, ২০ জুন ২০২১; ২:৫৬ অপরাহ্ণ


ফটো: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়(কুবি) এক যুগ বা ১২ বছর অতিক্রম করে ১৩তম বছরে পদার্পন করেছে। শতবাধা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়টি এগিয়ে চলছে দৃপ্ত গতিতে। অর্জনের পাল্লায়ও জমা হয়েছে অনেক। কিন্তু কতটুকু এগিয়ে এসেছি আমরা? সময় এসেছে কুবির আমলনামা বিচার বিশ্লেষণের। কি ছিলো প্রত্যাশা? তার কতটুকুই বা পূরণ হয়েছে গত এক যুগ আগে যাত্রা শুরু করা এই নবীন বিশ্ববিদ্যালয়টির।

এই লেখায় সামান্য পরিসরে আমরা কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজবো। কুবি কতটুকু শিক্ষা বান্ধব হয়েছে? শিক্ষা ও গবেষণায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান কতটুকু? কুবির শিক্ষক সমাজ কতটুকু অবদান রেখেছেন? কুবির প্রাক্তন উপাচার্যগণ তাদের সময়ে কতটুকু কুবিকে এগিয়ে নিয়েছেন? কুবির অগ্রগতিতে ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা কেমন ছিলো? কুবিকে ব্রান্ডিং এর ক্ষেত্রে বিভিন্ন মিডিয়ায় কুবি কিভাবে উপস্থাপিত হয়েছে? সবশেষে, কুবিকে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দাঁড় করাতে আমাদের সবার কি কি করণীয় হতে পারে?

(এক)

একটি শিক্ষাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতই এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার কারণে গত একযুগে সেশন জ্যাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায় কয়েকটি বিভাগে। এর ফলে কেবল বিশ্ববিদ্যালয় দিবসটি ব্যতিত সারা বছর শিক্ষার্থীরা চরম হতাশা প্রকাশ করে। তাদের সোস্যাল মিডিয়ায় লেখার মাধ্যমে তাই ফুটে উঠেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদও তাই জানান দেয়। শিক্ষার্থীদের হতাশামুক্ত করতে সেশন জ্যাম কমানোর বিকল্প নেই। প্রতি বছর ২৮ মে তে শিক্ষার্থীরা যেভাবে কুবিকে নিয়ে ভালোবাসা ছড়ায়, তারা যেন সারা বছর সেই মানসিক সন্তোষে থাকে, সেই ব্যবস্থাই করুন। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাইলে শিক্ষার্থীদের স্যাটিসফ্যাকশন লেভেল নিয়ে গবেষণা করতে পারে। প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে আরো বেশি শিক্ষাবান্ধবে করণীয় কি।

(দুই)

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কেবলমাত্র ক্লাসরুমে লেকচার প্রদান করে একটার পর একটা সেমিস্টার শেষ করিয়ে বাজারে শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেয়া নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরকে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করা। যদি তা না হয়, তবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেবলই টিচিং ইউনিভার্সিটি বলা হয়। তাই কুবির উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আরো বেশি অর্থায়ন করা গবেষণালব্ধ জ্ঞানার্জনে। প্রয়োজনে প্রত্যেক শিক্ষকের সাথে কয়েকজন করে শিক্ষার্থীকে ট্যাগ করে দিতে হবে যারা পুরো চার বছর ওই শিক্ষকের সাথে গবেষণায় নিবৃত থাকবে। এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে তাক লাগিয়ে দিতে পারে কুবি। অনেক পরে প্রতিষ্ঠিত হয়েও কুবি হতে পারে সবার রোল মডেল।

(তিন)

কুবির শিক্ষকমন্ডলীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে গত একযুগ ধরেই। শিক্ষকরা বুদ্ধিভিত্তিক রাজনীতি করবেন অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের স্বার্থে। আমাদের শিক্ষদেরকে রোল মডেল হিসেবেই সবার সামনে তুলে ধরতে চাই সারা দেশে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ভেবেছেন দুই চারজন শিক্ষক মাঝে মাঝে দেখা গিয়েছে। তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে সম্মানের জায়গাটি যথেষ্ট নিচে নেমে এসেছে। তবে বর্তমান উপাচার্যের পদার্পণের পর পরিস্থিতি আগের যেকোন সময়ের চেয়ে ভালো। এখন আর পত্রিকা পড়ে বা আমাদের ছোটভাইবোনদের লেখা পড়ে তেমনটা হতাশ হতে হয়না। ভিসি স্যার একটা বড় ধন্যবাদ প্রাপ্য এক্ষেত্রে। আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি কুবির শিক্ষকেরা চাইলেই এই ক্যাম্পাসের শিক্ষারথীদেরকে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ গ্র্যাজুয়েটে রুপান্তর করতে পারবেন। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমন মানের শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, সেটা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালকে মাপা হয় না। বরং কেমন মানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি, তা দিয়েই সেই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে মূল্যায়ন করা হয়। এই বিশ্বমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরির কাজটি শিক্ষকরাই করবেন। আশারাখি কুবি তা করে যাচ্ছে কিছুটা হলেও। আগামীতে আরো বেশি প্রত্যাশা করছি আমরা।

(চার)

বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স কম হলেও, ইতোমধ্যে পাঁচজন উপাচার্য নিয়োগ পেয়েছে এখানে বিভিন্ন কারণে। যেই সম্মান নিয়ে এসেছেন সেই সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছেন এমন উপাচার্য কয়জন ছিলেন আমার জানা নেই। কেউ আন্দোলনের মুখে, আবার কেউ সামান্য বিদায়ী সংবর্ধনা না নিয়েই বিদায় নিয়েছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কিন্তু এসবের পেছনে কারণও আছে ব্যপক। উপাচার্যগণ এসেই বা আসার আগেই তাদের দলভারী করে আসতেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কেবল নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্ডীডেইটদের অন্যায়ভাবে প্রায়োরিটী দিয়েছেন। আমি বলছিনা যে প্রাক্তন ভিসিদের নিজেদের ভার্সিটির কেউই মেধাবীনা। আমার প্রশ্ন হলো ৭০/৮০ ভাগ মেধাবী কি কেবল ওই একটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই এখানে শিক্ষকতার চাকরি নিতে আসেন? এটা কখনোই সম্ভব নয়। শুধু নিজের গদি ঠিক রাখার স্বার্থে বা দলভারী করতেই নিজের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়োগ দিয়েছেন উনারা। সামান্য কারণেও কোন কোন শিক্ষককে শোকজ করা বা বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে কেবলমাত্র গদি ঠিক রা খার স্বার্থেই। কিন্তু আমরা ভুলে যাই যে গদি যখন যাবার তখন এমনিতেই যাবে। আবার কেউ যখন যোগ্য হবেন ও ভালো কাজ করবেন, তিনি চলে যেতে চাইলেও হাজারো মানুষের ভালোবাসায় আটকে থাকবেন। এটা ধ্রুব সত্য। কোন বিভাগে ভালো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া দরকার অথবা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির স্বার্থে কাকে নিয়োগ দেয়া দরকার, সেটা ভেবেছেন বলে খুব একটা মনে পড়েনা। অথবা ভালো শিক্ষক আসার জন্য এবং আগতদের ধরে রাখার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতেও হয়েছিলেন ব্যর্থ। দুই একটা ব্যতিক্রম থাকতে পারে। তবে ভাগ্যক্রমে কিছু যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছিলেন। আশাকরি, আমাদের শিক্ষকেরা নিজেদের যোগ্যতা অর্জনেই বেশি ব্যস্ত থাকবেন। এতে উনাদের যেমন মঙ্গল, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও তেমন মঙ্গল হবে।

(পাঁচ)

ছাত্ররাজনীতির কথা শুনে আবার আমার উপর ক্ষেপে যাবেননা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যা বর্তমান তা মেনেই নিতে হবে। আমাদের সরকার ব্যবস্থা, অতীত ও সাম্প্রতিক আন্দোলন- সকল কিছুর সাথেই ছাত্ররাজনীতি অঙ্গাআঙ্গিভাবেই জড়িত বলা চলে। তাই চলমান ছাত্ররাজনীতি থেকে সরবোচ্চ আউটকাম বের করে আনতে হবে। অনেক অসঙ্গতির বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ করেন ছাত্ররাজনীতির কর্ণধারেরা। যতটুকু অসঙ্গতি থাকে এতে, তা শুধরে দিতে হবে বিভিন্ন দিবসের আলোচনা সভার সময়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালইয়ে ছাত্ররাজনীতি বলতে ছাত্রলীগের রাজনীতিকেই প্রধানত বুঝাতে চাই। এটা দিনের আলোর মতই সত্য। তাই কুবির একযুগ পূর্তিতে ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা জানতে চাওয়া হলে ছাত্রলীগের কাছেই জানতে চাইবো। ছাত্রলীগ ক্যাম্পাস উন্নয়নে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেছে বিগত একযুগে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে। সেটার একটা তর্জমা তারা নিজেরা বসে করবে আশা করি। বর্তমান ছাত্রলীগ ঠিক করে নিবে তারা আরো ভালো কি কি করতে পারে আগামীতে। লক্ষ্য রাখতে হবে সামান্য দুএকজন নেতাকর্মীর জন্য যেন ছাত্রলীগের সোনালী অর্জন ম্লান না হয়ে যায়। ভালোবাসাই হোক সংগঠন বিস্তৃত করার একমাত্র হাতিয়ার। জাতির জনক মানুষকে ভালোবেসেই সংগঠিত করেছিলেন। এনে দিয়েছিলেন আমাদের লালসবুজের পতাকা।

(ছয়)

বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কুবি মিশ্রভাবে উপস্থাপিত হয়েছে গত একযুগে। এক্ষেত্রে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। সত্য সংবাদ উপস্থাপনায় তারা কখনো প্রশংসিত হয়েছেন। আবার কখনো হয়েছেন তীব্রভাবে সমালোচিত। আশারাখি কুবির ব্র্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে আগামিতে। তবে বিগত একযুগে আমাদের ক্যাম্পাসের বেশ কিছু সুখকর নিউজ প্রচারিত হয়েছে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায়। এসব নিউজই হয়তো প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। যেই নেতিবাচক সংবাদ্গুলো প্রচারিত হয়েছিলো, তা আর এখানে উল্লেখ করছিনা। আশারাখি বর্তমান প্রশাসনের সুদক্ষ নেতৃত্বে এখন থেকে প্রায় সব নিউজই ভালো নিউজ হবে।

(সাত)

কুবিতে যেই ক্লাবগুলো রয়েছে সেগুলোর মাঝে কিছু কিছু সচল। বাকিগুলো অচল। সবগুলো ক্লাবকে সচল করতে হবে। মাননীয় উপাচার্য ও বিভিন্ন শিক্ষকমণ্ডলী এখন যেভাবে ক্লাবের প্রোগ্রামে যাচ্ছেন এবং কথা বলছেন, আশারাখি অচল ক্লাবগুলোও এখন সচল হবে উপাচার্যের প্রত্যক্ষ প্রেরণায়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০টা এক্টিভ ক্লাব থাকলেও সমস্যা নেই। প্রয়োজনে প্রত্যেকটি ক্লাবের জন্য এক/দুইজন আন্তরিক শিক্ষক এডভাইজার নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। এতেকরে শিক্ষার্থীরা কাজ করার ক্ষেত্রে নিয়মিত নির্দেশনা পাবে। প্রতিবছর ক্লাবগুলোর মাঝে হতে পারে নানান ধরণের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা। এভাবে সুপ্ত মেধাবীরা বের হয়ে আসবে খোলস ভেঙে। তৈরি হবে শিক্ষার পরিবেশ।

(আট)

প্রায় পাঁচটি ব্যাচ গ্র্যাজুয়েশন শেষ করলেও কেউ পায়নি এখনো সমাবর্তন। অথচ কুবির সমসাময়িক প্রতিষ্ঠা হওয়া কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে সমাবর্তন প্রোগ্রাম করেছে। বর্তমান উপাচার্য ইতোমধ্যে জাঁকজমকপূর্ণ সমাবর্তন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আশাকরি স্যার সঠিক সময়ে এই কাজে হাত দিবেন সবার সহযোগিতায়। একযুগ সমাবর্তন আয়োজন করার জন্য যথেষ্ট সময়।

(নয়)

অবকাঠামোগত উন্নয়নে কুবি অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। বিগত উপাচার্যগণ অবকাঠামোগত তেমন কোন উন্নয়ন করেননি। এখানে নেই কোন কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবন, নেই খেলার মাঠ বা স্টেডিয়াম, নেই জিমনেশিয়াম ইত্যাদিসহ অতীব প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। আশাকরি বর্তমান ভিসি স্যার এই বিষয়গুলোর দিকে নজর দিয়েছেন ইতোমধ্যে। যতটুকু জানি শুধুমাত্র একটা হলে রিডিং রুম আছে শিক্ষার্থীদের জন্য। অন্যান্যরা চাইলে সেই হল প্রভোস্ট থেকে এ ব্যপারে পরামর্শ নিতে পারেন। আমাদের হল প্রভোষ্টরা সক্রিয় হলে সব হলেই উন্নতমানের রিডীং রুমের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে বলে মনে করি। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, শিক্ষারথীদেরকে যতবেশি পড়ার টেবিল আর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত করা যাবে, তারা ততটাই ক্যাম্পাস উপভোগ করবে। প্রশাসনের জন্য ক্যাম্পাসে সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাও সহজ হবে।

