বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১; ৪:৫৭ অপরাহ্ণ


ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সরকারের সামনে আর দৃশ্যনীয় শত্রু নেই। সরকার প্রথমত শত্রু  বিবেচনা করেছিল জামায়াতে ইসলামী নামক রাজনৈতিক দলকে। সে শত্রু এক যুদ্ধাপরাধী মামলায় আপাতদৃষ্টিতে অনেকখানিই নিশ্চিহ্ন হয়েছে। এর মাঝেই সরকারের সামনে হাজির হয়েছিল হেফাজতে ইসলাম ইস্যু। দমন পীড়ণে ব্যর্থ হয়ে সরকার আপসের রাস্তা বেছে নিয়েছে।

রাষ্ট্রযন্ত্রে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেয়াসহ দলটির শীর্ষগুরুদের রাজকীয় মর্যাদায় অধিষ্টিত করার মাধ্যমে দলটি মোটামুটি সরকারের পকেটে চলে এসেছে বলে দেখা যাচ্ছে। আদতে পকেটে থাকবে কিনা সেটা সময়ই বলে দিবে। কিন্তু সরকারের পরিতুষ্টি আছে যে অন্তত সরকারকে মাঠের রাজনীতিতে ডিস্টার্ব করছে না দলটি। বাকি ছিল বিএনপি যেটা আওয়ামীলীগের রাজনীতির প্রধান প্রতিদন্দ্বী। বছরের পর বছর রাষ্ট্রীয় বাহিনী দ্বারা দমন পীড়ণ ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দলটিকে কর্মীশূন্য করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। শেষতক দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে একটি ছোট মামলায় কারাগারে অন্তরীণ করে কিছু সময়ের জন্য হলেও বেশ আত্মবিশ্বাসী হয়েছে সরকার।

এর মধ্যেই যখন কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ ছাত্রসমাজ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কর্মসূচী দিয়েছে তখন বিভিন্নভাবে আন্দোলনকে টেররাইজ করার চেষ্টা চালিয়েছে সরকার। পরবর্তীতে নির্বিচার পুলিশি হামলার মাধ্যমে সরকার আন্দোলন দমন করতে চেয়ে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বলা যায় দমন-পীড়ণের মাধ্যমে আন্দোলন আরো শক্ত অবস্থান পেয়েছে ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

এই সর্বময় ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনে সরকারের শেষ অস্ত্র ছিল অনুগত মিডিয়াগুলোর মাধ্যমে আন্দোলনের নেতৃত্বকে বিতর্কিত করা। অতীতে একই কায়দায় ন্যায্য আন্দোলনকে দমনের চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারের আস্থাবহ একাত্তর টেলিভিশন নগ্নভাবে শীর্ষ নেতাদের একজনকে শিবির বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে যেটি আন্দোলনের শীর্ষ নেতা নুরুল হক নুরু দ্বারা শক্তিশালীভাবে পরাজিত হয়েছে। তাছাড়া সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা, পাকিস্তানের দোসর ও স্বাধীনতাবিরোধী আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

সরকার ও সমমনাদের অনৈতিক এ বিতর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে নায্য আন্দোলন নস্যাৎ করার অপচেষ্টা সর্বমহলে নিন্দিত হয়েছে। সরকারের প্রতি আহ্বান সাধারণ শিক্ষার্থীদের পালস বোঝার চেষ্টা করুন, তারা কি দাবি নিয়ে এসেছে তার দিকে নজর দিন। তাদের পরিচয় নিয়ে রাজনীতি করবেন না। দল-মত-আদর্শের উর্ধবে এরা সবাই এই দেশের নাগরিক, আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন