বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১; ৫:৩৩ অপরাহ্ণ


যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের দাবি মহান জাতীয় সংসদে মেনে নিয়েছেন সে আন্দোলনের নেতারা এই রাষ্ট্রে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন সেটা মেনে নেওয়া যায় না। এটা সুস্পষ্ট স্ববিরোধিতা।

হাসপাতালের বিছানায় আহত ছাত্রনেতা সোহেল।

গতকাল, ২৩ মে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা এপিএম সোহেলের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় পুরান ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে তাকে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে শিফট করা হয়েছে। এর পূর্বে কুকুরের মতো গুলি করে রাস্তায় হত্যার হুমকি পেয়েছেন আন্দোলনের যুগ্ন আহ্বায়ক নুরুল হক নুর এবং রাশেদ খাঁন। তাছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও হামলার শিকার হয়েছেন আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা।

এই অবস্থায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্ব জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনযাপন করছেন। অকুতোভয় এই ছাত্রনেতাগণ ছাত্রসমাজের একটি কঠিন মুহুর্তে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বহুল সমালোচিত একটি ইস্যু সমাধানের পথ তৈরি করেছেন। এই অবস্থায় যেহেতু এখনো আন্দোলন চলমান তাই ছাত্রসমাজ এই নেতৃত্বের ঝুঁকি সম্পর্কে সমূহ সচেতন এবং যেকোন মুহুর্তে তাদের রক্ষার জন্য বদ্ধপরিকর। কিন্তু এই আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটলে এই উত্তাল ছাত্রসমাজ অনেকটাই ঘরমুখী হয়ে পড়বে। একাধিক ছাত্রলীগ নেতাদের কাছ থেকে নুর এবং রাশেদ আন্দোলন শেষ হওয়ার পর আক্রান্ত হবেন বলে হুমকি পেয়েছেন। তখন এই ছাত্রনেতাদের জীবনের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে কে সে প্রশ্ন এখন সচেতন ছাত্রসমাজে বিরাজ করছে।

এই প্রেক্ষাপটে এর সমাধান নিয়ে আসতে পারে কেবল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। দূর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রে সবকিছুর আশ্রয় এবং জনগণের ভাগ্যবিধাতা(!) হয়ে উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এই প্রেক্ষাপটে যেহেতু তিনি জাতীয় সংসদে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাই ধরে নিতে হবে তিনি ছাত্রসমাজ এবং নেতাদের দাবি যৌক্তিক মনে করেছেন। রাষ্ট্রনেতার কাছে যদি কোন সমাজের দাবি যৌক্তিক মনে হয় এবং তিনি দাবি পূরণের আশ্বাসও দেন তাহলে তাদের নিরাপত্তার ভারও তাঁর উপরেই বর্তায়। অন্তত তিনি তাদের নাগরিক হিসেবে সাংবিধানিক যে অধিকার সেটা নিশ্চিত করার দায়ে পড়ে যান।

এ প্রেক্ষিতে মনে পরে যায় শাহবাগ আন্দোলনে সরকারের ভূমিকার কথা। শাহবাগ আন্দোলনের সময় যদি বিতর্কিত ব্লগারদের রক্ষায় সরকার গানম্যান উপহার দিতে পারে তবে বাহান্নোত্তর সর্ববৃহৎ ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের কেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না?

রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের এখনোই এই দ্বিমুখিতার সমাধান করতে হবে। না হলে ছাত্রসমাজের আগুন দাউ দাউ করে সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়বে।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন