মঙ্গলবার, ২ আগস্ট ২০২১; ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ


ভারতবর্ষে ছয়শত বছরের মুসলিম শাসন শেষ হয় ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপনের মাধ্যমে। স্বাভাবিকভাবেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ইসলামী সংস্কৃতি ও আচার-আনুষ্ঠানিকতার উপর। সে প্রেক্ষাপটে ভারতবর্ষের মুসলিমরা সঙ্গত কারণেই ব্রিটিশ শাসন ও ব্রিটিশ মিশনারীর মাধ্যমে খ্রিস্টিয়ানিটি প্রচারের আধিপত্য মেনে নিতে পারেনি।

সে সময় ব্রিটিশদের সাম্রাজ্য স্থাপনের ক্ষেত্রে হিন্দু অভিজাত গোষ্ঠী খুঁটি হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। ব্রিটিশরা প্রথমেই ভূমি ব্যবস্থার সংস্কার করে জমিদারি প্রথা সৃষ্টির মাধ্যমে হিন্দুদের ক্ষমতার কাছাকাছি নিয়ে আসে। তাছাড়া পাশ্চাত্য শিক্ষা দ্রুতগতিতে বিস্তার লাভ করে উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের মধ্যে। আধুনিকায়নের নামে পাশ্চাত্যয়নের এ প্রক্রিয়া একদিকে মুসলিমরা নিজেরাই বর্জন করেছিল ঠিক কিন্তু অন্যদিকে তাঁরা অনাহূতও ছিল বটে। ব্রিটিশরাজ প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত মুসলিমদের প্রবেশাধিকার ছিল না। একদিকে হিন্দু সামন্ত-জমিদারদের শাসন আরেকদিকে সাম্রাজ্যের কার্যপ্রণালীতে উচ্চবর্ণের হিন্দুর আধিপত্যের প্রভাবে মুসলিম সমাজ হয়ে পড়ে নিপীড়িত, প্রান্তিক ও মজলুম।

এ নির্যাতিতের পক্ষে দাঁড়ানোর মতো ছিল না কোনো শক্তিশালী কণ্ঠস্বর, না ছিল কোনো সাংস্কৃতিক বিপ্লব। এ সময়ে উত্তর ভারতে সমাজ সংস্কারক স্যার সৈয়দ আহমদ, সৈয়দ আমীর আলী ও বাংলা অঞ্চলে নবাব পরিবারের পুনরুত্থান ঘটে যারা ব্রিটিশদের সাথে সমঝোতা করে চলার জন্য মুসলিম সমাজকে সর্বান্তকরণে উদ্ভুদ্ধ করেন। কিন্তু সংস্কৃতির শক্তিশালী হাতিয়ার কবিতা, গান ও গজলে যাদের সরব উপস্থিতি বাঙালি মুসলমানের অস্তিত্বের বীজ রক্ষায় প্রধান ভূমিকা রেখেছে বলা যায়, তাদের মধ্যে কাজী নজরুল ইসলাম প্রধানতম ব্যক্তিত্ব।

বাঙালি মুসলমানের অস্তিত্বের সাথে কাজী নজরুল ইসলাম যুক্ত হয়ে আছেন। তিনি সর্বত্রই অধঃপতিত মুসলমানদের নবজাগরণ ও আধুনিকতার সাথে সমন্বয় করে সম্মানজনক অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে জীবন কাটিয়েছেন। কখনও এ বিপ্লব বোঝাতে মুসলিম শাসকদের সবুজ পতাকার রং পাল্টে দিয়ে লাল রঙের পতাকায় বিপ্লবের অপরিহার্যতা বুঝিয়েছেন। আর গানে-গজলে কামাল আতাতুর্কের পতাকা, ইরানের রেজা পাহলবির উত্থান ও মিসরের মহাবীর জগলুলের উদাহরণ দিয়ে ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।

কাজী নজরুল ইসলামের সাথে ইসলামের সম্পর্কের বিশ্লেষণ করতে গেলে অনেকেই নজরুলকে মৌলভী বানিয়ে দেন। কিন্তু নজরুলের সামগ্রিক সাহিত্যকর্ম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় নজরুল কখনোই কোন সম্প্রদায়ের পরিচয়ে নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি কিন্তু সম্প্রদায়ের লোকদের মুক্তির স্বপ্ন থেকে কখনো বিস্মৃতও হননি। সেদিক মাথায় রেখে নজরুলের ইসলামী গান, গজল ও মুসলিম নবজাগৃতির কবিতাগুলো বিশ্লেষণ করলেই কবির প্রতি সুবিচার করা হবে। 

কাজী নজরুলের শতাধিক ইসলামি গানের মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় হল ‘ও মোর রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ’ গানটি। আব্বাসউদ্দীন আহমদের জীবনী থেকে জানা যায়, সঙ্গীতশিল্পী আব্বাসউদ্দীনের অনুরোধেই কাজী নজরুল ইসলাম এ গান রচনা করেছিলেন। তবে আব্বাসউদ্দীনের অনুরোধে রচনা করলেও এই গান নজরুলের জীবনব্যাপী সংগ্রামেরই অংশ যেখানে তিনি স্বজাতির বেদনা ও মুক্তির তাড়নায় প্রতিনিয়ত সৃষ্টির আনন্দে মেতে ছিলেন।

কবি তার কালজয়ী এ গানটি রচনা করেন ১৯৩১ সালে। লেখার মাত্র চারদিন পর শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের গলায় গানটি রেকর্ড করা হয়। রেকর্ড করার দুই মাস পর ঈদের ঠিক আগে আগে এই রেকর্ড প্রকাশ করা হয়। আব্বাসউদ্দীনের ‘দিনলিপি ও আমার শিল্পী জীবনের কথা’র এ গান সম্পর্কে আব্বাসউদ্দীন লিখেন,

‘কাজীদার লেখা গান ইতোমধ্যে অনেকগুলো রেকর্ড করে ফেললাম। তার লেখা ‘ বেণুকার বনে কাঁদে বাতাস বিধুর’, ‘অনেক কিছু বলার যদি দুদিন আগে আসতে’, ‘গাঙে জোয়ার এল ফিরে তুমি এলে কই’, ‘বন্ধু আজও মনে পড়ে আম কুড়ানো খেলা’ ইত্যাদি রেকর্ড করলাম। একদিন কাজীদাকে বললাম, ‘কাজীদা, একটা কথা মনে হয়। এই যে পিয়ারু কাওয়াল, কাল্লু কাওয়াল- এরা উর্দু কাওয়ালি গায়, এদের গানও শুনি অসম্ভব বিক্রি হয়। এ ধরনের বাংলায় ইসলামি গান দিলে হয় না?

তারপর আপনি তো জানেন কীভাবে কাফের-কুফর ইত্যাদি বলে বাংলার মুসলমান সমাজের কাছে আপনাকে অপাঙ্ক্তেয় করে রাখার জন্য আদাজল খেয়ে লেগেছে এক দল ধর্মান্ধ! আপনি যদি ইসলামি গান লেখেন, তাহলে মুসলমানের ঘরে ঘরে আবার উঠবে আপনার জয়গান’।

কথাটা তার মনে লাগল। তিনি বললেন, ‘আব্বাস, তুমি ভগবতীবাবুকে বলে তার মত নাও। আমি ঠিক বলতে পারব না’। আমি ভগবতী ভট্টাচার্য অর্থাৎ গ্রামোফোন কোম্পানির রিহার্সেল-ইনচার্জকে বললাম। তিনি তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন, ‘না না না, ওসব গান চলবে না। ও হতে পারে না’। মনের দুঃখ মনেই চেপে গেলাম।

এর প্রায় ছয় মাস পর। একদিন দুপুরে বৃষ্টি হচ্ছিল, আমি অফিস থেকে গ্রামোফোন কোম্পানির রিহার্সেল ঘরে গিয়েছি। দেখি, একটা ঘরে আশ্চর্যময়ী আর ভগবতীবাবু বেশ রসালো গল্প করছেন। আমি নমস্কার দিতেই বললেন, ‘বসুন, বসুন’। আমি তার রসাপ্লুত মুখের দিকে চেয়ে ভাবলাম, এ-ই উত্তম সুযোগ। বললাম, ‘যদি কিছু মনে না করেন, তাহলে বলি। সেই যে বলেছিলাম ইসলামি গান দেওয়ার কথা। আচ্ছা; একটা এক্সপেরিমেন্টই করুন না, যদি বিক্রি না হয় আর নেবেন না, ক্ষতি কী’? তিনি হেসে বললেন, ‘নেহাতই নাছোড়বান্দা আপনি, আচ্ছা আচ্ছা, করা যাবে’।

শুনলাম, পাশের ঘরে কাজীদা আছেন। আমি কাজীদাকে বললাম, ভগবতীবাবু রাজি হয়েছেন। তখন সেখানে ইন্দুবালা কাজীদার কাছে গান শিখছিলেন। কাজীদা বলে উঠলেন, ‘ইন্দু, তুমি বাড়ি যাও, আব্বাসের সঙ্গে কাজ আছে’। ইন্দুবালা চলে গেলেন।

এক ঠোঙা পান আর চা আনতে বললাম দশরথ থেকে। তারপর দরজা বন্ধ করে আধঘণ্টার ভেতরই লিখে ফেললেন, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ’।

তখনই সুর সংযোগ করে শিখিয়ে দিলেন। পরের দিন ঠিক এই সময় আসতে বললেন। পরের দিন লিখলেন, ‘ইসলামের ঐ সওদা লয়ে এল নবীন সওদাগর’। গান দু’খানা লেখার ঠিক চার দিন পরই রেকর্ড করা হল। কাজীদার আর ধৈর্য মানছিল না। তার চোখেমুখে কী আনন্দই যে খেলে যাচ্ছিল! তখনকার দিনে যন্ত্র ব্যবহার হতো শুধু হারমোনিয়াম আর তবলা। গান দু’খানা আমার তখন মুখস্থ হয়নি। তিনি নিজে যা লিখে দিয়েছিলেন, মাইকের পাশ দিয়ে হারমোনিয়ামের ওপর ঠিক আমার চোখ বরাবর হাত দিয়ে কাজীদা নিজেই সেই কাগজখানা ধরলেন, আমি গেয়ে চললাম। এই হল আমার প্রথম ইসলামি রেকর্ড। শুনলাম; দুই মাস পর ঈদুল ফিতররের সময় গান দু’খানা তখন বাজারে বের হবে। ঈদের বাজার করতে একদিন ধর্মতলার দিকে গিয়েছি। বিএন সেন অর্থাৎ সেনোলা রেকর্ড কোম্পানির বিভূতিদার সঙ্গে দেখা। তিনি বললেন, ‘আব্বাস, আমার দোকানে এস’। তিনি এক ফটোগ্রাফার ডেকে নিয়ে এসে বসলেন, ‘এর ফটোটা নিন তো’। আমি তো অবাক! বললাম, ‘ব্যাপার কী’? তিনি বললেন, ‘তোমার একটা ফটো নিচ্ছি, ব্যস, আবার কী’?

ঈদের বন্ধে বাড়ি গেলাম।…কলকাতা ফিরে এসে ট্রামে চড়ে অফিসে যাচ্ছি। ট্রামে একটি যুবক আমার পাশে গুনগুন করে গাইছে, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’। আমি একটু অবাক হলাম। এ গান কী করে শুনল! অফিস ছুটির পর গড়ের মাঠে বেড়াতে গিয়েছি, মাঠে বসে একদল ছেলের মাঝে একটি ছেলে গেয়ে উঠল, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’। আনন্দে-খুশিতে মন ভরে উঠল।… ছুটলাম কাজীদার বাড়ি। শুনলাম, তিনি রিহার্সেল রুমে গেছেন। দেখি, দাবা খেলায় তিনি মত্ত। দাবা খেলতে বসলে দুনিয়া ভুলে যান তিনি। আমার গলার স্বর শুনে একদম লাফিয়ে উঠে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন, ‘আব্বাস, তোমার গান কী যে-’ আর বলতে দিলাম না পা ছুঁয়ে তার কদমবুসি করলাম। ভগবতীবাবুকে বললাম, ‘তাহলে এক্সপেরিমেন্টের ধোপে টিকে গেছি, কেমন’? তিনি বললেন, ‘এবার তাহলে আরও ক’খানা এই ধরনের গান…’ (আব্বাসউদ্দীন, ১৯৬০)

গানের কথা- 

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ।
তোর সোনা-দানা, বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ
দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
আজ পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে
যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমণ, হাত মেলাও হাতে,
তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
যারা জীবন ভরে রাখছে রোজা, নিত্য উপবাসী
সেই গরিব ইয়াতীম মিসকিনে দে যা কিছু মুফিদ
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ।
ঢাল হৃদয়ের তশতরীতে শিরনি তৌহিদের,
তোর দাওয়াত কবুল করবেন হজরত হয় মনে উম্মীদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
তোরে মারল’ ছুঁড়ে জীবন জুড়ে ইট পাথর যারা
সেই পাথর দিয়ে তোলরে গড়ে প্রেমেরই মসজিদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ।

ফিতর শব্দের অর্থ ভাঙা। পুরো রমজান রোজার পর উপবাস ভঙ্গের যে আনন্দের দিন, তা-ই ইদুল ফিতর। আর এ ইদুল ফিতর উদযাপন করতে এ গান তিনি রচনা করেন। এ গানে তিনি বলেছেন মুসলমানদের নিদ ভাঙাতে লেখা। ভাঙতে সম্পদও ব্যক্তি স্বার্থের মোহ। যে ব্যক্তির স্বার্থের কারণে মুসলমানদের এ অবনতি। কারণ এমন ইদগাহে তার নামাজ পড়তে হবে আত্মশুদ্ধির জন্য, যে ইদগাহে গাজী মুসলিম শহীদ হয়েছে।

আবার তাকে ব্যথিত হতে হবে তাদের ব্যথায়, যারা আজীবন উপোস কাটান খাবারের অভাবে। তাই এই আনন্দ শুধু নিজের মাঝে সীমাবদ্ধতায় উপভোগ বা আনন্দ করার জন্য নয়। হৃদয়ের তশতরিতে তৌহিদের শিরনি পরিবেশন করার জন্য পরিপূর্ণরূপে আধ্যাত্মিক হতে হবে তাকে।

নজরুল সারাজীবনের সাহিত্যকর্ম এবং একটিভিজমের মধ্যে একটি সত্যই প্রতিভাসিত করতে চেয়েছিলেন যে মুসলিম সমাজকে আত্মোপলব্ধি করতে হবে। তিনি বিশ্বাস করতেন জ্ঞানার্জন এবং আধুনিকতা গ্রহণ করে দু’য়ের সমন্বয়ের মাধ্যমেই মুসলিম তার মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে পৃথিবীকে পথ দেখাতে পারবে।

নজরুল তার গানের মধ্য দিয়ে বাংলা গানে পারস্যের গজল, তুরস্কের লোকগীতি, আরবি সুর, মিসরি সুর, কাওয়ালি, মুর্শিদি, জাগরনী গান ও কোরাস গান ইত্যাদি প্রবেশ। সর্বোপরি অধঃপতিত ও কৃষিভিত্তিক বাঙালি মুসলমান সমাজের চেতনা উদ্বুদ্ধকারী, সুর ঐশ্বর্যে ভরপুর দু’শ-এর মতো অপূর্ব ইসলামি গান। বাংলায় এত সংখ্যক ইসলামি গান তার আগে আর কারও সৌভাগ্য হয়নি রচনা করার।

গজলের মতো ইসলামী গানেও রসূল, কলেমা, নামাজ, হজ, জাকাত, ঈদ, মহররম সংযুক্তকরণের পাশাপাশি মুসলিম বীর খালিদ, তারিক, মুসা, হজরত আলী, ওমর খাত্তাব থেকে শরু করে সুলতানা রাজিয়া ও তুরস্কের নারীজাগরণের অগ্রদূত খালিদা এদিকে তুলে আনেন। প্রতিষ্ঠিত করেন মুসলমান সমাজের অধঃপতনের চিত্র পূর্ববর্তী ইতিহাস ও ঐতিহ্য হারানোর কারণ। সমাজকে সচেতনতার চাবুকে আঘাত করেই শিক্ষা দিতে চাইলেন। সমাজকে জাগ্রত করার দায়িত্ব ও নিপীড়িতদের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিল তার কবিতা।

বাংলার সাহিত্যে মুসলিম সাহিত্যিকদের অপমান ও প্রান্তিকিকরণের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে তিনি লিখেন- “বেদনার গান গেয়েই আমাদের সাহিত্য-স্রষ্টাদের জন্য নূতন সিংহাসন গড়ে তুলতে হবে। তারা যদি কালিদাস, ইয়েটস, রবীন্দ্রনাথ প্রভৃতি রূপ স্রষ্টাদের পাশে বসতে নাই পায়, পুশকিন, দস্তয়ভস্কি, হুইটম্যান, গর্কি, যোহান বোয়ারের পাশে ধূলির আসনে বসবার অধিকার তারা পাবেই। এ ধূলির আসনই একদিন সোনার সিংহাসনকে লজ্জা দেবে;…।”

শিল্পী আব্বাসউদ্দীন কাজী নজরুল ইসলামের ৫০ টি ইসলামী গানে কন্ঠ দিয়েছেন। এদিক থেকে তিনিও কাজী নজরুলের একজন সহযোদ্ধার মর্যাদার দাবিদার। এই সম্মিলনের ফলেই বাঙালি মুসলমান তার ধর্মকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি দিয়ে আত্তীকৃত করতে পেরেছে। আব্বাসউদ্দীন আহমেদ তার দিনলিপিতে(প্রাগুক্ত) ‘ও মন রমজানের ঐ…’ গানের ব্যাপারে লিখেন –

‘এই গান প্রকাশের মধ্য দিয়ে মুসলমানরা প্রথম জানতে পারল, তাদের সত্যি সংস্কৃতি বলতে কিছু আছে। তারা ভাবল সাহিত্যে শত বছরের খরার পর এবার প্রকৃত কবির আবির্ভাব ঘটল’।

তথ্যসূত্রঃ আমার শিল্পীজীবনের কথা (১৯৬০), আব্বাসউদ্দীন আহমদ 

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন