর প্লট তৈরি হচ্ছিল তখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যা হয়তো বঙ্গবন্ধু আঁচ করতে পারেননি তার অতি আত্মবিশ্বাসের কারণে। এর একটি প্রমাণ পাওয়া যায় জেনারেল দীপংকর ব্যানার্জির বক্তব্যে– ”রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (‘র’)-এর প্রধান আর এন কাও ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় গিয়ে খোদ মুজিবকে বলেও ছিলেন যে তাঁর জীবনের ওপর হামলা হতে পারে, কিন্তু মুজিব তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে বলে ওঠেন, ওসব হতেই পারে না। গোটা বাংলাদেশ আমাকে ভালবাসে, ওরা সবাই আমার ছেলেমেয়ের মতো – কে আমাকে মারতে যাবে? আপনার এসব জল্পনায় কান দেওয়ার কোনও দরকার নেই,”।

এ প্রসঙ্গে নজর দেওয়া যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরির নিবন্ধ তাজউদ্দীনের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর দূরত্ব সৃষ্টি করে বাকশাল যেখানে তিনি জানান – “১৯৭৪ সালে বিভিন্ন সময় তাজউদ্দীন তাঁর স্ত্রীকে বলেছেন, ‘তুমি বিধবা হতে চলেছ। মুজিব ভাই বাঁচবেন না, আমরাও কেউ বাঁচব না। দেশ চলে যাবে স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে।’  এবং সে প্রেক্ষাপটে ১৯৭৪ সালের ২৬শে অক্টোবর তাজউদ্দীন শেখ মুজিবের মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন।”

তাজউদ্দীন আহমেদের এই আশংকা অমূলক ছিল না যেটা তাদের সবাইকে জীবন দিয়েই প্রমাণ করতে হয়েছে।

বাকশাল (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর) এবং জাতীয় লীগ নিয়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট। বাকশালের সাথে দ্বিতীয় বিপ্লব নামে একটি রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বিভিন্ন আলোচনায় এসেছে। কেন বাকশাল গঠন করতে চেয়েছিলেন সে প্রসঙ্গে শেখ মুজিব বলেন,

সমাজ যেন ঘূণে ধরে গ্যাছে। এ সমাজকে আমি চরম আঘাত করতে চাই। এ আঘাত করতে চাই- যে আঘাত করেছিলাম পাকিস্তানীদের সে আঘাত করতে চাই এই ঘূণেধরা সমাজব্যবস্থাকে। এই যে.. নতুন সিস্টেমে যাচ্ছি আমি। গ্রামে গ্রামে বহুমুখী কো-অপারেটিভ (সমবায়) করা হবে। ভুল করেন না, আপনাদের জমি আমি নেবোনা। ভয় পাইয়েননা, কারো জমি নিয়ে যাবো তা নয়। পাঁচ বচ্ছরের প্লানে বাংলাদেশের পয়ষট্রি হাজার গ্রামে একটা করে কো-অপারেটিভ হবে; প্রত্যেক গ্রামে। এই কো-অপারেটিভ (এ) জমির মালিক জমিরই (মালিক) থাকবে কিন্তু তার অংশ যে বেকার প্রত্যেকটা মানুষ, যে মানুষ কাজ করতে পারে তাকে সেই কো-অপারেটিভের সদস্য হতে হবে। এবং বহুমুখী কো-অপারেটিভ হবে। আলটিমেটলি পয়ষট্রি হাজার ভিলেজে একটা করে কো-অপারেটিভ করা হবে;পাঁচ বছরের প্লান নেয়া হয়েছে।.আস্তে আস্তে ইউনিয়ন কাউন্সিল ঐ টাউটের দল বিদায় দেয়া হবে।পাঁচশ থেকে হাজার ফ্যামিলি পর্যন্ত কমপোলসারি কো-অপারেটিভ। আপনার জমির ফসল আপনি নেবেন, অংশ যাবে কো-অপারেটিভের, অংশ যাবে গভর্ণমেন্টেএইভাবে একটা সিস্টেম আমি চিন্তা করেছি এবং করবো বলে ইন শা অল্লাহ আমি ঠিক করেছি। আমি আপনাদের সাহায্য সহানুভূতি চাই।

শেখ মুজিবের বক্তৃতা শুনলে মনে হয় বাকশাল ছিল এমন এক ব্যবস্থা যা এদেশের গণমানুষের মুক্তির সনদ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের জনগণ একটি অগণতান্ত্রিক শক্তি এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মাত্র ৪ বছর পূর্বেই অস্ত্র ধরে দেশকে স্বাধীন করেছিল। তাই যেকোন অজুহাত কিংবা প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী যা কখনোই মুক্তিযোদ্ধারামন থেকে মেনে নিতে পারেনি যেমনটি পারেননি তাজউদ্দীন আহমেদ।

এবং দেখা যায় ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান আইনী ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা সীমিত করেন, এবং চারটি সরকারি সমর্থিত সংবাদপত্র ( দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলাদেশ টাইমস্‌, দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ অবজারভার) বাদে সমস্ত সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করেন যেটি ছিল সে সময়ে জাসদের নেতৃত্বে গড়ে উঠা আন্দোলনকে দমন করার পাশাপাশি ভিন্নমতকে দমন করার হাতিয়ার।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো হয় যার উল্লেখযোগ্য দিক হলো,

  • রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার,
  • একদলীয় শাসন ব্যবস্থা
  • সরকারি চাকুরিজীবীদের রাজনীতি করার, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সৃষ্ট ‘জাতীয় দল’-এ যোগ দেয়ার সুযোগ।

এবং সবচেয়ে বড় ভুলটি ছিল ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাকশাল গঠনের জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা। পাশাপাশি ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি আমলের ঐতিহ্য ভেঙ্গে, বেসামরিক আমলাতন্ত্র ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এই পার্টিতে যোগদানের সুযোগ এবং বাধ্যবাধকতা রাখা। অনেকটা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মডেলের মতো যদিও সে প্রেক্ষাপট তখন সদ্যসৃষ্ট বাংলাদেশে উপস্থিত ছিল না। 

মূলত বাকশাল, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ ও সামরিক বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের কয়েকজনকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতের ঘটনায় সৃষ্ট অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিব ও তাঁর পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য হত্যার শিকার হন।

হত্যাকান্ডের পর শেখ মুজিবের সাবেক সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়। মুজিব সরকারের কিছু মন্ত্রী শুরুতেই মোশতাক আহমেদের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। অন্যদিকে ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর তাজউদ্দীন আহমেদ আরো চার জাতীয় নেতার সাথে জেলখানায় বন্দী অবস্থায় ঘাতকের বুলেটে নিহত হন।

শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হওয়ার ঠিক পাঁচদিনের মাথায়, ২০শে অগাস্ট ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত সমর সেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলেন বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি খোন্দকার মোশতাক আহমেদের সঙ্গে। হাসিমুখে দুজনের করমর্দনের ছবিও বেরোল ভারতের ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকার প্রথম পাতায়।

রাষ্ট্রদূত সমর সেন অবসর নেওয়ার পর ১৯৯৮ সালে ফ্রন্টলাইন ম্যাগাজিনে লিখেছিলেন, “আরও নানা কারণের সঙ্গে যখন দেখা গেল চুয়াত্তরের অগাস্ট মাসে জুলফিকার আলি ভুট্টো বাংলাদেশ সফরে এলেন, তখন শত্রুতা না হোক – ভারতের দিক থেকে একটা হতাশা অবশ্যই তৈরি হয়েছিল।” “আমার মত ছিল অপেক্ষা করা ও নজর রাখা – কিন্তু সেই সঙ্গেই আমি মনে করেছিলাম, বাংলাদেশের নতুন শাসকদের সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক স্থাপন করা উচিত। যদিও ভারত সরকারের কারও কারও সেই ভাবনাটা পছন্দ হয়নি। শেখ মুজিবের হত্যাকান্ড বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে নিশ্চয় একটা বড় আঘাত ছিল – কিন্তু বিপর্যয় ছিল না। বস্তুত খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের সম্পর্কের মধ্যে একটা আপাত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল।”

ভারতের প্রাক্তন পররাষ্ট্রসচিব মুচকুন্দ দুবে মুজিব-হত্যার ঠিক চার বছরের মাথায় ভারতীয় হাই কমিশনারের দায়িত্ব নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলেন। কোনও রাখঢাক না-করেই তিনি যেমন বলছেন, “আসলে কী, শেখ মুজিবের কিছু কিছু পদক্ষেপে দিল্লির কপালে যে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল সেটা কিন্তু অস্বীকার করা যাবে না।”

“যেমন ধরুন, তার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বা বাকশাল চালু করার উদ্যোগ। ভারত মনে করেছিল সেটা গণতন্ত্রের রাস্তা থেকে বিচ্যুতি বা অ্যাবারেশন। তাঁর প্রশাসনে যে বেশ কিছু আরবিট্রারিনেস বা স্বেচ্ছাচার শেকড় বিছিয়েছিল, সেটা নিয়েও আমরা চিন্তিত ছিলাম।”

দিল্লিতে ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের কর্ণধার ও স্ট্র্যাটেজিক বিশ্লেষক, মেজর জেনারেল (অব) দীপঙ্কর ব্যানার্জি বলছিলেন, “ভারতের কাছে মুজিবের ইমেজটা ছিল একটা স্বাধীন দেশের ফাউন্ডার-লিবারেটরের। দেশটা জন্মানোর চার বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আর্মির একটা অংশ তাকে নির্মমভাবে নিকেশ করে দিতে পারে – ভারত তাতে সত্যিই প্রচন্ড অবাক হয়েছিল।”

অন্যদিকে ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক অবস্থা তখন বেশ নড়বড়ে। তিনি দেশে জরুরি অবস্থা চালু করেছেন মুজিব হত্যাকান্ডের মাত্র মাস দেড়েক আগে। দেশের ভেতরে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তখন একটা অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। তখন বাংলাদেশের দিকে বা বাইরের দুনিয়ার দিকে তাঁর তেমন নজর দেওয়া সম্ভবও ছিল না।

মিঃ দুবের মতে- অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বাধ্যবাধকতা নিশ্চয় ছিল – কিন্তু শেখ মুজিবের হত্যাকান্ডের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ইন্দিরা গান্ধী ও তাঁর সম্পর্কে যে অস্বস্তির ছায়া পড়তে শুরু করেছিল, সেটাও কিন্তু ঐতিহাসিক সত্যি। কিন্তু এই উদ্বেগ কখনওই এমন পর্যায়ে পৌঁছয়নি যে শেখ মুজিবকে হত্যা করা হলে ভারতে খুশির লহর বয়ে যাবে। বড়জোর একটা অসন্তুষ্টি ছিল বলা যেতে পারে, এবং হয়তো এই ফিলিংসটাও ছিল মুজিবের ওই রকম কোনও পরিণতি অনিবার্য!”

কংগ্রেস নেত্রী মার্গারেট আলভার বর্ণনায়, “হ্যাঁ, ততদিনে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে বেশ কয়েকটা ইস্যু তৈরি হয়ে গিয়েছিল তাতে সন্দেহ নেই। যেমন, ফারাক্কা ব্যারাজ তৈরি করা কিংবা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ থেকে যারা এসেছিলেন, তাদের অনেকের ভারতে থেকে যাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘাত অবশ্যই ছিল। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি দুটো দেশের মধ্যে যে পারস্পরিক আস্থা আর মর্যাদার সম্পর্ক ছিল, সেটাকে কোনও কিছুই ছাপিয়ে যেতে পারেনি।”

মেজর জেনারেল (অব) দীপঙ্কর ব্যানার্জিও মনে করেন, “একাত্তরের পর থেকে বাংলাদেশ খুব কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে পার হয়েছে সবাই জানে। দুর্ভিক্ষ-অনশন-সাইক্লোনের বহু ঝড়ঝাপটা গেছে। যুদ্ধের পর ভারতেরও তেমন সামর্থ্য ছিল না যে তাদের সব চাহিদা পূরণ করতে পারবে।”

“ভারতীয় গণতন্ত্রেও হয়তো বাংলাদেশকে নিয়ে নানা ধরনের মতামত ছিল – সেটাই তো গণতন্ত্রের বেশিষ্ট্য। কিন্তু তাই বলে শেখ সাহেবের জন্য গুডউইল বা শ্রদ্ধায় কিন্তু কখনওই কোনও ভাঁটা পড়েনি। তার অনিষ্ট হোক এটা ভারত কখনও চায়নি, চাইতে পারেই না”, রীতিমতো জোর দিয়ে বলেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।

ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ যাই হোক না কেনো এটা ঐতিহাসিক সত্য যে ভারত শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের পর শক্তিশালী কোন পদক্ষেপ নেয়নি বরং ৫ দিনের মাথায় নতুন সরকারের সাথে কাজ শুরু করেছিল। ভারতের তখনকার বাস্তবতায় ওটাই ছিল স্বাভাবিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ। তবে এটা বলা যায়, ভারতের সহায়তায় বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও শেখ মুজিব তার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতার যথাযথ চর্চা করেছিলেন। পাকিস্তানের সাথে সুসম্পর্ক নির্মাণের উদ্যোগ ও ভূট্টোর সফরও প্রমাণ করে তিনি পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভারতের আজ্ঞাবহ ছিলেন না। এমন বাস্তবতায় ১৫ আগস্টের ঘটনায় ভারতের খুব বেশি সরব হওয়ারও কোন উপায় ছিল না।  

https://www.bbc.com/bengali/news-45188012

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন