পুজো মণ্ডপের মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। পুলিশ কমিশনারের বরখাস্তের দাবিতে বিরোধীরা সরব হওয়ার মধ্যেই তৃণমূলকে পাল্টা নিশানা করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। শনিবার মেমারির পালসিটে আরএসএসের এক কর্মীর বাড়িতে তাঁর বাবার মৃত্যুতে সমবেদনা জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সুকান্ত। দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে আশ্রয় নেওয়ার তাড়াহুড়ো এবং উল্টো দিক দিয়ে প্রবেশের চেষ্টায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে, যার জেরে প্রাণ হারান নিরীহ মানুষ।
এই শোকের মুহূর্তে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের মতো নেতাদের মৃতদের নিয়ে রাজনীতি না করার পরামর্শ দেন সুকান্ত। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা বন্ধ হোক। তবে প্রশাসনিক দায়ের প্রশ্নে কোনও রকম রাখঢাক করেননি তিনি। সুকান্ত জানান, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে বা কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীও দোষীদের কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে জানিয়েছেন। অর্থাৎ, একদিকে মৃতদের নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বন্ধের আবেদন, অন্যদিকে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী।
এ দিন কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরদের একাংশের বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জল্পনা নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন সুকান্ত। সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তাঁর দাবি, অনেকে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাঁদের দলে নেওয়ার বিষয়ে বিজেপির বিশেষ আগ্রহ নেই। নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির উপর ভরসা রেখেই বিজেপি লড়াই করতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি। পুজো মণ্ডপের দুর্ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই সুকান্তের এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। দুর্ঘটনার দায় কার, তা নিয়ে বিতর্কের আবহে বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘাত আরও জোরালো হচ্ছে। তবে তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী উঠে আসে, এখন নজর সেদিকেই।