(দশ)

সবশেষে একটা পয়েন্ট আমাদের ক্যাম্পাসকে মনে করিয়ে দিতে চাই। অন্তত আমাদের অনুজদের জন্যই বলছি। সোস্যাল মিডিয়ায় বড় ছোট এসব লক্ষ্য রেখেই মন্তব্য করবে তোমরা। কথা বলার সময় অন্যকে সম্মান দিবে। কোন শিক্ষকের পোস্টে/লেখায় কি মন্তব্য করতে হবে তা আগে থেকে ভেবে লিখবা। মনে রেখো, সামগ্রিক স্বার্থে আমরা সত্য প্রকাশ করি সবসময়। কিন্তু সবসময় নগ্ন সত্য প্রকাশ করিনা। প্রথম কয়েকবছর ক্যাম্পাসে বড় ছোট বলে একটা কালচার দেখতাম। সেটা এখন খুব একটা দেখিনা। এটা আমদেরকে আহত করে। ক্যাম্পাসে একটা ভালো কালচার তৈরি করবে আশাকরি। আমরা এখান থেকেই যে কালচার শিখে যাবো, সবজায়গায় আমাদেরকেই সেভাবেই চিনবে।

আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্যকে কুবির স্বপ্নদ্রষ্টা বা আরো অনেক বিশেষায়ণে বিশেষায়িত করতে চাইনা এখনি। শুধু বলবো তিনি সঠিক পথেই হাটছেন। সাম্প্রতিক কার্যক্রম থেকে এইটুকু স্পষ্ট যে, তিনি কুবির সমস্যা ধরতে পেরেছেন। আশাকরি স্যার কুবিকে নিয়ে উনার ভিশন ঠিক করেছেন ইতোমধ্যে। বিভিন্ন প্রোগ্রামে বলা মাননীয় উপাচার্যের কথা থেকেই তা স্পষ্ট আমার কাছে। তিনি সে অনুযায়ী কাজও করে চলেছেন। এখন প্রয়োজন সবার সহযোগিতা। তবেই মাননীয় উপাচার্যের পক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে কাঙ্ক্ষিত লক্ষে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। সেই অর্জনের অংশীদার হবো আমরা সবাই।

আরেকটা ব্যাপার না বললেই নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যদি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চোখে ডায়নামিক উপাচার্য বা ভিশনারি উপাচার্যে পরিণত হন, তবে সেই বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে থাকতে পারেনা কোন দিক দিয়েই। বস্তুত কুবি পিছিয়ে নেই। কেবল আরো এগিয়ে যেতে হবে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে। কুবির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপাচার্য স্যারের উপর আস্থা রেখেছেন। সেই আস্থার উপর ভর করেই স্যার এগিয়ে নিবেন কুবিকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে।

আরেকটা মজার ব্যপার অতীতে খুব একটা কোন ভিসির সাথে ছবি তোলার জন্য তেমন হুমড়ি খেয়ে পড়তে দেখিনি শিক্ষার্থীদের। সবাই এখন স্যার এর সাথে তোলা ছবিটাকে ভালোবাসে। নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করে ফেইসবুকে। গর্ব করে সারাদেশের সবাইকে বলে আমাদের ভিসি স্যার আমাদের স্বপ্নের সারথী হয়ে পাল তুলেছেন অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছোবার। এটা ভালো লেগেছে খুব। আমি কুবিতে পড়ুয়া ভাইবোনদের বলবো যেভাবে স্যারকে একজন নায়কে পরিণত করেছো তোমরা, ঠিক সেভাবেই স্যারের ডাকে সাড়া দিতে হবে। তবেই আমাদের কুবির হিরো মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী স্যার, কুবিকে নিয়ে আমাদের সব স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে পারবেন সহজে। প্রাণকুবির সামগ্রিক উন্নয়নে আমার/আমাদের প্রাক্তনদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। লালমাটির বুকে ২০০৭ সালের ২৮ মে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু করা এই অর্ধশত একর জায়গা নিয়ে আমাদের কলম চলবেই।

শুভ জন্মদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। 
জয়তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন