, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১; ১০:৩৯ অপরাহ্ণ


প্রজ্ঞাপনের দাবিতে আন্দোলনে শাহবাগে কথা বলছেন রাশেদ খাঁন

বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহান সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার মাস পেরিয়ে গেলেও জারি হচ্ছে না প্রজ্ঞাপন। এ নিয়ে ছাত্রসমাজ আবার উত্তাল হয়ে উঠেছে। ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ আছে দেশের সব প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষার্থীদের একটাই দাবি, প্রজ্ঞাপন বা আইনী আদেশ না নিয়ে তারা পড়ার টেবিলে ফিরবেন না।

এই অবস্থায় বিভিন্ন মহলেই কানাঘোষা চলছে যে প্রধানমন্ত্রীর সংসদে ঘোষণার মত একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আটকে আছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য আমলাদের টেবিলে। একদিকে এটা যেমন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্যদিকে এটা দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ইমেজের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে। এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি আমলাদের দাবির কাছে হার মানবেন নাকি তিনি শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবির প্রেক্ষিতে সংসদের ঘোষণা বাস্তবায়ন করে ইতিহাসের অংশ হবেন।

এই অবস্থার মধ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এবং উপদেষ্টা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নিয়ে বিশ্রি মন্তব্য করেই যাচ্ছে। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এর সর্বশেষ সংযোজন। আন্দোলনকারীদের জামাত-শিবির কিংবা রাজাকার ট্যাগ করার সনাতন পদ্ধতি আর কাজে লাগছে না এটা বুঝতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের পর পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে কারো মন্তব্য শোভন নয়।

ছাত্রসমাজ আজ অনেক ম্যাচিউরড। গত দুই মাস তারা রাজপথে, মিডিয়ায়, আলোচনায় সমানভাবে অংশ নিচ্ছেন। আন্দোলনের নেতারা আজ জাতীয় ব্যক্তিত্ব। জনমানুষের মনোভাব তারা খুব ভালোভাবেই পড়তে পারছেন। এ আন্দোলনে বাংলাদেশের আপামত জনগণের যে সক্রিয় সমর্থন রয়েছে এই জোর আন্দোলনকারীদের মধ্যে আছে। তাছাড়া আন্দোলনকারীরা শুরু থেকেই অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। অনেকেই এখনো হাসপাতালের বিছানায়। অনেকে হলে ফিরে যেতে পারছেন না। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার উপর ভরসা করে বসে থাকা বেমানান ও অন্যায্য।

তারা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবরূপ দেখতে চান। এটা খুবই ন্যায্য দাবি। প্রজ্ঞাপন জারির আলটিমেটাম ছাত্রসমাজের মৌলিক দাবি।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন