শনিবার, ২ জানুয়ারি ২০২১; ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ


বিশ্বকাপে যাদুকরী ফুটবলের সুবাদে ক্রোয়েশিয়া বাংলাদেশে একটি পরিচিত নাম। কিন্তু কুটনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুপস্থিতির কারণে দেশটি সম্পর্কে আমাদের জানাশোনা খুবই কম। এই লেখাটি পাঠকের কাছে ক্রোয়েশিয়াকে সীমিত আকারে হলেও পরিচিত করে তুলবে।

ক্রোয়েশিয়া ইউরোপ মহাদেশের একটি রাষ্ট্র যার সরকারি নাম প্রজাতন্ত্রী ক্রোয়েশিয়া। এটির রাজধানী জাগ্রেব। ক্রোয়েশিয়ার রাজনীতি একটি সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কাঠামোতে পরিচালিত হয়। প্রধানমন্ত্রী একটি বহুদলীয় ব্যবস্থাতে সরকার প্রধান। নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের হাতে এবং আইন প্রণয়ন ক্ষমতা ক্রোয়েশীয় সংসদ বা সাবর (Sabor)-এর হাতে ন্যস্ত। বিচার ভাগ নির্বাহী ও আইন প্রণয়ন বিভাগ হতে স্বাধীন। ক্রোয়েশিয়ার বর্তমান সংবিধান ১৯৯০ সালের ২২শে ডিসেম্বর গৃহীত হয়।

ক্রোয়েশিয়ার ভূভাগের আয়তন ৫৬,৫৯৪ বর্গকিমি। জনসংখ্যা ৪২ লক্ষ। জনসংখ্যার ৯১ দশমিক শূণ্য ৬ শতাংশ রোমান ক্যাথলিক, ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ ধর্মহীন এবং ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ মুসলিম। ক্রোয়েশিয়ার জনগণের গড় মাথাপিছু আয় ১৪,৭৮৮ মার্কিন ডলার। মানব উন্নয়ন সূচকে ক্রোয়েশিয়ার অবস্থান বিশ্বে ৪৫তম।

ক্রোয়েটরা ক্রোয়েশিয়ার বর্তমান ভূখন্ডে ষষ্ঠ শতক থেকে বসবাস শুরু করে। তুমিস্লাভ ৯২৫ সালে ক্রোয়েশিয়ার প্রথম রাজা হন যেটি প্রায় ২০০ বছর সার্বভৌমত্ব নিয়ে টিকে ছিল। ১১০২ সালে ক্রোয়েশিয়া হাঙ্গেরির সাথে ইউনিয়ন গঠন করে অটোম্যান সাম্রাজ্যের আক্রমণ প্রতিহত করে। ১৯ শতকের প্রথম দিকে ক্রোয়েশিয়ার একটি অংশ ফ্রান্সের ইলিরিয়ান প্রদেশে ঢুকে যায় যখন অস্ট্রিয়া এবং হাঙ্গেরি বসনিয়া এবং হার্জেগোভিনাকে দখল করে নেয়। এই দ্বন্দের অবশ্য মীমাংসা হয়েছিল ১৮৭৮ সালের ট্রিটি অব বার্লিন বা বার্লিন চুক্তির মাধ্যমে। ১৯১৮ সালে প্রথম মহাযুদ্ধের সমাপ্তিলগ্নে ক্রোয়েশিয়াকে ইউগোস্লাভিয়া রাজ্যের সাথে যুক্ত করে দেওয়া হয়।  দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে অক্ষশক্তির আগ্রাসনের মাধ্যমে ক্রোয়েশিয়া ন্যাজিদের প্রভাবের মধ্যে পতিত হয় ও দেশব্যাপী প্রতিরোধ আন্দোলনের মুখে ফেডারেল স্টেট অব ক্রোয়েশিয়া গঠিত হয় যেটি যুদ্ধ শেষে সমাজতান্ত্রিক ফেডারেল রিপাবলিক অব ইউগোস্লাভিয়া হিসেবে পরিচিত হয়।

সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্তির প্রাক্কালে ক্রোয়েশিয়া ১৯৯১ সালের ২৫শে জুন প্রাক্তন ইউগোস্লাভিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ঘোষণার পর চার বছরব্যাপী স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ হয় স্বাধীন ক্রোয়েশিয়া প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

ক্রোয়েশিয়ার অর্থনীতি বাংলাদেশের মতোই সেবা খাত নির্ভর। তবে ক্রোয়েশিয়ার অর্থনৈতিক আয়ের একটি বড় খাত পর্যটন। ক্রোয়েশিয়া বিশ্বের শীর্ষ ২০ পর্যটক গন্তব্যের একটি।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন