“কাজ না করলে পদ ছাড়ুন” কাউন্সিলরদের কড়া বার্তা মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের
নাগরিক পরিষেবার মানোন্নয়ন নিয়ে অসন্তোষের আবহে বর্ধমান শহরে দলের জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তথা বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, মানুষের সমস্যা সমাধানে কাউন্সিলররা যদি সক্রিয় ভূমিকা না নেন, তবে পদে থাকার কোনও যৌক্তিকতা নেই। একই সঙ্গে শহরে চলতে থাকা অমৃত জল প্রকল্পের কাজে সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা নিয়েও তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
শনিবার বর্ধমানে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘নাগরিকদের সমস্যা মেটানোই জনপ্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব। কাউন্সিলররা যদি সেই কাজ না করেন, তবে পদ ছেড়ে দেওয়াই উচিত।’’ তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে শহরের রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে।
শহরের একাধিক ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তা সংস্কার, পানীয় জল সরবরাহ, নিকাশি ব্যবস্থা, বর্জ্য অপসারণ এবং পথবাতি সংক্রান্ত নানা সমস্যা নিয়ে বাসিন্দাদের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে কাউন্সিলরদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগও নিয়মিত নয়। বিরোধী দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধেও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি জানান, নাগরিক পরিষেবা সচল রাখতে প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে জনপ্রতিনিধিদেরও সমানভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মানুষের স্বার্থে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
অন্যদিকে, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে চলা অমৃত জল প্রকল্প নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের কাজ চলাকালীন শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা খোঁড়া হলেও বহু জায়গায় সেই রাস্তা এখনও সম্পূর্ণ সংস্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ। কোথাও কোথাও পাইপ দীর্ঘদিন ধরে খোলা অবস্থায় পড়ে থাকার কথাও জানিয়েছেন বাসিন্দারা। পাশাপাশি, প্রকল্পের কাজে আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনার অভিযোগও সামনে এসেছে।
এ প্রসঙ্গে মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতিমধ্যেই তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। কোথাও আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, ‘‘জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত কোনও অভিযোগই উপেক্ষা করা হবে না।’’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নাগরিক পরিষেবার ঘাটতি এবং অমৃত প্রকল্প ঘিরে ওঠা অভিযোগ এই দুই বিষয় আগামী দিনে বর্ধমান শহরের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।








