, ১ আগস্ট ২০২১; ১০:৫৬ অপরাহ্ণ


ডেস্ক রিপোর্টঃ সেনেগাল নামটি শুনলে প্রথমেই মনে আসে বিখ্যাত সুরকার ও গীতিকার একনের কথা। যার সুরের মাধুরী সারা বিশ্বের কাছে সুপরিচিত। এরপর দেশটির রেসলিং এবং ফুটবল খেলার চিত্র ফুটে ওঠে। তবে এই জানার বাইরেও রয়েছে সেনেগালের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাস।

আফ্রিকার পশ্চিম প্রান্তের একটি দেশ সেনেগাল প্রজাতন্ত্র। দেশটির রাজধানীর নাম ডাকার। এর পশ্চিমে রয়েছে আটলান্টিক মহাসাগর, উত্তরে মৌরিতানিয়া, পূর্বে মালি এবং দক্ষিণে গিনি ও গিনি-বিসাও। এছাড়াও গাম্বিয়া রাষ্ট্রের উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ সীমানা সেনেগাল দ্বারা বেষ্টিত।

সেনেগালের আয়তন এক লক্ষ ছিয়ানব্বই হাজার সাতশ বাইশ বর্গ কিলোমিটার। আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের মধ্যে ৮৬তম দেশ এটি। তবে শাষণ ব্যবস্থার সুবিধার্থে বর্তমানে দেশটি ১৪টি অঞ্চলে বিভক্ত। সেনেগালের অফিশিয়াল ভাষা ফ্রেন্স হলেও স্থানীয় অনেক গুলো ভাষা রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ভাষা হচ্ছে ওলফ। সেনেগালের মুদ্রার নাম কমুটেট ফাইনেনসিয়ার আফ্রিকানি ফ্রান্সি, সংক্ষেপে যা জফ হিসেবে প্রচলিত।

২০১৮ সালের তথ্যানুযায়ী, সেনেগালের জনসংখ্যা এক কোটি সাতান্ন লাখের কিছু বেশি। এদের শতকরা ৯৪ ভাগ মুসলমান, ৫ ভাগ খ্রিষ্টান এবং অবশিষ্ট এক ভাগ অন্যান্য ধর্মের। দেশটির অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং জনসংখ্যার অধিকাংশ ওলফ নামের জনগোষ্ঠীর অর্ন্তভূক্ত।

এক মতবাদ অনুযায়ী জানা যায়, ১৫ কিংবা ১৬ শতকের দিকে পর্তুগিজরা সেনেগালে আসে। স্বাভাবিক ভাবেই তখন দেশটির নাম তাঁদের জানা ছিল না। তখন স্থানীয় মৎস্যজীবীদের কাছে নাম জানতে চাইলে তাঁরা বলে ‘সুনু গাল’। কিন্তু পর্তুগিজরা ওই শব্দের কোনও অর্থ বুঝতে না পেরে নাম দিয়ে ফেলে ‘সেনেগাল’। তবে সাধারণ মানুষের মতে সেনেগাল নদীর ওপর ভিত্তি করে দেশটির নাম রাখা হয়েছে ‘সেনেগাল’। এই সেনেগাল নদী দেশটির পূর্ব ও উত্তর সীমান্ত নির্দেশ করে।

পর্তুগিজরা আসার আগে সেনেগাল বেশ কয়েকটি সম্রাজ্য ও রাজ্যের অধীনে ছিল। ১৯৬০ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে দেশটি পূর্ণ স্বাধীনতা পায়। তখন স্বাধীন দেশের প্রধান রাষ্ট্রপতি হন লিওপোল্ড ফেডার সিংহল, যিনি একজন কবি এবং দার্শনিক ছিলেন। তিনি নিজেই সেনেগালের জাতীয় সঙ্গীত রচনা করেন।

সামুদ্রিক মাছ বিক্রি করা এখানকার মানুষের অন্যতম প্রধান পেশা। এরা নানা ধরনের সামুদ্রিক মাছ ধরে স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি রপ্তানি করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। তাছাড়া দেশটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আম উৎপাদন হয়। চাষ হয় প্রচুর ক্যাসোনাট। কৃষির জন্য প্রচুর জমি পড়ে থাকলেও কৃষিকাজের জন্য তেমন আগ্রহ নেই তাঁদের। বিভিন্ন দিক দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সেনেগালের রয়েছে যথেষ্ট মিল। এর মধ্যে ধর্ম, খাদ্যাভাসে মিল হল অন্যতম। তাছাড়া সেনেগালের আবহাওয়া অনেকটা সহনীয়।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য নিয়ে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে রয়েছে সেনেগাল। তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সেনেগাল নদীর ব-দ্বীপ, ছোট বড় কিছু উদ্যান, দেশটির রাজধানী ডাকার এবং সেন্ট লুইসের মত কিছু ঔপনেবিশিক স্থান। এছাড়া দেশটির একটি লেকের নাম রেতবা। আমরা নীল পানির জলাশয়ের কথা শুনেছি, হয়তো দেখেছিও। কিন্তু গোলাপি পানির জলাশয়ের কথা শুনেছি কি? এই রেতবা লেকে বছরের প্রায় অর্ধেক সময় পানির রঙ গোলাপি থাকে। তাছাড়া লেকটির এক পাশে পাহাড়, আরেক পাশে আটলান্টিক মহাসাগর। মাঝখানে সরু একটি করিডোর। মাথার উপরে নীল আকাশ, নিচে গোলাপি হ্রদ- সব মিলিয়ে এক অসাধারণ সৌন্দর্যমণ্ডিত দৃশ্য। এ দৃশ্য টেনে আনে দেশ বিদেশের পর্যটক।

এখানকার প্রায় সব মানুষই আচার আচরণে অনেক শান্ত শিষ্ট। সবাই সবার সঙ্গে অনেক ভালো ব্যবহার করে থাকে। তবে এখানে এখনও অনেক মানুষ কবিরাজী চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল। এটা তাদের ট্রাডিশনাল ব্যবস্থা। এর পেছনে কারণও আছে আর তা হল সেনেগালে চিকিৎসা খরচ অনেক বেশি। সেনেগালের সরকারী পর্যায় থেকে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। গ্রাম থেকে শহর প্রত্যেক বাড়িতে সরকারী ভাবে পানি বিতরণের ব্যবস্থা আছে। তবে অর্থের বিনিময়ে পানি কিনে নিতে হয়।

সেনেগালের শহরগুলো অনেক সুন্দর। শহরগুলো বিভিন্ন অংশে বিভক্ত। যেহেতু আধুনিক অট্টালিকা এখনও সেনেগাল সেভাবে গড়ে উঠেনি। তাই রাতের সেনেগাল অপরুপ জোসনার খেলায় মেতে ওঠে। সেনেগালের রাস্তাঘাট পরিষ্কার এবং প্রসারিত। তাছাড়া সেনেগালে দুই শ্রেনীর মানুষ দেখা যায়। উচ্চবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত। তাঁদের জীবনে যা আয় তাই ব্যয়, এভাবেই জীবন কেটে যায়। তাঁদের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবৃত্তি দেখা যায় না।

রেসলিং এবং ফুটবল খেলার জন্য সারা বিশ্বে সেনেগাল যথেষ্ট পরিচিত। তাছাড়া বাষ্কেট বল খেলায় আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে সফলতম দেশ হিসেবে বিবেচিত। আটলান্টিক মহাসাগরের পাশ্ববর্তী দেশ হওয়ায় এখানে পাওয়া যায় স্বুস্বাদু সব মাছ। এছাড়াও দেশটির অতিথী আপ্যায়নের জন্য রয়েছে বিশেষ সুনাম।

সম্পর্কিত লেখা


আরও পড়ুন