, ১ জানুয়ারি ২০২১; ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ


ফটো কার্টেসিঃ প্রথম আলো

গতকাল পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি মোর্তজার রাজনীতিতে আসা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে মন্তব্য করেছেন যা নিয়ে তরুণদের মাঝে চলছে বেশ আলোচনা।

পরিকল্পনামন্ত্রী একরকম ভোট চাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েই তিনি বলেছেন, তাঁরা যদি নির্বাচনে আসেন, তাহলে তাঁদের ভোট দেবেন। দলের ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন- ‘সে(মাশরাফি) যে দল থেকেই নির্বাচন করুক, তাকে সহযোগিতা করবেন।’ সাকিব আল হাসান প্রসঙ্গে মন্ত্রী মনে করেন সাকিবেরও বয়স হয়েছে। সে–ও নির্বাচন করতে পারে।

সাকিব ও মাশরাফি নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীর কথাবার্তায় একটা বিষয় স্পষ্ট যে মনোনয়ন পেলে আওয়ামী লীগ থেকেই মনোনয়ন পাবেন তারা। এই প্রেক্ষাপটে জনমনে এই ঘটনা নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই মনে করেন, দেশের শীর্ষ দুই ক্রিকেট তারকা জনগণের মাথার মুকুটের মতো। নিঃস্বার্থভাবে জনগণ এই নায়কদের ভালোবেসে আসছে। এই ভালোবাসায় ছিল না কোন রাজনীতি। নিরেট ক্রিকেট প্রেম থেকেই জনগণ তাদেরকে নায়কের আসনে বসিয়েছে।

যখন দেশে রাজনৈতিক মেরুকরণ চলছে প্রতিনিয়ত সেখানে যে দলের হয়েই নির্বাচন করুক না কেনো তারা জাতীয় নায়ক থেকে কোন একটি দলের নায়ক হয়ে উঠবেন। এটা তাদের জন্য হবে আত্মহত্যার শামিল। তবে তারা যদি নতুন দল গঠন করে তরুণ সমাজকে নিয়ে দেশের জন্য কিছু করতে এগিয়ে আসেন তাহলে সেটা হবে এক ইতিবাচক ব্যাপার যেটা পাকিস্তানে ইমরান খাঁন করছেন।

তাছাড়া এই দুই ক্রিকেটারকে আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি এবং নির্বচনটি ভারত ছাড়া কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়নি। আগামী যে নির্বাচনটি হবে সেখানেও প্রধান বিরোধী শক্তির অংশগ্রহণের মতো পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি। এ অবস্থায় সাকিব-মাশরাফি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিংবা করতে পারে এই রিউমার সমাজে উঠাতে পারলে ক্ষমতাসীনরা একটা সত্য প্রতিষ্ঠিত করতে পারে যে দেশে সবকিছু ঠিকভাবেই চলছে এবং নির্বাচনও বেশ জাঁকজমকের সাথেই হতে চলছে।

সাকিব-মাশরাফির ভক্তগণ বিশ্বাস করেন, তারা এই ফাঁদে পা দেবেন না। জনগণ তাঁদের যে কারণে নায়ক বানিয়েছে সেই জনগণ জাতীয় সংকট মোকাবেলায় ক্ষেত্রে নীরব থেকে এই জনপ্রিয়তা কাজে লাগানোর সংসদ নির্বাচনকে মেনে নেবে না। এটা হবে জনগণের ভালোবাসার প্রতি অবিচার। যদি রাজনীতিই করতে হয় তাহলে নতুন দিনের রাজনীতি শুরু করুন। আপনারা তরুণ, তরুণ সমাজের মধ্যমণি; তরুণ সমাজকে পাশে পাবেন।

তা না করে গতানুগতিক আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির রাজনীতি শুরু করলে কোটি ভক্তকে কেবল হতাশই করবেন না বরং তাদের নিঃশর্ত ভালোবাসার অমর্যাদাও করবেন।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন