শনিবার, ২ জানুয়ারি ২০২১; ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ



এক নজরে বাজেট ২০১৮-১৯

গত ৭ জুন, বৃহস্পতিবার মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত টানা ১০ম বারের মতো ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ নামে’ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৪ লক্ষ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করেন যা গত অর্থ বছরের ঘোষিত বাজেটের তুলনায় ১৬.০৬% বেশি।  যেখানে জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৭.৮ শতাংশ এবং সম্ভাব্য মূল্যস্ফিতী ৫.৬ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে।  এবারের বাজেটে এডিপির আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা এবং ঘাটতি ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা যা মোট জিডিপির ৪.৯ শতাংশ।  মোট রাজস্ব প্রাপ্তি ও বৈদেশিক অনুদান ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা।

এটি বাংলাদেশের ৪৭তম ও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯তম বাজেট এবং অর্থমন্ত্রীর ১২তম বাজেট।

এবারের বাজেটের কিছু বিশেষ দিক

আগামী ৫ বছরে করদাতার সংখ্যা এক কোটি এবং রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করাসহ পাটুরিয়া ও গোয়ালন্দ অবস্থানে ভবিষ্যতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার বলা হয়েছে এ বাজেটে।  পোশাক খাতে কর্পোরেট কর ৩ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।  বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত সকল কর্মজীবী মানুষের জন্য পেনশন সুবিধা চালুর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের বৈশাখী ভাতা ও বিজয় দিবস ভাতা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাঠাও-উবারের মতো অ্যাপসভিত্তিক জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং সার্ভিসকে করের আওতায় আনা হচ্ছে।  তাছাড়া, বাজেট বক্তৃতায় অনলাইনে কেনাকাটায় (ই-কমার্স/এফ-কমার্স) পাঁচ শতাংশ ভ্যাট (মূসক) রাখার যে প্রস্তাব ছিল তা ছাপার ভুল বলে পরবর্তীতে জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের বাজেট প্রতিক্রিয়া

বাজেট ঘোষণার পর থেকে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল সরব রয়েছে।

প্রস্তাবিত এ বাজেটকে ‘নবীন বাংলাদেশের জন্য প্রবীণ বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।  বাজেটের কর কাঠামো নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্তের ওপর নানাভাবে চাপ বাড়াবে বলে মনে করছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষসংগঠন এফবিসিসিআই মনে করে, বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা নেয়া হবে বলে যে প্রাক্কলন করা হয়েছে এতে ব্যাংক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।  এজন্য বাজেটে ব্যাংক লোন নেয়ার ক্ষেত্রে সুদহার বাড়বে না তা নিশ্চিত করে ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা রোধের জন্য নিবিড় পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

ঢাকার ব্যবসায়ীদের অন্যতম বড় সংগঠন ডিসিসিআই মনে করে, জিডিপিতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে হলে কর্পোরেট সেক্টরের সকল খাতে করের হার নূন্যতম ২.৫ শতাংশ হারে কমানো প্রয়োজন।

তাছাড়া, আগামী বাজেটে অলাভজনক মোবাইল কোম্পানির ক্ষেত্রে মোট আয়ের ওপর ধার্য কর প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।

দাম বাড়বে যেসব পণ্যের 

এনার্জি ড্রিংক, প্রসাধন সামগ্রী (সানস্ক্রিন সানগ্লাস, লিপস্টিক, নেলপলিশ, আফটার শেভিং লোশন প্রভৃতি), তামাক জাত পন্য (সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল প্রভৃতি),  সিরামিক বাথটাব, ফিলামেন ল্যাম্প, পলিথিন, প্লাস্টিক ব্যাগ, ১ হাজার থেকে ১৬০০ স্কয়ার ফিট ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন ফি, পুরনো ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন ফি, আমদানি মোবাইল ফোন, চকোলেট, কফি, গ্রিন টি, আমদানিকৃত বাদাম ও মধু, ইউপিএস, আইপিএস, স্টাবিলাইজার, ছাপাখানার পণ্য, মোবাইল ব্যাটারি চার্জার, হেলিকপ্টার সেবা প্রভৃতি ।

দাম কমবে যেসব পণ্যের 

কৃষি জমির রেজিস্ট্রেশন ফি, রড, সিমেন্ট, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ, হাইব্রিড মোটরগাড়ি, ক্যানসারের ওষুধ, টায়ার-টিউব তৈরির কাঁচামাল, দেশি মোটরসাইকেল, আমদানিকৃত পোল্ট্রি খাদ্য, দেশীয় রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসার, মোবাইল ফোন, ডে-কেয়ার হোম সার্ভিস, শিশু খাদ্য, গুঁড়ো দুধ, দেশীয় পাউরুটি, কেক, হাওয়াই চপ্পল/স্যান্ডেল প্রভৃতি ।

 

 

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন