, ১ আগস্ট ২০২১; ১১:০৮ অপরাহ্ণ


বলতে দ্বিধা নেই জাতি হিসেবে আমরা এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। আমাদের জাতীয় সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে আমাদের নাজুক শিক্ষাব্যবস্থা যে ব্যবস্থা না পারছে ভালো তাত্ত্বিক, বড় মানুষ তৈরি করতে, না পারছে বড় কর্মী তৈরি করতে।

ইদানিং বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটা সংকট গভীরভাবে অনুধাবন করছি। বলাবাহুল্য এ অনুধাবনের অনেকটাই আমার শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতার ফসল।

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিযোগিতা নির্ভর, সহযোগিতা নির্ভর নয়। একটি সমস্যা সমাধানে দলগত প্রচেষ্টাকে এখানে কদাচিৎ উৎসাহিত করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একেবারে ছোট ক্লাস থেকেই আমরা শিশুদের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দেই। বাল্যকাল থেকেই শিশুদের আমরা তিনটি বড় লক্ষ্যের জন্য প্রস্তুত করে থাকি। প্রথমতঃ পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে ভালো করা, দ্বিতীয়তঃ ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করে যেকোন মূল্যে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোতে  একটা আসন দখল করা ও তৃতীয়তঃ উচ্চ বেতনের একটি চাকুরি নিশ্চিত করা।

এই তিনটা স্টেজেই আমরা প্রচ্ছন্ন প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে থাকি। আমরা প্রত্যাশা তৈরি করে দেই যে এই স্টেজটা পার হলেই তুমি খুব আরাম-আয়েশের জীবনে ঢুকে যেতে পারবে। এই তৈরি করা চিন্তা-বাস্তবতায় ব্যক্তি কেবল অব্যবহিত পরের স্টেজটি নিয়েই ভাবিত থাকে ও অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে কখন এ স্তর শেষ হবে আর সে স্বস্তির জীবনে চলে যেতে পারবে।

এই কারণে দেখা যায় এইচ.এস.সি পর্যন্ত যারা অনেক কষ্ট করেছে সেই তারাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে দুই ক্লাসের মাঝে দুই ঘন্টা অপেক্ষা করাকেই দুর্বিষহ মনে করে। যে ছাত্রটি ক্লাস এইটে রাত জেগে গণিতের সমস্যা সমাধান করেছে সেই ছাত্রটিই বিবিএ’র ম্যাথ কোর্সে দুই চারটা অংক করে কোনরকমে পাশ করে যেতে চায়।

এই পদ্ধতিতে আমরা একজন শিক্ষার্থীকে প্রচন্ড চাপের মধ্যে ফেলে দেই। একটা সময় সে হতাশ হয়ে পড়ে। তারা যেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাষায়- “আমি আর কতো বড় হবো?” করে করেই পড়াশোনার পাট চুকিয়ে ফেলতে চায়।

এ প্রেক্ষাপটে আমি বিশ্বাস করি, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ বিশেষ করে উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাড়ানোর কাজে আনন্দের সাথে এগিয়ে যেতে দেয়া উচিত। পাশাপাশি এমন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে দেওয়া উচিত যাতে তারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে প্রফেশনাল হয়ে অনেক বেশী পরিশ্রম করার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে।

শৈশবকে প্রকৃতির কাছেই ছেড়ে দেওয়া উচিত। শৈশব ও কৈশোরে যে মানুষ সৃষ্টিশীল চিন্তায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পেরেছে তারাই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বেশ ভালো কাজ করতে পারছে।

 

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন