পূর্ব বর্ধমানের গলসির দাদপুর গ্রামের মেয়ে অন্তরা কারক এখন গোটা এলাকার গর্ব। আর্থিক অনটন ও পারিবারিক প্রতিকূলতা তাঁর চলার পথ সহজ হতে দেয়নি। তবে কোনও বাধাই অন্তরাকে লক্ষ্য থেকে সরাতে পারেনি। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং অদম্য মানসিক শক্তির জোরে তিনি নিজের স্বপ্নপূরণ করেছেন। বর্তমানে অন্তরা কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর অন্তর্গত সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (CISF) জওয়ান। তাঁর এই সাফল্যে গর্বিত পরিবার থেকে শুরু করে দাদপুর গ্রাম তথা গোটা পূর্ব বর্ধমান। এলাকার তরুণ-তরুণীদের কাছেও তিনি হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
অন্তরার এই সাফল্যকে সম্মান জানাতে রবিবার দাদপুর গ্রামে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন গোহগ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কানন মাঝি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গলসি থানার সাব-ইন্সপেক্টর জয়দেব দে, প্রাক্তন শিক্ষক বংশীবদন কারক, মিঠাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রদীপ কারক-সহ গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ও বহু বাসিন্দা।
অনুষ্ঠানে অন্তরার হাতে জাতীয় পতাকা, উত্তরীয়, ভারতমাতার প্রতিকৃতি এবং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা তুলে দিয়ে তাঁকে সম্মানিত করা হয়। উপস্থিত সকলে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন। শিক্ষক প্রদীপ কারক জানান, ছোটবেলা থেকেই অন্তরা অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই তরুণী সীমিত সামর্থ্যকে কখনও নিজের স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে দেননি। লক্ষ্য স্থির রেখে নিরলস পরিশ্রম করার ফলেই আজ তিনি দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
দাদপুরের এই কৃতী সন্তানকে সম্মান জানাতে উপপ্রধান কানন মাঝি যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তার প্রশংসা করেছেন অন্তরার পরিবার ও গ্রামবাসীরা। তাঁদের বিশ্বাস, অন্তরার লড়াই ও সাফল্যের গল্প আগামী প্রজন্মকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখাবে। পাশাপাশি সেই স্বপ্নপূরণের জন্য কঠোর পরিশ্রম ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহসও জোগাবে।






