, ১ জানুয়ারি ২০২১; ৩:৫২ অপরাহ্ণ


বাংলাদেশকে এখন দুর্ভোগের দেশ বললে অত্যুক্তি হবে না। বিভিন্ন মনুষ্যসৃষ্ট দুর্ভোগে অতিষ্ট নাগরিক জীবন। এই দুর্ভোগের মধ্যে নগরীর জ্যাম, জলাবদ্ধতা, মহাসড়কে জ্যাম, জনপরিবহণ সংকট, ফ্লাইওভার নির্মাণে ত্রুটি, সেতু নির্মাণে বিপর্যয় ইত্যাদি অনেককিছুই অন্তর্ভুক্ত।

এই দুর্ভোগের অন্যতম কারণ সময়ে-অসময়ে সরকার ও সহযোগী দলগুলোর নেতৃত্বে রাজনৈতিক কর্মসূচীর মাধ্যমে নগরকে অচল করে দেওয়া কিংবা প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ গমন ও প্রত্যাবর্তন মহাসমারোহে উদযাপন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সফর ইত্যাদি। তাছাড়া সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর মাধ্যমে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোর রং সাইডে গাড়ি চালানোর মাধ্যমেও বিপর্যস্থ হয়ে পড়ে নাগরিক জীবন।

এই অবস্থায় বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ যখনই কোন যৌক্তিক আন্দোলন নিয়ে রাস্তায় নামে তখনই কিছু মিডিয়া এবং তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা জনদুর্ভোগের নামে ছাত্রসমাজের মুন্ডুপাত করে। সেটা ২০১৫ সালের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনের সময় দেখা গিয়েছে এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ কোটা ব্যবস্থার একটি গঠনমূলক সংস্কারের জন্য যখন রাস্তায় নেমে এসেছে, দিনের পর দিন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীর মাধ্যমে জাতির মধ্যে একটি আশার প্রদীপ তুলে ধরেছে সে সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।

কিন্তু এই ঘোষণার পরও কোন এক বিচিত্র কারণে এর জন্য যথার্থ আইনী পদক্ষেপ, প্রজ্ঞাপন জারি আটকে গিয়েছে। তখন ছাত্রসমাজ আবার রাস্তায় নেমে এসেছে প্রজ্ঞাপন নিয়ে ঘরে ফিরবে বলে।

এই আন্দোলন জনস্বার্থের আন্দোলন, এই আন্দোলন ভুল সংশোধনের আন্দোলন, এই আন্দোলন আগামী দিনের উন্নত জাতি গঠনের ভিত্তি প্রস্তুতের আন্দোলন। অযোগ্য কোটার ভারে নুয়ে পড়া আমলাতন্ত্রের প্রতিনিয়ত অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতার মাধ্যমে দেশকে যে নরকে পরিণত করেছে সে ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর আন্দোলন। এই আন্দোলন সাধারণ নাগরিকের কষ্টের কারণ হচ্ছে সত্য কিন্তু এই কষ্ট আগামী প্রজন্মের অনেক কষ্ট মোচনের কারণ হবে।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন