শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১; ১১:২১ অপরাহ্ণ


Photo Courtesy: The Guardian

এশিয়ার এই মুহুর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর মালয়েশিয়ার ১৪তম সাধারণ নির্বাচন যেখানে মালয়েশিয়ার প্রবাদপ্রতীম প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ৯২ বছর বয়সে আবারো ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছেন। তিনিই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী নির্বাচিত রাষ্ট্রনায়ক।

মজার ব্যাপার হল, তিনি এবার সাবেক নিজ দলের বিরুদ্ধেই নির্বাচন করেছেন। যে দলকে তিনি এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন এবং দলের হয়ে মালয়েশিয়াকে ২২ বছর(১৯৮১ থেকে ২০০৩) নেতৃত্ব দিয়ে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে গিয়েছিলেন সে দলের বিরুদ্ধেই তিনি দাঁড়িয়েছেন। শুধু তাই নয়, মাহাথিরের নেতৃত্বে মালয়েশিয়ায় বারিসান ন্যাসিওনাল (বিএন) জোটের ৬১ বছরের শাসনেরও অবসান হল। ১৯৫৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের এই প্রথম বিএনের বাইরের কোন দল ক্ষমতার আস্বাদ পেল।

তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বর্ষীয়ান রাষ্ট্রনায়ক, কিন্তু নির্বাচিত হয়েছেন তরুণ ভোটারদের দ্বারা। বলা যায় তরুণদের অনুরোধেই মাহাথির রাজনীতিতে ফিরেছেন। তরুণরা ২০১৫ সাল থেকেই নাজিব রাজ্জাক সরকারের দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যম সংগঠিত হচ্ছিল।

মাহাথির মোহাম্মদ কেন নিজ দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন তা জানা যাবে এই নতুন জোটের ইশতিহার দ্বারা। নাজিব রাজ্জাকের শাসনের অবসানলগ্নে মাহাথির মোহাম্মদের জোট প্রধান কিছু কর্মসূচী দিয়েছেন যেগুলো প্রাইয়োরিটি ভিত্তিতে ১০০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করার সুপারিশ রয়েছে।

  1. প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহীদের একই পদে দুবারের অধিক নির্বাচন বন্ধ করা। 
  2. প্রধানমন্ত্রী অফিসের বাজেট অর্ধেক কমানো।
  3. নির্বাচন কমিশনকে পার্লামেন্টের অধীনে নিয়ে আসা।
  4. গুডস এন্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স সংস্কার।
  5. পার্লামেন্টে বিরোধী দলের এজেন্ডা আলোচনার জন্য সময় নির্দিষ্ট করা।
  6. বিরোধী দলের নেতার সাংবিধানিক মর্যাদা বাড়ানো।
  7. আগামী তিন বছর উন্নয়ন বাজেটের অর্ধেক দরিদ্র ৫ অঞ্চলে ব্যয় করা।
  8. বিদেশীদের বরাদ্দ দেয়া বড় বড় প্রকল্পগুলো সম্পর্কে অনুসন্ধান শুরু করা।
  9. দুর্নীতির তথ্যদাতাদের জন্য আইনী সুরক্ষা বাড়ানো।
  10. তথ্য স্বাধীনতা আইন কার্যকর করা।
  11. আগামী এক দশকের মধ্যে মালয়েশিয়াকে ‘দুর্নীতি কম’ এমন সেরা দশ দেশে অন্তর্ভুক্ত করা।
  12. ৩৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য বিয়ে ভাতা চালু।
  13. ১০ লাখ নতুন হাউজিং।
  14. মহাসড়কে টোল ব্যবস্থা বাতিল করা।
  15. ন্যূনতম মজুরি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা।
  16. স্বল্প ব্যবহারকারিদের জন্য পেট্রোল সাবসিডি।
  17. দরিদ্রদের চিকিৎসা সাবসিডি।

সদ্য বিদায়ী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাক কিন্তু মাহাথির মোহাম্মদেরই শিষ্য। কিন্তু শিষ্য হলেও রাজ্জাক কদাচিৎ মাহাথিরের আদর্শ অনুসরণ করেছেন। ফলশ্রুতিতে মাহাথির তাঁর নেতৃত্বে গড়া মালয়েশিয়ার উদ্ধারকল্পেই এই নির্বাচনে সাবেক নিজ দলের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলা যায়।

এই নির্বাচনের মাধ্যমে স্পষ্ট হল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দল এবং দলের পক্ষে অবস্থান চিরস্থায়ী নয়। জনগণের স্বার্থে যেকোন দলের হয়েই জনগণের পাশে দাঁড়ানো যায়। মাহাথির মোহাম্মদ গণতান্ত্রিক এই মূল্যবোধ নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন