, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১; ১০:৪৯ অপরাহ্ণ


মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন 

নিজের বিবেককে বিসর্জন দিয়ে শুধুই বড় ভাইদের গোলামি করার জন্য যৌক্তিক আন্দোলনে বাধা দিতে আসবেন না। রাজনীতি করলেই চাকরি পাবেন না। যার হাজার হাজার প্রমাণ আছে। প্রয়োজনে বড় ভাইদের সাথে কথা বলুন যারা চাকরিবাকরির পড়াশোনা করছে, কিন্তু রাজনীতিও করে। আপনার আমার মা-বাবা অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য কোটা সংস্কার দরকার। হাজারও বড় ভাই মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও কোটার কারণে আজ বেকার জীবনযাপন করছে। বিষয়গুলো একটু রাতে ঘুমানোর আগে ভেবে দেখুন। বেকারত্বের কি যন্ত্রণা তা কেবল বেকার হলেই বুঝতে পারবেন।

আমার সামনে ৮ই এপ্রিল রাত ৮টা থেকে ৮.১৫ এর দিকে এক বড় নেতার (নামটা বললাম না) হুকুমে রাজু ভাস্কর্যের সামনে কয়েকজন জুনিয়র একটা গাড়ির গ্লাস ভেঙেছিল। আমারই সামনে হুকুম দেওয়া হয়েছিল, ওই ভাঙ! তারপর তারা চুরমার করে গাড়ির গ্লাস ভাঙা শুরু করলো। তখন পুলিশের টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের কারণে আন্দোলনকারীরা এদিক ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছে। আমার আশপাশে পরিচিত কাউকে খুৃঁজে পাচ্ছিলাম না। তখন রাজু ভাস্কর্যের সামনে দিয়ে আমি টিএসসির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। তারা আমাকে ভাস্কর্যের সামনে ধরে। বলে, বোকাচোদা, গাড়ি ভাঙলি কেন? তাই বলে, তারা ২০-৩০ জন আমাকে লাথিঘুসি মারা শুরু করে।

সেখান থেকে হলের এক এলাকার বড় ভাই (রাজনীতি করে) আমাকে ছাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন আন্দোলনককারীরাও রাজু ভাস্কর্যের দিকে অনেকেই চলে আসছে দেখে, তারা আমাকে ছেড়ে দেয়। আমি তখন এক বড় ভাইয়ের সাথে ভিসি চত্বরে আসি। এরপর গ্রুপে পোস্ট করি যে, “বিসিএল আমাকে এ্যাটাক করেছিল, সবাই ভিসিতে আসুন।

তখন রাত ৮.৫০ থেকে ৯.০০টা বাজে। একেএকে সবাই ভিসি চত্বরে চলে আসে। আমরা তখন মাইকে সেখানে স্লোগান দিতে শুরু করি। আমরা ভিসি স্যারের বাসভবনের সামনে গিয়ে বলতে থাকি, স্যার আপনি বাইরে আসুন। দেখুন, আপনার সন্তানদেরকে কিভাবে পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পাসে এসে নির্যাতন করছে। সেখানে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করি। মাইকে স্যারকে বারবার ডাকি, কিন্তু, স্যার আসেনা। তারপর আমরা আবার রাজু ভাস্কর্যের দিকে চলে আসি। এরপর যা হয়েছিল তা সকলের জানা।

আমার উপর এ্যাটাকের স্ট্যাটাস নিয়ে শুরু হয় কুরাজনীতি। ছোট বড় সব নেতারা screenshot শেয়ার দিতে থাকে যে, এই যে প্রমাণ, রাশেদের নেতৃত্বে ভিসির বাড়িতে আগুন ও ভাংচুর। অথচ মিডিয়ার ভিডিও ফুটেজ উল্টো কথা বলে। আমার স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছিল ৮.৩০ এর দিকে, আর ঢাকা কলেজ থেকে ১১.৪৫ এর দিকে সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। আর ভিসি স্যারের বাসায় হামলা করা হয় ১২ টার পরে। ঢাকা কলেজ থেকে যে সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পাসে অস্ত্র হাতে আসছে, সেটাও আমারা জানতে পেরেছিলাম। এক ছোটভাই, মেসেজ দিয়ে জানিয়েছিল যে, ভাই, সতর্ক হন। আপনাদের মারতে ঢাকা কলেজ থেকে সন্ত্রাসীরা রড, রামদা, পিস্তল হাতে ঢাবির দিকে যাচ্ছে।
এ.এফ. রহমান হলের অনেকেই ছাদ থেকে তাদের আসার ভিডিও ধারণ করেছিল। অনেক মিডিয়ার কাছেও ভিডিও ও তথ্যপ্রমাণ আছে। একটি টেলিভিশনের ভিডিও ফুটেজ থেকে দেখা যায়, ভিসি স্যারের বাসভবনের গেটের দিকে “ঢাকা কলেজ” লেখা টি শার্ট ও হেলমেট পরিহিত একজন এগিয়ে যাচ্ছে। কয়েকজন গেট টপকিয়ে ভিতরে প্রবেশ করছে।

এছাড়া ৭১টিভির ভিডিও ফুটেজ দেখেও কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তারাও আবার ক্যাম্পাস রাজনীতির সাথে জড়িত। সেই ভিডিও ফুটেজ একাত্তর টিভি আর রাখেনি। সেটা তারা তাদের পেজ থেকে সরিয়ে নিয়েছে। অনেক নেতারাও বেশ খুশির সাথে সেই হামলাকারীদের screenshot শেয়ার দিয়েছিল। তারপর তো ইতিহাস। নেতারাও সেই পোস্টটি ডিলিট দেওয়া শুরু করে দেয় ।

সেদিন আশিকুরের বুকে কে গুলি চালিয়েছিল! কে সেদিন পিস্তল নিয়ে শোডাউন দিয়েছিল, ফাঁকা গুলি চালিয়েছিল তা নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যেও বেশ কানাঘুষা চলে। আবার হল থেকে সেদিন যেসব জুনিয়রদেরকে আনা হয়েছিল, তারাও বেশ ভয়ে ছিল যে, তাদেরকে আবার ফাঁসিয়ে দেওয়া হয় কি না!

মেহেদী এমপি। না, সে কোন এমপি না। সে রাস্তার ছেলে। সে নিজেই বলেছে, আমরা সব সময় রাস্তায় থাকি। ৮ই এপ্রিল রাতে, ভিসি স্যারের বাসভবন ভাংচুরের আগে সে তার লোকজন নিয়ে ক্যাম্পাসে শোডাউন দিয়েছে। যে কথা সে নিজ মুখে স্বীকার করেছে। এছাড়া শাহবাগে দেখা যায়, সে সাধারণ ছাত্রদের ধরে পিটাচ্ছে। যার ভিডিও ফুটেজ সারা দুনিয়ার লোকেরা দেখেছে। মেহেদী কেন সেদিন তার দলবল নিয়ে শোডাইন দিল, আর সাধারণ ছাত্রদের ধরে মারলো?

ভিসি স্যারের বাসা যেই ভাংচুর করুক না কেন, কারোরই কিছুই হবেনা। অনেকেরই অনেক কিছু হতো, যদি কোন প্রমাণ পেত যে, এটার সাথে কতিপয় সাধারণ ছাত্র জড়িত। যেহেতু সাধারণ ছাত্ররা জড়িত নয়, ভাংচুরের সাথে অসাধারণ লোকজন জড়িত, তাই কারও কিছু হবেনা। তদন্ত হয়েছে, আর তা ফাইল আকারেই জমা থাকবে সারাজীবন।

১০

তারা ভিসি স্যারের বাসভবনে হামলা করেছিল, এই যৌক্তিক দাবিকে বানচাল করতে। সম্ভব হয়নি! নেতৃত্বদানকারীদের ট্যাগ দেওয়া হয়েছিল, জামাত-শিবিরের আন্দোলন হিসেবে দেখানোর জন্য। সম্ভব হয়নি। ১২৫ কোটি টাকা নেওয়ার বিষয়ে গুঁজব ছড়ানোর অপচেষ্টা। সম্ভব হয়নি। ৬৩ জনের নামে মামলা দিয়ে জেলে ঢুকানোর অপচেষ্টা। সম্ভব হয়নি। ৩ জনকে গুম করার অপচেষ্টা। সম্ভব হয়নি। মহসীন হলের ১১৯ নম্বর রুমে ঢুকে দুজনকে হত্যা চেষ্টাও সম্ভব হয়নি। এতো অপচেষ্টার ব্যর্থতার পরে, এখন চলছে মুফতি হান্নানের ভাগনে-ভাগনি বানানোর চেষ্টা।
একবার না পরিলে দেখ শতবার। হ্যা, ষড়যন্ত্রকারীরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে! কিন্তু, কোন চেষ্টাতেই কাজ হবেনা। সকল চেষ্টা ব্যর্থতায় পরিণত হবে, আর মেধাবীদের জয় হবে সুনিশ্চিত, ইনশাআল্লাহ্‌।

এই বাংলার জাগ্রত ছাত্রসমাজ ৫ দফা দাবি আদায় করেই রাজপথ ছাড়বে – এই বিষয়ে ছাত্রসমাজ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন