বৃহস্পতিবার, ১৮ মে ২০২২; ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ


ছবিঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপ সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ নাজমুল ইসলাম

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিস বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি কর্তৃক পরিচালিত ১০ দিন ব্যাপী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন সিটি করপোরেশনের ৯৮ টি ওয়ার্ডের ১০০ টি সাইটে কীটতাত্ত্বিক জরিপের ৯ম দিন শেষ হলো আজ। এই জরিপে সর্বমোট ৩০০০ বাড়ি সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

জরিপের নবম দিনে সরেজমিনে জরিপ পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রক শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ নাজমুল ইসলাম।

২১ টি কীটতত্ত্ববিদের সমন্বয়ে গঠিত দল এখন পর্যন্ত ২৫২০টি বাড়ি পরিদর্শন করে। এর মধ্যে ১১৪ টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি মিলেছে। সার্বিকভাবে বাড়িতে লার্ভা শনাক্তের হার ৪.২৫ শতাংশ। এই সার্ভের একটি দল উত্তর ও দক্ষিন সিটি করপোরেশনে এডাল্ট বা প্রাপ্তবয়স্ক মশা ধরার কাজে নিয়োজিত আছে। এই পরিণত মশা হতে ঢাকা কত ধরনের মশা আছে তা জানা যাবে। এছাড়া মশার মধ্যে কোন ধরনের জীবানু আছে কিনা তাও জানা যাবে।

রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা গবেষণা শেষে, মশার ঘনত্ব দিয়ে জিআইএস ম্যাপিং করা হবে। ফলে উত্তর ও দক্ষিণ কোন কোন অঞ্চলে মশার ঘনত্ব বেশি তা ম্যাপের মাধ্যমে জানা যাবে, যা সিটি করপোরেশনের মশক নিধনের কাজে কার্যকরী ভুমিকা পালন করবে।

বিগত শতাব্দীতে জয়বায়ু পরিবর্তনের কারণে গড় তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। এর পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের ধরণেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে মশক বাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে। অর্থাৎ মশক বাহিত রোগ যেমন ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জাতীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সকল স্টেকহোল্ডারদের আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে। স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহনের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

জরিপ কার্যক্রমের ফলাফল সকল স্টেকহোল্ডার, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সকলকে ফলাফল জানানোর জন্য অবহিতকরন সভার আয়োজন করা হবে।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন