রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১; ৮:৪২ অপরাহ্ণ


রেজওয়ান অাল নাজ্জার। বয়স ২১। একজন ভলিন্টিয়ার প্যারামেডিক। একজন স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি তরুণী। যার মূল কাজ ছিল ৩০ মার্চ থেকে ফিলিস্তিনে শুরু হওয়া বিক্ষোভে অাহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া। একাজে সে ব্যাপক পরিচিতিও পেয়েছিল।

১৯৪৮ সালের ১৫ মে প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনিকে গ্রামছাড়া, ঘরবাড়ি ছাড়া করে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইলের জায়নবাদীরা। ৫০০টি গ্রাম দখল করে ইহুদিরা তাড়িয়ে দেয় ফিলিস্তিনিদের। এর পর থেকে অার ঘরে ফেরা হয়নি।বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা তাই প্রতিবছর ১৫ মে কে মহাবিপর্যয় দিবস বা নাকবা দিবস হিসাবে পালন করে।

এ বছরের ৩০ মার্চ থেকে স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনিরা গ্রেট মার্চ অন রিটার্ন নামে ইহুদিদের হাতে দখল হওয়া নিজ ভুমিতে ফেরার দাবীতে ফিলিস্তিনিরা সীমান্তে তুমুল অান্দোলন শুরু করে।এখন পর্যন্ত দুইমাসে অাহত ১৩০০০, শহীদ হয়েছেন ১১৯ জন। কতটুকু নির্মমতা চলছে কল্পনা করা যায়?

নাজ্জারের মৃত্যুতে উত্তাল ফিলিস্তিন

নিজ ঘরে ফেরার অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত, নিজ দেশ দখল করে নিচ্ছে ইহুদিরা। প্রতিবাদ করলেই চলে সরাসরি গুলি। প্রতিদিনই বাড়ছে অাহত আর নিহতের সংখ্যা। অথচ সারা পৃথিবী নিরব। কেউ কথা বলেনা। কারণ একটাই এরা ফিলিস্তিনি, এরা মুসলমান। অার ওরা ইহুদি, ওরা ইসরাইলি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেয়ারের মিত্র।

রেজওয়াল অাল নাজ্জার অাহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে মাতৃভূমির স্বাধীনতা সংগ্রামে শরীক হয়েছিলেন। এতোটাই নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন তিনি যে তার স্বর্ণের আংটি ও মোবাইল বিক্রয় করে দিয়েছিলেন আহতদের জন্য ব্যান্ডেজ কেনার জন্য। গত পহেলা জুন, গাজা সীমান্তে এক ফিলিস্তিনি অাহত স্বাধীনতাকামীকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেই ইসরাইলী দানব সেনাবাহিনীর গুলিতে শহীদ হন। তার অপরাধ একটাই, ইসরাইলের দখলদারিত্ব থেকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা চেয়েছিলেন তিনি। সাদা গাউন গায়ে ছাপিয়ে অাহত ভাইদের পাশে দাঁড়াতেন তিনি।

চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধ ও শান্তির সময়েও একজন চিকিৎসককে হত্যা করা চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। কিন্তু ইসরাইলের বিচার করবে পৃথিবীতে এমন সাহস কার অাছে। রেজওয়াল অাল নাজ্জারের মৃত্যুতে সারা পৃথিবীর হাতে গোনা কয়েকটা অান্তর্জাতিক মিডিয়া হাউজ ছাড়া কেউ কথা বলছেনা। সবাই নিরব! বধির!

কারণ একটাই-রেজওয়ান অাল নাজ্জার একজন ফিলিস্তিনি, একজন স্বাধীনতাকামী, সে ইসরাইলি অবৈধ দখল দায়িত্বের অবসান চায়, সে তার জাতির মুক্তি চায়। তাই তাকে হত্যা করাই যায়। জায়েজও বটে!

সে মুসলমান না হলে,ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী না হলে, সারা পৃথিবীতে তাকে হয়ত পাশ্চাত্য দুনিয়ার মিডিয়া হাউজগুলো সুপারস্টার বানিয়ে ছাড়ত! তবে তার জানাজায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনির উপস্হিতি এটাই প্রমাণ করে ফিলিস্তিনি তরুনরা অাবারও জেগে উঠছে, উঠবেই।

নিকট অতীতে কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী তরুন বুরহান ওয়ানির মৃত্যুতে স্বাধীনতার দাবীতে সম্প্রতি বছরগুলোতে যে অান্দোলন পুরো কাশ্মীরকে অচল করে দিচ্ছিল, ঠিক তেমনি ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা কামীরাও রেজওয়ান অাল নাজ্জারের লাশ ছোয়ে হয়ত নতুন শপথে শাহাদাতের মিছিলেই জীবনের অর্থ খুঁজে নিবে।

সহকর্মীদের কান্না

একুশ বছরের ফিলিস্তিনি এই তরুনী একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবীতে নিজ মাতৃভূমির স্বাধীনতামীদের জন্য এক নতুন প্রেরণা। নিজ মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও মুক্তি যে জীবনের চাইতেও অনেক বড় কিছু রেজওয়ান অাল নাজ্জার জীবন দিয়ে
পৃথিবীকে এ বার্তাই দিয়ে গেল!

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন