আরজি কর মামলার নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশের অভিযোগে অভিনেত্রী ও সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে FIR দায়ের। জানুন বিস্তারিত।অভিনেত্রী ও সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে নতুন বিতর্ক সামনে এসেছে। আরজি কর হাসপাতাল-কাণ্ডের নির্যাতিতার পরিচয় সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে চারু মার্কেট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
কী অভিযোগ উঠেছে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে?
অভিযোগকারী আইনজীবী শায়ন সচিন বসুর দাবি, ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার নির্যাতিতার নাম উল্লেখ করেছিলেন।
ভারতের আইনে যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে কী বলা হয়েছে?
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে—
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে নির্যাতিতার নাম বলা হয়েছে। এতে ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
আরজি কর কাণ্ডে কেন এত সংবেদনশীল এই বিষয়?
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালে সারা দেশজুড়ে প্রতিবাদ হয়। চিকিৎসক সংগঠন, সাধারণ মানুষ, ছাত্রছাত্রী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বিচার দাবিতে সরব হয়েছিলেন।
সেই সময় বহু তারকা ও জননেতাও সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই প্রেক্ষাপটেই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছিলেন।
আইনে কী বলা আছে?
নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ কি অপরাধ?
ভারতীয় আইন অনুযায়ী, ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।
প্রাসঙ্গিক বিধানগুলির মধ্যে রয়েছে—
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর সংশ্লিষ্ট ধারা
পূর্ববর্তী ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) 228A ধারা
সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নির্দেশিকা
এই আইনগুলির উদ্দেশ্য হলো ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা করা।
রচনার পক্ষ থেকে কি কোনও প্রতিক্রিয়া এসেছে?
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ প্রসঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।








