, ২০ জুন ২০২১; ১১:১৭ অপরাহ্ণ


ডেস্ক রিপোর্টঃ  কোন কোন ছ‌বি অনেক সময় জীবন্ত হয়ে নিরবে বলে দেয় অনেক কিছুই। উপরের এই ছ‌বিটাও তেম‌নি। বুক পকেটে রাখা কলম, আর মোটা চশমার ফ্রেমের নিচ দিয়ে ভদ্রলোকের করুণ চাহনিই বলে দিচ্ছে পকেটের কলম সত্যি নাকি হাতে ধরা বন্দুক!

ষা‌টোর্ধ এই ব্যক্তির নাম সমর চৌধুরী। ইয়াবা ব্যবসায়ের অজুহাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে জমি নিয়ে বিবাদে জড়িত একজন প্রবাসীর পক্ষ নিয়ে এই বৃদ্ধ সমর চৌধুরীকে ইয়াবা ও অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তার সমর চৌধুরী গত কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রাম জর্জ কোর্টে আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করেন। তাছাড়া এলএলবি ডিগ্রিধারী সমর একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানেও চাকরি করেছেন।

 

পুলিশ বলছে, সমরের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তার গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিছানার নিচে ইয়াবা ও অস্ত্র পাওয়া যায়। ত‌বে পুলিশের এই বক্তব্য ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ দাবি করে সমরের মেয়ে তমালিকা চৌধুরী বলেন, অনেক বছর ধরে তাদের পরিবার চট্টগ্রাম শহরের নন্দনকানন এলাকায় থাকেন। দীর্ঘদিন তার বাবা গ্রামের বাড়িতে যান না। অথচ রোববার তার বাবাকে গ্রেপ্তারের পর গভীর রাতে বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ সারোয়াতলীতে তাদের গ্রামের বাড়ি থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩৬০টি ইয়াবা উদ্ধার দেখানো হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের এই গল্পকাহিনী নতুন নয়। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক, সাংবাদিক এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককেও হেনস্তা করা হয়েছে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে। সমর চৌধুরীর ছবিটা বেশ মায়াবী। গোবেচারা নিরীহ চেহারার এই মানুষটাকে দেখে সন্ত্রাস কিংবা চোরাকারবারী বলে ঠাহর করা কঠিন।

এমনও হতে পারে এই লোকটা অপরাধী। কিন্তু উপযুক্ত প্রমাণাদির বালাই না করে ইয়াবা আর অস্ত্র দেখিয়ে গ্রেপ্তার করার প্রক্রিয়াটা নতুন নয়। ভদ্রলোককে দেখে মনে হয় তার পকেটের কলমটাই মানানসই, অস্ত্রটা বড্ড বেমানান।

এগুলো দেখে প্রশ্ন জাগে, সমর চৌধুরীদের চো‌খেমু‌খ জুড়ে যে অসহায়ত্ব তার নামই কী ত‌বে বাংলা‌দেশ!

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন